সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
ইসরায়েলি নির্বাচন সামনে রেখে গাজা ইস্যুতে সুর আরও কঠোর নেতানিয়াহুর
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং নিজের কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক সমর্থকদের চাপের মুখে গাজা যুদ্ধ ও মার্কিন সমর্থিত শান্তি পরিকল্পনা বিষয়ক তার পূর্বের অবস্থানে পরিবর্তন এনেছেন। তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেছেন যে, হামাস সম্পূর্ণভাবে ও বাস্তবিক অর্থে নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা ভূখণ্ড থেকে কোনো ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না।
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজের ডানপন্থী ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখতেই তিনি এমন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
‘বোর্ড অব পিস’ কর্তৃক প্রস্তাবিত ১৫ দফার শান্তি পরিকল্পনাটি ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী সরকারের জন্য অত্যন্ত বিতর্কিত। মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতেই নেতানিয়াহু সরাসরি ইসরায়েলি জনগণের উদ্দেশে এই বিষয়ে তার অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। এর আগে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা বিস্তারিত তথ্য পুরোপুরি যাচাই না করেই গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনীর একটি অংশের প্রবেশের বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছিল। কিন্তু এবার নেতানিয়াহু সুনির্দিষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, ইসরায়েল এই ১৫ দফার প্রস্তাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেছেন, হামাস সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না।
হামাসের নিরস্ত্রীকরণ প্রসঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু কড়া শর্ত আরোপ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, হামাসকে তাদের যাবতীয় ভারী ও হালকা অস্ত্রশস্ত্র সম্পূর্ণরূপে সমর্পণ করতে হবে এবং গাজায় বিদ্যমান সকল সুড়ঙ্গের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও পরিকল্পনা ইসরায়েলকে জানাতে হবে।
নেতানিয়াহুর এই অনড় মনোভাব ‘বোর্ড অব পিস’ এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের জন্য তীব্র জটিলতা সৃষ্টি করেছে। গত কয়েক মাস ধরে মধ্যস্থতাকারীরা হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাহারের বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে এখন মনে হচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনের কৌশলগত সুবিধার কথা মাথায় রেখেই নেতানিয়াহু পুরো শান্তি প্রক্রিয়াকে এক প্রকার ‘রিসেট’ করে দিয়েছেন। তিনি পরিষ্কারভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তার বর্তমান শাসনামলে এই ধরনের কোনো সমঝোতা বাস্তবায়ন করা হবে না।