সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
কক্সবাজারের চকরিয়ায় প্যারাবন ধ্বংস | জীববৈচিত্র্য ও জননিরাপত্তা চরম হুমকিতে
ঐতিহাসিক চকরিয়া সুন্দরবনের অবশিষ্ট প্যারাবন কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলাজুড়ে এখন বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী চক্র বনভূমি কেটে নতুন নতুন চিংড়িঘের তৈরি করছে, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের পাশাপাশি উপকূলের জননিরাপত্তাকেও মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, ক্ষমতাধর রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বেআইনিভাবে বনভূমি দখল করে এসব ঘের নির্মাণ করছেন। চরণদ্বীপ, রামপুর, সওদাগরঘোনা, সাহারবিল এবং বদরখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় প্যারাবনের গাছ কেটে দ্রুতগতিতে ঘের তৈরির প্রস্তুতি চলছে। ১৯০৩ সালে চকরিয়া সুন্দরবনকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। একসময় প্রায় ২১ হাজার একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই বন, কিন্তু আশির দশকে বাণিজ্যিক চিংড়ি চাষের প্রসারের পর থেকে এর ব্যাপক ধ্বংস শুরু হয়। বর্তমানে বনের অধিকাংশই হারিয়ে গেছে।
ম্যানগ্রোভ বন বা প্যারাবন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য এক প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং জোয়ারের তীব্র আঘাত থেকে জনপদকে রক্ষা করতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি কেবল গাছপালার সমাহার নয়, বরং উপকূলের এক শক্তিশালী প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। প্যারাবন কেটে চিংড়িঘের তৈরি এবং কৃত্রিম বাঁধ দিয়ে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ার কারণে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। এই বন পুরোপুরি ধ্বংস হলে দুর্যোগের সরাসরি প্রভাব পড়বে মানুষের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও দৈনন্দিন জীবিকার ওপর।
ইতিমধ্যে চকরিয়া সুন্দরবন রক্ষায় উচ্চ আদালত অবৈধ ইজারা ও দখলদারদের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছে। এরপরও বন উজাড়ের অভিযোগ অব্যাহত থাকা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর তদারকি ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। আমরা জোর দাবি জানাই, অনতিবিলম্বে প্যারাবন কাটা বন্ধ করতে হবে, অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে হবে এবং সকল অবৈধ ইজারা বাতিল করতে হবে। দখল হয়ে যাওয়া বনভূমি দ্রুত পুনরুদ্ধার করে সেখানে নতুন করে ম্যানগ্রোভ বনায়ন শুরু করতে হবে। একই সাথে, বন ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।