সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
সঞ্চয়পত্র নাকি ব্যাংক আমানত | কোন পথে হাঁটবেন সাধারণ বিনিয়োগকারী?
দেশের মধ্যবিত্ত ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থার জায়গা হিসেবে দীর্ঘকাল ধরে শীর্ষে ছিল সঞ্চয়পত্র। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকগুলোতে আমানতের সুদের হার বৃদ্ধি এবং সঞ্চয়পত্রের কঠোর নীতিমালার কারণে এই চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিনিয়োগের সেরা ঠিকানা কোনটি?
সুদের হারে ব্যাংকের টেক্কা
গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রানীতিতে কড়াকড়ি আরোপ করায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আমানত সংগ্রহে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বর্তমানে অনেক ব্যাংকই সাধারণ আমানতকারী বা ফিক্সড ডিপোজিটে (FDR) ১১.৫০% থেকে ১২.৫০% পর্যন্ত মুনাফা দিচ্ছে। অন্যদিকে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার এখনো ১১% থেকে ১২.১৭% এর আশেপাশে থাকলেও বিনিয়োগের সীমা এবং স্ল্যাবভিত্তিক মুনাফা হ্রাসের কারণে এর আকর্ষণ আগের চেয়ে কমেছে।
বিনিয়োগকারীরা কেন ব্যাংকের দিকে ঝুঁকছেন?
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সঞ্চয়পত্রের চেয়ে ব্যাংকে টাকা রাখার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা তিনটি বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন:
- সহজ শর্ত: সঞ্চয়পত্র কিনতে টিন (TIN) সার্টিফিকেট, আয়ের উৎস প্রমাণসহ নানা নথিপত্রের প্রয়োজন হয়। ব্যাংকের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ।
- উচ্চ মুনাফা: অনেক বেসরকারি ব্যাংক এখন সঞ্চয়পত্রের সমপরিমাণ বা তার চেয়েও বেশি মুনাফা অফার করছে।
- তারল্য সুবিধা: জরুরি প্রয়োজনে সঞ্চয়পত্র ভাঙাতে গেলে মুনাফা হারানোর ভয় থাকে এবং প্রক্রিয়াটিও সময়সাপেক্ষ। ব্যাংকের ডিপিএস বা এফডিআর সহজেই নগদায়ন করা যায়।
জীবনযাত্রার ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতির চাপ
অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমানের উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির (Inflation) বাজারে ১০-১২% মুনাফাও সাধারণ মানুষের জন্য পর্যাপ্ত নয়। যদি মুদ্রাস্ফীতির হার ১০% হয়, তবে বিনিয়োগকারীর প্রকৃত আয় থাকে মাত্র ১% বা ২%। এই পরিস্থিতিতে পেনশনার এবং ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীরা আয়ের উৎস ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।
সরকারের লক্ষ্য
সরকার বাজেট ঘাটতি মেটাতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে যে ঋণ (সঞ্চয়পত্র) নিত, তার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চায়। ব্যাংক খাত চাঙ্গা করতেই সঞ্চয়পত্রের সুদের হার খুব একটা বাড়ানো হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞ মতামত: "বিনিয়োগকারীদের এখন উচিত তাদের সঞ্চয় এক জায়গায় না রেখে ব্যাংক এবং সঞ্চয়পত্রে ভাগ করে রাখা। এতে ঝুঁকির ভারসাম্য বজায় থাকে এবং আপদকালীন সময়ে অর্থ উত্তোলন সহজ হয়।"
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় গাড়ি চেকিংয়ের নামে পুরাতন মোটরসাইকেল হাটে আসা ক্রেত-বিক্রেতাদের হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন
১ দিন আগে
নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও নেতৃত্ব বিকাশে সমান সুযোগ নিশ্চিতের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের
১ দিন আগে
সরকারি অনুমতি ছাড়াই রিফাইনারি নির্মাণ, অপরিশোধিত তেল আমদানির আবেদনে নতুন বিতর্ক
৩ দিন আগে