সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
মোংলা বন্দরে বাড়ছে পণ্য পরিবহন | কার্যকর সক্ষমতা বাড়াতে সমন্বিত পরিকল্পনার তাগিদ
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলাকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অধিক প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে নেওয়া হচ্ছে নানামুখী পদক্ষেপ। অবকাঠামোগত নানা সংস্কার কাজের পাশাপাশি বন্দরটির পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বন্দরে জাহাজ আগমনের সংখ্যা সামান্য কমলেও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে পণ্য ওঠানামা ও রাজস্ব আয়। তবে এই ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে চ্যানেলের নাব্যতা ধরে রাখা, সড়ক ও রেলপথের সমন্বিত ব্যবহার এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বন্দরে মোট ৮৩০টি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ নোঙর করেছিল। সে সময় প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ ১২ হাজার মেট্রিক টন পণ্য ওঠানামা এবং ২১ হাজার ৪৫৬ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের মাধ্যমে বন্দর কর্তৃপক্ষের আয় হয়েছিল ৩৪৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। পরবর্তীতে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে জাহাজ আগমনের সংখ্যা কমে ৮১৫টিতে নামলেও মোট পণ্য ওঠানামার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টনে—যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭.৬৬ শতাংশ বেশি। এছাড়া কনটেইনার হ্যান্ডলিং বেড়ে ২৯,৭১ ৪ টিইইউতে পৌঁছায় এবং রাজস্ব আয় বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকায়। জাহাজ কমলেও পণ্য ও আয় বাড়ার ঘটনাটি ইঙ্গিত দেয় যে, বন্দরটিতে তুলনামূলক বড় আকারের জাহাজ ভেড়ানোর সুফল মিলছে।
তবে বন্দরের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে পশুর চ্যানেলে নিয়মিত নাব্যতা বজায় রাখাই প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইননার বারের প্রায় ২৩.৪ কিলোমিটার অংশ খনন এবং পশুর চ্যানেলে মেয়াদি ড্রেজিং কর্মসূচির আওতায় সাড়ে ৯ মিটার ড্রাফটের জাহাজ সরাসরি জেটিতে ভেড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পলি অপসারণই যথেষ্ট নয়; খনন করা গভীরতা যেন দীর্ঘ সময় বজায় থাকে সে বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ও টেকসই তদারকি প্রয়োজন।
বন্দরটির সার্বিক সক্ষমতা বাড়াতে চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে প্রায় ৩ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা (২৪০ কোটি ৪০ লাখ ইউয়ান) মূল্যের ঋণচুক্তির মাধ্যমে দুটি আধুনিক কনটেইনার জেটি ও প্রয়োজনীয় টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ এগিয়ে চলছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বার্ষিক পণ্য পরিবহন সক্ষমতা দেড় কোটি মেট্রিক টন এবং কনটেইনার ব্যবস্থাপনা ৪ লাখ টিইইউতে উন্নীত হবে। তবে জেটি নির্মাণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন, দক্ষ জনবল নিশ্চিতকরণ এবং দ্রুত শুল্কায়ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার তাগিদ দিচ্ছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।
পাশাপাশি, খুলনা–মোংলা রেলপথ ও মহাসড়কের সুফল পূর্ণাঙ্গভাবে পেতে লজিস্টিক সমন্বয়ের অভাব দূর করার আহ্বান জানানো হয়েছে। নিয়মিত কনটেইনারবাহী ট্রেন চালু এবং সড়ক অবকাঠামো মসৃণ রাখা গেলে চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি মোংলা বন্দরকে অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও দ্রুতগতির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করে আধুনিক ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনাই এখন দেশের এই প্রধান দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় অর্থনৈতিক হাবকে এগিয়ে নেওয়ার মূল চাবিকাঠি।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের বর্ষপূর্তি উদযাপন ও বিশেষ ক্রোড়পত্র
৫ দিন আগে
আয়াস কি শুধু একটি নাম? সমাজে ছড়ানো বিদ্বেষ ও বিভাজনের নেপথ্য কারণ
১ সপ্তাহ আগে
খুলনাসহ দেশজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে প্রাণহানি
২ সপ্তাহ আগে