সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
আ.লীগের পুনর্বাসনের আগে বিচার দাবি | ৭ নভেম্বরের আলোচনায় হাসনাত আবদুল্লাহ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের আলোচনার পূর্বে দলটির বিরুদ্ধে ওঠা পুরোনো অপরাধগুলোর বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত অপকর্মগুলোর বিচার না করেই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দলটিকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করেছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় হাসনাত আবদুল্লাহ এই দাবি জানান। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর উপলক্ষে ‘সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান: বর্তমানের প্রেক্ষাপটে ফিরে দেখা’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করা হয়। হাসনাত আবদুল্লাহ জোর দিয়ে বলেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। আদালত ও বিচারব্যবস্থা নির্ধারণ করবে কারা দোষী বা নির্দোষ। এরপরই দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
সভায় হাসনাত আবদুল্লাহ আরও মন্তব্য করেন যে, বিএনপি ৭ নভেম্বরকে বিপ্লব হিসেবে উদ্যাপন করলেও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে দ্বিচারিতা দেখা যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক সুবিধা বিবেচনায় বিএনপি ইতিহাসের ঘটনাগুলোকে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করে। ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে বিএনপি বিপ্লব হিসেবে বর্ণনা করে এবং জিয়াউর রহমানকে কেন্দ্র করে তারা ঘটনার একক মালিকানা দাবি করতে পারে, যা অযৌক্তিক নয়। তবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের একক মালিকানা দাবি করার সুযোগ নেই, যেখানে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সৈনিকদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ ‘বাকশাল টু’ থেকে মুক্তি পেয়েছে এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার সুযোগসহ বাক্স্বাধীনতার পরিসর উন্মুক্ত হয়েছে। এটি গণ-অভ্যুত্থানের একটি বড় অর্জন, যা বিএনপি যথাযথভাবে স্বীকার করতে চায় না। ৭ নভেম্বরকে বিপ্লব বলা হলেও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে স্বীকৃতি দিতে কেন এই অনীহা, সে প্রশ্নও তিনি উত্থাপন করেন।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগের সঙ্গে পুনর্মিলনের উদ্যোগ নিলেও ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের শাসনামলের অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়ায় সেই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত দলটির রাজনৈতিক পুনর্বাসনে পরিণত হয়েছিল। তিনি বিএনপিকে এই একই ভুল দ্বিতীয়বার না করার আহ্বান জানান। সারোয়ার তুষার আরও যোগ করেন, জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক অবদান থাকলেও তার শাসনামলের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার দুর্বলতা গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে দেয়নি। সামরিক আইনের মাধ্যমে আনা বড় পরিবর্তনগুলোকে পুরোনো সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা ছিল একটি বড় ভুল।
আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন এনসিপির মিডিয়া সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত। এছাড়াও লেখক ইমরুল হাসান, এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হক এবং স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মনজিলা ঝুমা বক্তব্য রাখেন।