সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
ইসরায়েলের দাবি | ট্রাম্পকে হত্যার নতুন ছক কষছে ইরান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইরান নতুন করে পরিকল্পনা করছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। তেল আবিব ইতোমধ্যে এই সংক্রান্ত কিছু নতুন গোয়েন্দা তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, এই তথ্য সত্য প্রমাণিত হলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ কমান্ডার কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই ইরান ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে আসছে।
যদিও এ বিষয়ে ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাস প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি, এবং জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী মিশনও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। হোয়াইট হাউস নতুন করে মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গত বুধবারের বক্তব্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
গত বুধবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প নিজেই তার জীবনের হুমকির বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, 'তারা মার্কিন নেতাকে, অর্থাৎ আমাকে, সরিয়ে দিতে চায়। আমি তাদের প্রতিটি তালিকার শীর্ষে আছি। এখন পর্যন্ত ভাগ্য আমার পক্ষে ছিল, তবে সেটি আর কতদিন থাকবে, জানি না।'
এদিকে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবস্থানে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা গেছে। নেতানিয়াহু যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে, ট্রাম্প সেখানে সংঘাতের ইতি টানার পথ খুঁজছেন। তার আশঙ্কা, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
তবে দুই নেতার মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু টেলিফোনে কথা বলেছেন। আলোচনায় দুই দেশ পারস্পরিক সমন্বয় বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়। একইসঙ্গে, পারস্য উপসাগরে সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক তৎপরতা সম্পর্কেও নেতানিয়াহুকে অবহিত করেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে, নিহত ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া কিছু শোকাহত মানুষের মধ্যে ট্রাম্পবিরোধী স্লোগান শোনা যায়। সেখানে 'আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব' লেখা ব্যানারও প্রদর্শন করা হয়।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের শুরুতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তু ও গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত তাদের আলোচনা চলত। যদিও এখনও তারা যোগাযোগ রাখছেন, সাম্প্রতিক কয়েকটি উত্তপ্ত ফোনালাপ দুই নেতার সম্পর্কের টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।