সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
বেলার মামলার কারণে কক্সবাজারে ১২৮ কোটির সড়ক প্রকল্প আটকে গেছে | স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী
কক্সবাজারকে বিশ্বমানের আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পথে আইনি জটিলতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা মামলার কারণে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত ১২৮ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প স্থগিত রয়েছে।
শনিবার কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের পর স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মীর শাহে আলম বলেন, কক্সবাজার বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও পর্যটনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এটিকে আন্তর্জাতিক মানের রূপ দিতে সরকার প্রতিনিয়ত বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ হাতে নিচ্ছে। এমনকি কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরের উদ্যোগও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কিন্তু একটি চক্র নানা কৌশলে এই অঞ্চলের উন্নয়নকে ব্যাহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার যখনই কক্সবাজার শহরের সৌন্দর্যবর্ধন এবং সড়ক প্রসারণের কাজ শুরু করে, তখনই বেলার মতো সংস্থাগুলো উচ্চ আদালতে গিয়ে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসে। এতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ে। ১২৮ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছিল, কিন্তু আইনি বাধার কারণে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, বেলা’র পক্ষ থেকে সৈকত তীরবর্তী পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ও বালিয়াড়ি সুরক্ষার যুক্তি দেখিয়ে এই প্রকল্পের বিরোধিতা করে আদালতে রিট করা হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সড়ক নির্মাণ কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন এবং বর্তমানে প্রকল্পটি বন্ধ রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) নীতিমালার কারণেও অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সমুদ্রের তীরবর্তী নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে ভবন নির্মাণে নানা বিধিনিষেধ থাকায় পর্যটন মৌসুমে আবাসন সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। পর্যটকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা ও উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।
এর আগে, সকালে প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করার একটি বিশেষ প্রকল্প পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, দেশের সকল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়ে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
পরিদর্শনকালে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল এবং চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।