সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
উৎসবের আবহে আধুনিকতার ছোঁয়া | হারিয়ে যাচ্ছে কি পারস্পরিক সামাজিক সম্প্রীতি?
শৈশবের উৎসব মানেই ছিল এক অন্যরকম আবেগ ও বিশুদ্ধ আনন্দ। ঈদ কিংবা দুর্গাপূজা—উৎসবের দিনটি ক্যালেন্ডারে যত এগিয়ে আসত, মনের ভেতর তৈরি হতো অপরিসীম উদ্দীপনা। নতুন পোশাকের আমেজ, ঘরে সুস্বাদু খাবারের আয়োজন, আত্মীয়-স্বজনের যাতায়াত এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে আড্ডা মিলেই জমে উঠত উৎসবের রঙিন দিনগুলো। তখনকার দিনে বাহ্যিক কোনো কৃত্রিম আড়ম্বরের প্রয়োজন হতো না; একটি নির্মল মন আর প্রিয়জনদের সখ্যই ছিল আনন্দের মূল চালিকাশক্তি।
ঈদের সকালে নামাজ শেষে কোলাকুলি, মুরুব্বিদের সালাম করা ও প্রতিবেশীদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ানোর মাধ্যমে ফুটে উঠত সৌহার্দ্যের বাস্তব চিত্র। আবার দুর্গাপূজার সময়েও মণ্ডপের আলোকসজ্জা, ঢাকের আওয়াজ আর উৎসবমুখর পরিবেশ সবাইকে একসূত্রে গাঁথত। ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও বন্ধুদের সঙ্গে পূজামণ্ডপে যাওয়া বা একে অপরের উৎসবে শরিক হওয়া ছিল অত্যন্ত স্বাভাবিক ও সহজাত। সামাজিক এই সম্প্রীতির চর্চা কোনো তাত্ত্বিক সংজ্ঞায় সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা মিশে ছিল দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে মানুষের জীবনধারা, বেড়েছে ব্যস্ততা আর প্রযুক্তির ব্যবহার। এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে শুভেচ্ছা বার্তা, কেনাকাটায় এসেছে আধুনিকতার স্পষ্ট ছাপ। তবে উৎসবের এসব বাহ্যিক জমকালো আয়োজন বাড়লেও মানুষের সঙ্গে মানুষের ভেতরের আন্তরিক যোগাযোগ দিনে দিনে শিথিল হয়ে পড়ছে কি না—সে প্রশ্ন এড়ানো যায় না। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হাজারো মানুষকে শুভেচ্ছা জানানো সহজ হলেও পাশের বাড়ির প্রতিবেশী বা অসচ্ছল কারো খোঁজ নেওয়ার মানবিক দিকটি আজ সংকুচিত হয়ে আসছে।
উৎসবের প্রকৃত শিক্ষা সম্প্রীতি, সংযম ও মানবতায়। বাহ্যিক আলোকসজ্জা বা নতুন পোশাকের চেয়েও উৎসবের মূল সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা এবং কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতায়। ভিন্নতা মেনে নিয়ে পরস্পরকে শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করাই হলো একটি পরিপক্ক সমাজের পরিচয়।
লেখক:
মাহবুবুর রহমান বকুল
এলএলএম, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)
মাস্টার্স, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়