সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা | ইরানে মার্কিন হামলা, তিন দেশে তেহরানের পাল্টা আঘাত ও হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বর্তমানে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানে তিন দফায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে অবস্থিত আমেরিকান সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। একই সাথে তেহরান পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সপ্তাহের শুরুতে ওমানের জলসীমা দিয়ে যাওয়ার সময় তিনটি বাণিজ্যিক ট্যাংকারে হামলার মধ্য দিয়ে এই উত্তেজনার সূত্রপাত। এরপর সোমবার সাইপ্রাসের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ 'এমভি জিএফএস গ্যালাক্সি'র ইঞ্জিনকক্ষে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় জাহাজটি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নাবিকরা লাইফবোটে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। একজন নাবিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, 'এমভি জিএফএস গ্যালাক্সি' জাহাজটি বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে তার ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছিল, যার ফলে সেটিকে থামাতে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এই ঘটনার পরপরই ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে আইআরজিসি কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও গোলাবারুদের গুদাম, বাহরাইনের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। তবে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড আরও জানিয়েছে, তাদের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি, নৌঘাঁটি, গোলাবারুদের গুদাম এবং উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, গত মে মাস থেকে এ পর্যন্ত তারা ৮০০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি পার হতে সহায়তা করেছে।
এই সংঘাতের ফলে গত মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন। উভয় দেশই চুক্তি ভঙ্গের জন্য একে অপরকে দায়ী করছে। তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি বলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন। মধ্যস্থতাকারীরা নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে মার্কিন কিছু গণমাধ্যম দাবি করেছে, ইরান গোপনে ওয়াশিংটনকে জানিয়েছে যে ট্যাংকারে হামলাটি একটি ভুল ছিল এবং তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা একটি উগ্র গোষ্ঠী এই ঘটনার জন্য দায়ী। সূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স।