সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের ফেসবুকে ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ হুমকি, পুলিশ তৎপর
চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান আলম ফেসবুকে ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ (অপেক্ষা করুন এবং দেখুন) শীর্ষক একটি হুমকি দিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছেন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এই স্ট্যাটাসটি পোস্ট করেন, যেখানে হুমকির সুরেই বিভিন্ন মন্তব্য লেখা হয়েছে।
নিজের পোস্টে রায়হান লিখেছেন, “...ভাবে আমার লোকজন জেলহাজতে বন্দী। আমি একা হয়ে গেছি”। এরপর তিনি ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ লিখে স্ট্যাটাসটি শেষ করেন। পুলিশের ধারণা, সাম্প্রতিক সময়ে তার সহযোগীদের গ্রেফতার এবং তার একাকীত্বের ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণ করতেই এই পোস্ট দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, কিছুদিন আগে নোয়াখালীতে পুলিশি অভিযান চলাকালে রায়হান পুলিশের হাত ফসকে পালিয়ে যান। ওই ঘটনার পর তিনি চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলমকে উদ্দেশ্য করে আরেকটি বিতর্কিত স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। গত ৩ আগস্ট দেওয়া সেই স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছিলেন, ‘দোজখ আর জাহান্নামে তফাত কী মাসুদ স্যার?’ ধারণা করা হচ্ছে, তাকে পালাতে সহায়তার জন্য নোয়াখালীর স্থানীয়দের প্রশংসাও ওই পোস্টে করা হয়েছিল।
চট্টগ্রামের বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত রায়হান। সাম্প্রতিককালে চট্টগ্রাম নগরীতে সংঘটিত বেশ কয়েকটি বড় চাঁদাবাজির ঘটনায় তার নাম উঠে এসেছে। চাঁদার জন্য প্রায়শই বিভিন্ন বাড়ির সামনে গুলির ঘটনা ঘটিয়ে রায়হান বাহিনী আলোচনায় আসে।
স্বল্পশিক্ষিত রায়হান একসময় ছোট সাজ্জাদের সঙ্গে মিলে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করতেন। ছোট সাজ্জাদ কারাগারে যাওয়ার পর তিনি আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের সঙ্গে মিলে নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। গত মাসে ডেভিড ইমন গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রাম কারাগারে আছেন। ইমন গ্রেফতার হওয়ার পর পুলিশ ধারণা করছিল যে রায়হান কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তবে বৃহস্পতিবারের এই ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে রায়হান তার সক্রিয় উপস্থিতি এবং শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করছেন বলে পুলিশ মনে করছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রায়হান ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চট্টগ্রাম কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। এরপর তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলাসহ চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগে অন্তত ১৫টির বেশি মামলা রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পার হতে না পারা রায়হান একসময় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও পরবর্তীতে অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়েন।
পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম রায়হানের ফেসবুক স্ট্যাটাস প্রসঙ্গে বলেন, “ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতেই পারে। পুলিশ তাকে ধরতে তৎপর আছে। পুলিশের অভিযানে সে ধরা পড়বেই।” পুলিশ আরও জানিয়েছে যে, রায়হানের ব্যবহৃত ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি দীর্ঘদিন ধরে তাদের নজরদারিতে রয়েছে এবং তার অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।