সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় পাচার | যুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের বাধ্য করার খবরে চরম উদ্বেগ
উন্নত এবং বৈধ চাকরির লোভ দেখিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জোরপূর্বক ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানোর একের পর এক খবরে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি হতাহত হয়েছেন এবং অনেকে বর্তমানে হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিদেশে গিয়ে প্রতারণার শিকার হওয়া এসব ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষের জীবন যেমন চরম ঝুঁকিতে পড়েছে, তেমনি দেশে অবস্থানরত তাঁদের স্বজনদের দিন কাটছে গভীর উৎকণ্ঠা ও দিশাহারা অবস্থায়।
জাতিসংঘের ইউক্রেনবিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের বরাতে জানা গেছে, বেসামরিক কাজের প্রলোভন দিয়ে বাংলাদেশসহ অন্তত ২৯টি দেশের নাগরিকদের রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে সক্রিয় পাচারকারী চক্রের সহায়তায় প্রতারণা ও জবরদস্তির মাধ্যমে তাঁদের রুশ বাহিনীতে নিয়োগের স্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। পরবর্তীতে তাঁদের ইউক্রেনের বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে অনেকেই নিহত, আহত, বন্দি কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের জন্য প্রস্তুত করা প্রতিবেদনে এসব আশঙ্কাজনক তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশি নাগরিকদের রাশিয়ায় পাঠানোর জন্য ব্যবহৃত কয়েকটি ব্যবসায়িক ভিসার কপি তাঁরা সংগ্রহ করেছেন। এসব কাগজে দেখা যায়, রাশিয়ার একটি বেসামরিক প্রতিষ্ঠান তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। নথিপত্রে সফরের কারণ হিসেবে বেসামরিক কাজের কথা বলা হলেও মূল চক্রান্ত ছিল সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে এই যুদ্ধে কমপক্ষে ৫৪ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন।
বিদেশে পাঠানোর নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার ঘটনা বাংলাদেশে নতুন নয়। দেশের অভ্যন্তরে সক্রিয় দালাল চক্রগুলো মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী দলের হাতে তুলে দিচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এসব ভুয়া রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালালদের বিরুদ্ধে কার্যকর কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা দেখা যায় না। জাতিসংঘ বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করায় এটি এখন বিশ্বমঞ্চের নজর কেড়েছে। এই দুর্বিষহ পরিস্থিতির অবসানে জোরদার কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ, যুদ্ধক্ষেত্রে আটকে পড়া ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং নিহতদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়াসহ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
হরমুজ প্রণালিতে মাইনে লেগে দুটি তেলবাহী জাহাজে তীব্র বিস্ফোরণ
৫৭ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের নতুন সামরিক হামলার ছক, নির্দিষ্ট সীমানা না মানার হুঁশিয়ারি
৬ ঘন্টা আগে
‘ভোট চুরি’র প্রতিবাদে মাঠে নামছে কংগ্রেস ও বিরোধী জোট
৭ ঘন্টা আগে