সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
চট্টগ্রাম বন্ধুসভার আড্ডায় স্মৃতির ভেলায় তারুণ্য, প্রজ্ঞা ও বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন
কর্মব্যস্ত জীবনের ফাঁকে কিছুটা অবসর খুঁজে নিতে গত ৩১ অক্টোবর বিকেলে চট্টগ্রাম বন্ধুসভার সদস্যরা একত্রিত হয়েছিলেন নগরীর লাভ লেইনস্থ মেরিটাইম মিউজিয়ামে। কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই এদিনের মিলনমেলা পরিণত হয়েছিল হাসি-ঠাট্টা, পুরোনো স্মৃতিচারণ আর প্রাণবন্ত আড্ডায়।
বেলা সাড়ে তিনটার পর থেকে একে একে বন্ধুরা নির্ধারিত স্থানে জড়ো হতে শুরু করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিভিন্ন পেশার মানুষ—চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী। কেউ অফিসের কাজ সেরে সরাসরি এসেছেন, আবার কেউ সংসারের নানা দায়িত্ব সামলে বন্ধুত্বের টানে ছুটে এসেছেন। দীর্ঘদিন পর একে অপরের সঙ্গে দেখা হওয়ায় কোলাকুলি আর কুশল বিনিময়ে স্থানটি মুখরিত হয়ে ওঠে।
আড্ডার শুরুটা হয়েছিল স্কুল-কলেজজীবনের দুরন্ত দিনের গল্প দিয়ে। এরপর আলোচনায় উঠে আসে চট্টগ্রামের পুরোনো দিনের স্মৃতি, বর্তমান জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও সফলতার কাহিনি। গান আর কৌতুকের ঝলকে হাসির রোল পড়ে যায়, যা আড্ডার আমেজকে আরও বাড়িয়ে তোলে। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার মজাদার সংলাপগুলোও উপস্থিত সবাইকে হাসিতে মাতিয়ে রাখে।
আড্ডা চলাকালে সদস্যরা সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করেন। বন্ধুদের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নিয়মিত মিলনমেলার আয়োজন করার বিষয়ে তাঁরা আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বন্ধুদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বন্ধু নাওয়ারা নবী বলেন, ‘যান্ত্রিক জীবনে আমরা এতটাই ব্যস্ত থাকি যে বন্ধুদের জন্য সময় বের করা সত্যিই কঠিন। এমন একটি বিকেল সারা সপ্তাহের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। আমার কাছে বন্ধুত্বই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
আরেক বন্ধু রাজু পাল তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘এই বন্ধুসভা শুধু আমাদের আড্ডার জায়গা নয়, এটি এক ভরসারও স্থান।’
সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামার সঙ্গে সঙ্গেই এই আন্তরিক আড্ডার সমাপ্তি ঘটে। বিদায়বেলায় সবাই আবারও একত্র হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। স্মৃতিতে আরও একটি সুন্দর বিকেলকে ধারণ করে সবাই নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যান।
এই আনন্দঘন আয়োজনের সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থসম্পাদক ফয়সাল হাওলাদার, সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয় চক্রবর্ত্তী, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক কামরান চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক আফিফ ইব্রাহীম, দপ্তর সম্পাদক সাকিব জিশান, প্রচার সম্পাদক প্রান্তিকা ভৌমিক, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক আমেনা আক্তার, বইমেলা সম্পাদক সামিয়া সুলতানা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বন্ধু রোকসানা জেয়াছমিন, নির্বাচিতা ভৌমিক, গেহরিন নাসরিন, খাদিজা আক্তার, পৃথ্বীরাজ বড়ুয়া, অদ্রিক রায়, অনামিকা দাশসহ আরও অনেকে।
প্রতিবেদনে: মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক, চট্টগ্রাম বন্ধুসভা