সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনে জটিলতা | ট্রাইব্যুনাল থেকে চতুর্থ বিচারপতির পদত্যাগ
পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধনের (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগ তদন্তে গঠিত ট্রাইব্যুনাল থেকে আরও একজন বিচারপতির পদত্যাগে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এটি নিয়ে এসআইআর ট্রাইব্যুনাল থেকে মোট চারজন বিচারপতি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন।
সর্বশেষ যিনি পদত্যাগ করেছেন, তিনি হলেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। ব্যক্তিগত কারণ দর্শিয়ে তিনি গত শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের বিভিন্ন অভিযোগ নিষ্পত্তি করার জন্য মোট ১৯টি এসআইআর ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয় যে, এই সংশোধন প্রক্রিয়ায় অন্তত ৩০ লাখ বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জিত কুমার বাগ এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও একই প্রক্রিয়ার অধীনে তাদের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।
মুর্শিদাবাদে আপিল নিষ্পত্তিতে অচলাবস্থা
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, মুর্শিদাবাদ জেলার আপিল মামলাগুলো নিষ্পত্তির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু এবং ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে। এই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা থেকে বহু ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছিল।
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায় আগেই পদত্যাগ করেছিলেন, কারণ হিসেবে তিনি দৈনিক প্রায় ২২ কিলোমিটার যাতায়াতের ভোগান্তি এবং মামলার বিশাল চাপকে উল্লেখ করেন। তার ধারণা ছিল এটি দুই থেকে তিন মাসের একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা। কিন্তু পরিস্থিতি প্রত্যাশার চেয়ে জটিল হওয়ায় তিনি দায়িত্ব ত্যাগ করেন। অন্য দুই বিচারপতিও ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।
পর পর দুজন বিচারপতির পদত্যাগের কারণে মুর্শিদাবাদে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়াদের আপিল নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে প্রায় ৯১ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গত মার্চ মাসে নির্বাচন কমিশন ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। বর্তমানে বাদ পড়া প্রায় ২২ লাখ ভোটারের আপিল শুনানি চলছে। তবে একের পর এক বিচারপতির পদত্যাগ এই লাখ লাখ মানুষের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার প্রক্রিয়াকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বিচারপতি বসু আগেই সতর্ক করেছিলেন যে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে লাখ লাখ মামলার নিষ্পত্তি করা অত্যন্ত কঠিন। তিনি ট্রাইব্যুনালগুলোর পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও জোর দিয়ে বলেছিলেন। দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর যাতায়াত, কমিশনের পোর্টালে প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং অন্যান্য জটিলতার কারণে ট্রাইব্যুনালগুলোতে মামলার জট দিন দিন গুরুতর আকার ধারণ করছে।