সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
বিশ্বজুড়ে চরম সাইবার ঝুঁকি | বাংলাদেশে একাধিক ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ
অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রযুক্তি নির্ভরতা প্রতিনিয়ত বাড়লেও একই সঙ্গে বাড়ছে নিরাপত্তার বৈশ্বিক ঝুঁকি। বিশেষ করে সাইবার দুনিয়ায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ গ্রাহকদের তথ্যের সুরক্ষা চরম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। সম্প্রতি নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে বিশ্বজুড়ে বহু প্রতিষ্ঠানের সাইবার কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকিং ও সরকারি দপ্তরের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
জানা গেছে, ওয়েবসাইটের নেপথ্যে কাজ করা বহুল ব্যবহৃত ‘হাইপারটেক্সট প্রিপ্রসেসর’ বা পিএইচপি-র এক দশকেরও বেশি পুরনো একটি ত্রুটির কারণে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই সাইবার বিপর্যয় ঘটে। সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফ ও উইজ নামক দুটি সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা এই মারাত্মক ত্রুটিটি শনাক্ত করেন। এর পরই গত ২১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) পিএইচপি ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাৎক্ষণিক সতর্কতা জারি করে এবং ত্রুটি সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত ডেটাবেইস সুরক্ষিত রাখতে সিস্টেম বন্ধ রাখার পরামর্শ দেয়।
এই বৈশ্বিক সতর্কবার্তার প্রভাব পড়ে দেশের আর্থিক খাতেও। আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের মূল ওয়েবসাইট সাময়িক বন্ধ রাখে। পরবর্তীতে একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক এবং বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকও তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট বন্ধ রেখেছিল। এছাড়া ভূমিসেবার ওয়েবসাইটসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পোর্টালেও সাময়িক সেবা বিঘ্নিত হয়।
একই সময়ে প্রতিবেশী ভারতেও বড় সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (এসবিআই) গ্রাহকদের গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার দাবি করেছে ‘সিরিউসিম’ নামের একটি হ্যাকার দল, যা ব্যাংক কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে তথ্য ফাঁসের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত দেশে অন্তত ৬৮টি ডেটা ফাঁসের ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে ৩৬টি সরকারি ও ৩২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত হয়। গত বছর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁসের ঘটনাও ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছিল। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই সাইবার সুরক্ষায় কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি।