সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
দীর্ঘ ১০ মাস পর সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু | উচ্ছ্বসিত পর্যটন খাত
প্রায় দশ মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলো দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে কক্সবাজার থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ৮০০ যাত্রী নিয়ে সমুদ্রের উদ্দেশে রওনা দেয় এমভি বার আউলিয়া নামের একটি জাহাজ।
কক্সবাজারের নুনিয়াছটা বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট থেকে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাঁকখালী নদীর মোহনা পেরিয়ে বঙ্গোপসাগরের দিকে যাত্রা করে জাহাজটি। প্রায় ১২০ কিলোমিটার সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে এটি সেন্টমার্টিন দ্বীপে পৌঁছানোর কথা ছিল। বেলা আড়াইটার দিকে পর্যটকদের নিয়ে জাহাজটির কক্সবাজারে ফিরে আসার কথা থাকলেও, যারা দ্বীপে রাতযাপন করতে ইচ্ছুক, তারা সেখানকার হোটেল-রিসোর্টে থাকতে পারবেন।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম জানান, পর্যটকদের সুবিধার জন্য একমুখী জাহাজের ভাড়া ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ভাড়ার টিকিটগুলোতে কেবিন সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল শুরুর কথা থাকলেও কিছু জটিলতার কারণে তা বিলম্বিত হয়। অবশেষে বুধবার রাতে এমভি বার আউলিয়া জাহাজটি চলাচলের অনুমতি পায়। এই জাহাজটির ধারণক্ষমতা ৮৫০ জন।
পরিবেশ অধিদপ্তর সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কঠোর নজরদারি করবে। অধিদপ্তরের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা নিশ্চিত করেছেন যে, পর্যটকদের কার্যক্রম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ছেঁড়াদ্বীপে অননুমোদিত যাতায়াত কঠোরভাবে তদারকি করা হবে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিন ভ্রমণ এবং রাতযাপন করতে পারবেন। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটককে দ্বীপে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।
এদিকে, এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ নামের আরও দুটি জাহাজ শুক্রবার থেকে চলাচল শুরু করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া, অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ হলে আরও তিনটি নতুন জাহাজ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ায় দ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, পর্যটকদের স্বাগত জানাতে ২৩০টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ প্রস্তুত রয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, পর্যটকদের শুধুমাত্র অনলাইন নিবন্ধন করে অনুমোদিত জাহাজেই সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে হবে। জাহাজগুলোর ফিটনেসও নিয়মিত যাচাই করা হচ্ছে। একইসাথে, পরিবেশ রক্ষায় দ্বীপের জন্য জারি করা ১২ দফা নির্দেশনা সকল পর্যটকদের মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।