সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
রাজধানীর নিউগিনি প্রপার্টিজে ফের হামলা ও ভাঙচুর, উল্টো ভুক্তভোগী মালিকের বিরুদ্ধে মামলা
রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকার ইসিবি চত্বরে নিউগিনি প্রপার্টিজ নামের একটি আবাসন প্রকল্পে আবারও হামলা, ভাঙচুর ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার বিকেলে ঘটা এই ঘটনায় পুলিশ ১০ পুরুষ ও ৪ নারীসহ মোট ১৪ জনকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে। তবে ঘটনার পর উল্টো ক্ষতিগ্রস্ত আবাসন প্রকল্পের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আবাসন প্রকল্পটির মালিক মো. নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, হামলার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। সত্ত্বেও তাকে আসামি করে মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, 'ঘটনার পর আমি থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম বাদ দিতে বলে। সে কারণে আমি আর মামলা করিনি।' আটককৃতদের পুলিশ ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করেছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গিয়াস উদ্দিন জানান, নুর মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে নাজিম উদ্দিনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওসির দাবি, আবাসন মালিক নাজিম উদ্দিন থানায় মামলা করতে এসেছিলেন, তবে তিনি এমন কিছু মানুষকে আসামি করতে চেয়েছিলেন যারা ঘটনার সময় সেখানে ছিলেন না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এতে সম্মতি না দেওয়ায় তিনি মামলা না করেই চলে যান। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জমির মালিকানা নিয়ে নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে মামলার বাদী নুর মোহাম্মদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।
ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শনিবার বিকেলে একদল যুবক এসে নিউগিনি আবাসন প্রকল্পের ভেতরের একটি ফটকে আক্রমণ চালায় এবং ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করে। নাজিম উদ্দিনের অভিযোগ, এর আগের হামলায় জড়িত অভিযুক্তরা জামিনে বের হয়ে নতুন করে সন্ত্রাসী ভাড়া করে এই হামলা চালিয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতেও একই প্রকল্পে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় সেখানে থাকা জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও বড় ধরনের ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বরের হামলার অন্যতম মূল সমন্বয়ক হিসেবে চিহ্নিত মো. যুবরাজকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। যুবরাজ মিরপুরের ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম ওরফে ‘কিলার’ ইব্রাহিমের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অনুসন্ধানে জানা যায়, হামলার আগে ইসিবি চত্বরের একটি রেস্তোরাঁয় বসে ১৩ জন মিলে ষড়যন্ত্র করেন। সে সময় মামলার ১ নম্বর আসামি শাহরিয়ার মাহমুদ এই হামলা পরিচালনা করতে ইব্রাহিমের সঙ্গে এক কোটি টাকার চুক্তি করেছিলেন। ইব্রাহিম পরবর্তীতে লোক জড়ো করে যুবরাজকে মাঠে নামান। ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাদের মধ্যে ৮ জন ইতিমধ্যে জামিনে মুক্ত হয়েছেন। বাকি অভিযুক্ত ৯ জনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।