সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
টুথপেস্ট উদ্ভাবনের আগে দাঁত পরিষ্কারে প্রাচীন মানুষের বিচিত্র সব পদ্ধতি
নিত্যদিনের সকালে ব্রাশে টুথপেস্ট লাগিয়ে দাঁত মাজা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে আধুনিক টিউবের টুথপেস্ট আবিষ্কারের আগে বিশ্বজুড়ে মানুষ দাঁত পরিষ্কার রাখতে ব্যবহার করত নানা বিচিত্র উপাদান। পোড়া ছাই, নিমগাছের ডাল, লবণ, গোলমরিচ কিংবা ডিমের খোসার মতো উপাদান দিয়ে তৎকালীন সময়ে মুখ ও দাঁতের যত্ন নেওয়া হতো। বিস্ময়কর হলেও সত্য, সেকালের এসব পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য ছিল আজকের আধুনিক টুথপেস্টের মতোই দাঁতের ময়লা ও ব্যাকটেরিয়া দূর করা।
প্রাচীন যুগের পেস্ট বা পাউডারে ব্যবহৃত খসখসে উপাদানগুলো দাঁতের উপরিভাগের ময়লা ঘষে তুলতে সাহায্য করত। বর্তমান পেস্টগুলোতেও একই কাজ করা হয়, তবে ব্যবহারের দিক থেকে আধুনিক টুথপেস্টে ব্যবহৃত হাইড্রেটেড সিলিকা অত্যন্ত নিরাপদ। অতীতে ডিমের খোসার গুঁড়া কিংবা পিউমিস পাথরের যে ব্যবহার ছিল, তা দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়াত।
টুথপেস্ট যেভাবে কাজ করে
মুখের ভেতরের সতেজতা বজায় রাখা এবং দাঁতের ক্ষয়রোগ বা ক্যাভিটি প্রতিরোধে নিয়মিত দিনে দুবার টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ করা জরুরি। ব্রাশ করার সময় পেস্টের বিভিন্ন উপাদান মুখের লালার সঙ্গে মিশে ফেনা তৈরি করে, যা মুখের পিচ্ছিলতা বাড়ায় এবং থুতুর সাথে ময়লা বের করে দেয়। একই সঙ্গে টুথপেস্টে থাকা মৃদু ঘর্ষণকারী উপাদান দাঁতে জমে থাকা ক্ষতিকর ও আঠালো আস্তরণ বা ‘প্ল্যাক’ দূর করে।
প্ল্যাক ও ব্যাকটেরিয়ার প্রভাব
খাবারের অবশিষ্টাংশ এবং ব্যাকটেরিয়া যৌথভাবে দাঁতের গায়ে প্ল্যাক গঠন করে। মুখের অভ্যন্তরীণ ব্যাকটেরিয়াগুলোর মধ্যে কিছু শর্করাযুক্ত খাদ্য পছন্দ করে, আবার কিছু ব্যাকটেরিয়া দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাস তৈরি করে মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। উপরন্তু, এসব জীবাণু থেকে নির্গত এসিড দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে গর্তের সৃষ্টি করে। তাই দাঁতের সুরক্ষায় নিয়মিত ব্রাশ করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
দাঁতের যত্নের প্রাচীন ইতিহাস
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, হাজার হাজার বছর আগেও মানুষ মুখের যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করত। ক্রোয়েশিয়ার একটি গুহায় আবিষ্কৃত ১ লাখ ৩০ হাজার বছর পুরোনো মানুষের দাঁতে টুথপিক ব্যবহারের স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। গবেষকদের ধারণা, খাবার আটকে গেলে তারা হাড় বা শক্ত ঘাসের সাহায্যে তা বের করত।
অন্যদিকে, প্রায় ১৪ হাজার বছর আগে ইতালির একটি গুহায় প্রাচীনতম ডেন্টাল চিকিৎসার প্রমাণের সন্ধান পাওয়া যায়, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত দাঁত পরিষ্কার করতে ধারালো পাথরের হাতিয়ার ব্যবহার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে, আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ অব্দে মিসরীয়রা ডিমের খোসা, পোড়া গরুর খুর, গন্ধরস এবং পিউমিস পাথরের ছাই দিয়ে বিশ্বের প্রথম টুথপেস্টের পাউডার তৈরি করে। এরপর পারস্য ও রোমান সভ্যতাতেও পোড়া শামুক-ঝিনুকের খোসা, কাঠকয়লা, ভেষজ এবং মধুর মিশ্রণ ব্যবহার শুরু হয়।
টুথব্রাশের বিবর্তন
খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দের দিকে মিসর ও ব্যাবিলনে গাছের ডাল চিবিয়ে আঁশ যুক্ত করে ব্রাশ হিসেবে ব্যবহারের প্রচলন ছিল। বিশেষ করে নিম বা এ জাতীয় উদ্ভিদের ডালে প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক গুণ থাকায় তা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে ভূমিকা রাখত। পরবর্তীতে সপ্তম থেকে দশম শতাব্দীতে চীনে বাঁশ বা হাড়ের হাতলে প্রাণীর লোম দিয়ে আধুনিক টুথব্রাশের প্রাথমিক রূপ দেওয়া হয়।