সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
বেঙ্গালুরুতে 'অপারেশন মুক্তা' চালিয়ে ১০৫ সন্দেহভাজন বাংলাদেশি আটক | পুলিশের কঠোর অভিযান
ভারতের বেঙ্গালুরুতে অবৈধ অভিবাসী সন্দেহে ১০৫ জন কথিত বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত 'অপারেশন মুক্তা' নামে একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। হোয়াইটফিল্ড ও ইলেকট্রনিক্স সিটি এলাকার ৯১টি স্থানে অভিযান চালিয়ে এই ব্যক্তিদের আটক করা হয় এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষের পরিচয় যাচাই করা হয়। অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইলেকট্রনিক্স সিটির ডিসিপি এম নারায়ণ জানিয়েছেন, আটককৃতদের অনেকের কাছে আধার কার্ড পাওয়া গেছে। কীভাবে এবং কখন তারা এই কার্ডগুলো পেলো এবং কারা সেগুলো ইস্যু করলো, তা তদন্ত করতে পুলিশ পৃথক মামলা করবে। কর্মকর্তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করছেন, কারণ জিজ্ঞাসাবাদ করা ব্যক্তিদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের কিছু ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন।
পুলিশ একই সাথে সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীদের কর্মসংস্থান ও আবাসনের নেটওয়ার্কও খতিয়ে দেখছে। একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আটককৃতদের মধ্যে অনেকেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত ছিলেন, যার মধ্যে আবর্জনা সংগ্রহকারী ও র্যাগপিকার রয়েছেন। এছাড়াও কেউ কেউ খাবার সরবরাহকারী ও অন্যান্য বিবিধ কাজ করতেন। অধিকাংশ আটককৃত ব্যক্তি অস্থায়ী শেডে বসবাস করতেন, যার ভাড়া ছিল প্রতি মাসে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার রুপি। প্রতিটি ঘরে পাঁচ থেকে ছয়জন করে থাকতেন। এসব ব্যক্তিকে বাসস্থান দেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়িওয়ালাদের কোনো ভূমিকা ছিল কিনা, সে বিষয়েও তদন্ত করছে পুলিশ।
এই অভিযান কর্ণাটক হাইকোর্টের একটি পর্যবেক্ষণের পর শুরু হয়েছে। আদালত এমন এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল, যিনি সন্দেহভাজন এক অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীর বিষয়ে পুলিশকে জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে আদালত।
অভিযানে নারী পুলিশ সদস্যসহ ৬০০ জনেরও বেশি পুলিশ কর্মকর্তা সমন্বিত ৬০টি দল অংশ নেয়। আটক ১০৫ জন কথিত বাংলাদেশি নাগরিকের মধ্যে ৬২ জন হোয়াইটফিল্ড এলাকা থেকে এবং ৪৩ জন ইলেকট্রনিক্স সিটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। বেঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনার সীমান্ত কুমার সিং জানিয়েছেন, প্রায় তিন মাস আগে প্রায় ৩০০ অবৈধ কথিত বাংলাদেশি অভিবাসীকে বেঙ্গালুরু থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। এরপরও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই বিশেষ অভিযান হোয়াইটফিল্ড, ইলেকট্রনিক্স সিটি এবং বেঙ্গালুরুর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকায় চালানো হয়েছে, যেখানে অভিবাসীদের বিষয়ে পুলিশের কাছে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ছিল।
পুলিশ কমিশনার নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার জন্য। তবে একই সাথে তিনি আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। সীমান্ত কুমার সিং বলেন, কেউ বাংলাদেশি অভিবাসীÑ এমন সন্দেহমাত্র তাকে আক্রমণ বা মারধর করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। অর্থাৎ, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ক্ষেত্রে পুলিশ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর জোর দিচ্ছে এবং কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে হয়রানি বা হামলা না করার জন্য সতর্ক করেছে।