আলমডাঙ্গায় গাড়ি চেকিংয়ের নামে পুরাতন মোটরসাইকেল হাটে আসা ক্রেত-বিক্রেতাদের হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
সংবাদ সম্মেলন | আলমডাঙ্গায় গাড়ি চেকিংয়ের নামে পুরাতন মোটরসাইকেল হাটে আসা ক্রেত-বিক্রেতাদের হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন
হাট রক্ষায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
আলমডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী পুরাতন মোটরসাইকেল হাটে আসা ক্রেত-বিক্রেতাদের রাস্তায় আটক করে গাড়ি চেকিংয়ের নামে পুলিশ কর্তৃক হয়রানিসহ ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত করার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন হাটের ইজারাদারদের পক্ষে তৌফিক খান। এ পরিস্থিতির অবসান না হলে স্থানীয় সুধী সমাজ, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইজারাদার তৌফিফক খান বলেন, আলমডাঙ্গা পৌর পুরাতন মোটরসাইকেল হাট শুধু চুয়াডাঙ্গা জেলাতেই নয়, সারা বাংলাদেশে একটি ঐতিহ্যবাহী ও সুপরিচিত মোটরসাইকেল হাট। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে প্রতিষ্ঠিত এ হাটে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা পুরাতন মোটরসাইকেল কেনাবেচা করতে আসেন। এ হাটকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বহু মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকার ব্যবস্থা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলা ১৪৩৩ সনের জন্য আলমডাঙ্গা পৌরসভা হাটটির ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে ১৪ থেকে ১৫ জন ব্যবসায়ী এতে অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে তিনি ভ্যাট ও আয়করসহ ২ কোটি ৭ লাখ ৫৬ হাজার ২৫০ টাকায় হাটটি ইজারা গ্রহণ করেন। যা বিগত সরকারের সময়ের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে পুলিশ প্রশাসন নিবন্ধনবিহীন মোটরসাইকেল চেকিংয়ের নামে হাটের মূল ফটকের দুই পাশে এবং আলমডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন সড়কের মোড়ে মোড়ে অভিযান পরিচালনা করছে। এ সময় ক্রেতা-বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মামলা, জরিমানা এবং মোটরসাইকেল আটক করা হচ্ছে। এতে হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং স্বাভাবিক কেনাবেচা ব্যাহত হচ্ছে।
তৌফিফক খান অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছেন, হাটে মোটরসাইকেল কেনাবেচা করতে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং হাটে না আসার জন্য নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে হাটটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হাটের দিন ক্রেতা-বিক্রেতা আসার সময় পর্যন্ত পুলিশের গাড়ি চেকিং জোরদার থাকলেও হাটের সময় পার হয়ে গেলে গাড়ি চেকিংও কমিয়ে দেয় বলেও অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, পুলিশের আইনানুগ দায়িত্ব পালনে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে আইন প্রয়োগের নামে একটি ঐতিহ্যবাহী ব্যবসাকেন্দ্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের হয়রানি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। হাটটি বন্ধ হয়ে গেলে বহু মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকা হারানোর পাশাপাশি সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে আলমডাঙ্গার সুধী সমাজসহ সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐতিহ্যবাহী এ হাট রক্ষায় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এ সময় তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনকালে আলমডাঙ্গা পৌর পুরাতন মটরসাইকেল হাটের ইজারাদারদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আক্তার হোসেন জোয়ার্দ্দার, পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, সাবেক পৌর কমিশনার নাসির উদ্দিন প্রমুখ।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় ট্রাইব্রেকারের রোমাঞ্চে চ্যাম্পিয়ন বন্ডবিল বনফুল একাদশ
১ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় একাধিক মাদক মামলার আসামী শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী খালিদ গ্রেফতার : ইয়াবা ও মোটরসাইকেল উদ্ধার
১ ঘন্টা আগে
নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও নেতৃত্ব বিকাশে সমান সুযোগ নিশ্চিতের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের
৮ ঘন্টা আগে