সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা বরদাশত নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন স্বাস্থ্য খাতে যেকোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এসব অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। প্রয়োজনে এমন কর্মীদের চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ার পরামর্শও দেন মন্ত্রী।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ১১টায় ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বিগত সতেরো বছরে দেশের স্বাস্থ্য খাতের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের আড়ালে ব্যাপক মাত্রায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাট সংঘটিত হয়েছে। তিনি বিশেষত পর্দা ও বালিশ কেলেঙ্কারির মতো ঘটনার কথা উল্লেখ করে জানান যে, এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এত অনিয়ম সত্ত্বেও স্বাস্থ্যসেবার মান প্রত্যাশিত স্তরে পৌঁছাতে পারেনি, যার ফলে সাধারণ জনগণ হাসপাতালে এসে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্ব সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, সরকার মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। এই উদ্দেশ্যেই দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করে স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিদর্শনের সময় রোগীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের তিন সিনিয়র সেবিকা— রিনা রানী বিশ্বাস, সুস্মিতা কীর্তনীয়া এবং শামীমা আক্তারকে অন্য স্থানে বদলির নির্দেশ দেন। একই সাথে, হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষকে সহজে সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা জারি করেন তিনি।
এসময় মন্ত্রীর সঙ্গে পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডাক্তার মো. মাহমুদুল হাসান, চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো. হাফিজুর রহমান, সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন, সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো. মমিনুর রহমান সরকার, সদরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী বদরুজ্জামান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।