সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন | ডেমোক্র্যাটদের অভাবনীয় জয় এবং ট্রাম্পের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার আভাস আগে থেকে পাওয়া গেলেও, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই তারা যে এভাবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে, তা অনেকের অনুমানের বাইরে ছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দুই বছর কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের আধিপত্য থাকায় নিজের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে খুব একটা বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের নানা কর্মকাণ্ডের ফলে তৈরি হওয়া চরম অসন্তোষের প্রতিফলন ঘটেছে এই নির্বাচনে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের রিপাবলিকানবিমুখ হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে ইরান যুদ্ধ। এই যুদ্ধের ফলে আমেরিকায় জ্বালানি তেলের দাম রকেট গতিতে বৃদ্ধি পায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ওপর। জীবনযাত্রার ব্যয় হু হু করে বাড়লেও সাধারণ মানুষের আয় সে অনুপাতে বাড়েনি। এর পাশাপাশি ট্রাম্পের আরোপিত অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক মার্কিন অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়েছে। একইসঙ্গে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ওপর কঠোর পদক্ষেপ এবং নাগরিকত্ব পরীক্ষার নামে সাধারণ মানুষদের হয়রানির ঘটনাগুলো মার্কিন জনগণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের জন্ম দেয়।
ফলাফলে দেখা গেছে, বছরের পর বছর ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত অনেক ঐতিহাসিক আসন হাতছাড়া হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৩২ সালের পর প্রথম কানসাস অঙ্গরাজ্যে সিনেট আসন জিতেছে ডেমোক্র্যাটরা, যেখানে অ্যাডাম হ্যামিল্টন পরাজিত করেছেন রিপাবলিকান রজার মার্শালকে। একই ঘটনা ঘটেছে টেক্সাসেও; ১৯৮৮ সালের পর সেখানে প্রথম ডেমোক্র্যাট সিনেটর হিসেবে জয়ী হয়েছেন জেমস টলারিকো। এছাড়া নর্থ ও সাউথ ক্যারোলাইনাতেও ডেমোক্র্যাটদের জয়জয়কার দেখা গেছে। চমকপ্রদ ঘটনা ঘটেছে মেইন অঙ্গরাজ্যে, যেখানে টানা ৩০ বছর ধরে সিনেটর থাকা শক্তিশালী রিপাবলিকান প্রার্থী সুসান কলিন্সকে হারিয়ে দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট ট্রয় জ্যাকসন।
আগামী বছরের ৩ জানুয়ারি নতুন বিজয়ী نمایندারা কংগ্রেসে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিবেন। নতুন কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার আগে ট্রাম্প প্রশাসন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের চেষ্টা করতে পারে। তবে জানুয়ারি মাসের পর থেকে নীতি প্রণয়ন, অর্থ বরাদ্দ, বাজেট অনুমোদন ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ট্রাম্পকে বেশ বেগ পেতে হবে। এমনকি ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্ত চালানোর পূর্ণ এখতিয়ারও এখন কংগ্রেসের হাতে চলে যাচ্ছে, যা আগামী দিনে ট্রাম্পের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে অনেকটাই শৃঙ্খলিত করবে বলে মনে করছেন রাজনীতিক বিশ্লেষকরা।