সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
তীব্র সংকটে পোশাক খাত | নীতিগত সহায়তা দেবে সরকার, আশ্বাস রাষ্ট্রপতির মির্জা ফখরুলের
দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি আয়ের উৎস তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে তীব্র জ্বালানি সংকট, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, রপ্তানি ও বিনিয়োগে মন্দা, এবং বহু কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে শিল্পটিকে টেকসইভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। সেখানেই তিনি এই আশ্বাস প্রদান করেন। বৈঠক শেষে বিজিএমইএ-এর পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান অবস্থা, এর সম্মুখীন প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ধরে রাখার কৌশল এবং দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান পোশাক খাতের বিরাজমান সংকটসমূহ রাষ্ট্রপতির কাছে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, তীব্র জ্বালানি সংকটের ফলে উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে, রপ্তানি ও বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং বেশ কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিল্প উদ্যোক্তারা বর্তমানে এক কঠিন সময় পার করছেন।
এই সংকট উত্তরণে বিজিএমইএ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অবকাঠামো ও লজিস্টিকস ব্যবস্থার উন্নয়ন, ব্যাংকিং ও অর্থায়ন সুবিধা বৃদ্ধি, তারল্য সহায়তা নিশ্চিতকরণ, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজীকরণ, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরবর্তী বাণিজ্যিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকদের কল্যাণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মতো সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করে।
বৈঠকে বিজিএমইএ নেতারা সরকারের বেশ কিছু শিল্পবান্ধব পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁরা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার সরকারি উদ্যোগ, নিষ্ক্রিয় ও বন্ধ থাকা পোশাক কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ অর্থায়ন সুবিধা, নন-বন্ড কারখানার জন্য বন্ডেড কাঁচামাল সংগ্রহ ও সরাসরি রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি, এবং কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দের মতে, এসব উদ্যোগ শিল্প উদ্যোক্তাদের আস্থা বৃদ্ধি করেছে এবং ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ করতে সরকারের আন্তরিক প্রতিশ্রুতির সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের বক্তব্য অত্যন্ত মনোযোগ ও সহানুভূতির সঙ্গে শোনেন। তিনি দেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ‘মেরুদণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। রাষ্ট্রপতি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সাময়িক প্রতিকূলতা সফলভাবে কাটিয়ে উঠে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শিল্পটির টেকসই উন্নয়ন ও সুরক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি কর্তৃপক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহযোগিতা প্রদানের বিষয়ে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলকে সম্পূর্ণভাবে আশ্বস্ত করেন।
সাক্ষাতের প্রারম্ভে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানায়। বৈঠকে, বিজিএমইএ নেতারা পোশাক শিল্পের বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান এবং এই শিল্পকে হরতালের আওতামুক্ত রাখতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। বিজিএমইএ সভাপতি সরকারের গৃহীত বিভিন্ন শিল্পবান্ধব উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিজিএমইএ-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি মিজ ভিদিয়া অমৃত খান, সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরীসহ পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় গাড়ি চেকিংয়ের নামে পুরাতন মোটরসাইকেল হাটে আসা ক্রেত-বিক্রেতাদের হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন
১ দিন আগে
নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও নেতৃত্ব বিকাশে সমান সুযোগ নিশ্চিতের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের
১ দিন আগে
সরকারি অনুমতি ছাড়াই রিফাইনারি নির্মাণ, অপরিশোধিত তেল আমদানির আবেদনে নতুন বিতর্ক
৩ দিন আগে