সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ও ঝুঁকির বিষয়ে সচেতনতার তাগিদ
প্রযুক্তির নিত্যনতুন বিকাশের ফলে মানবজীবন ও কর্মক্ষেত্রে এসেছে অভূতপূর্ব পরিবর্তনের ছোঁয়া। অফিস-আদালতের কাজ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন যোগাযোগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি এখন অনেক দ্রুত ও সহজ হয়ে উঠেছে। তবে সুবিধার পাশাপাশি এই প্রযুক্তির অপব্যবহারও বৃদ্ধি পাচ্ছে আশঙ্কাজনকভাবে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-র অপব্যবহার সমাজে নানা ধরনের সংকট সৃষ্টি করছে, যা অনেক মানুষের জীবনকেই বিপর্যস্ত করে তুলছে।
এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভুয়া ছবি ও ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য মুছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের ফলে যেমন ব্যক্তি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন, তেমনি দেখা দিচ্ছে বড় আকারের আর্থিক ক্ষতি ও সামাজিক উত্তেজনা। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইবিএম-এর তথ্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো এমন এক প্রযুক্তি যা যন্ত্রকে মানুষের মতো চিন্তা করা, সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার ক্ষমতা প্রদান করে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, অতিমাত্রায় বুদ্ধিমান এআই অদূর ভবিষ্যতে মানুষের অস্তিত্বের জন্যই বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংক্রান্ত এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এআই-এর বিপুল বিস্তারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালে যেখানে এআইভিত্তিক সেবা খাতের বৈশ্বিক বাজারমূল্য ছিল ১৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, সেখানে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার ছিল ৩৭৫ বিলিয়ন ডলার। তবে ২০৩৩ সাল নাগাদ এআই-এর বৈশ্বিক বাজারমূল্য লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়াবে ৪ হাজার ৭৫৬ বিলিয়ন ডলারে। তুলনামূলকভাবে, সমগ্র আফ্রিকা মহাদেশের ৫৪টি দেশের বর্তমান সম্মিলিত জিডিপির পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে প্রযুক্তি এড়িয়ে চলা অসম্ভব। তাই এই প্রযুক্তির ইতিবাচক দিকগুলোকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর নেতিবাচক প্রভাব ও অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাইবার অপরাধ রোধে সামাজিক সচেতনতা ও সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার বিকাশ ঘটানো জরুরি।