সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
গুরুতর অসুস্থ বিএনপির রফিকুল ইসলাম মিয়া, লাইফ সাপোর্টে স্থানান্তর
বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়াকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাত ৭টা ২০ মিনিটে তাকে লাইফ সাপোর্টে স্থানান্তরিত করা হয়। তার একান্ত রাজনৈতিক সচিব মোকসেদুর রহমান আবীর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আবীর জানান, স্যারের শারীরিক জটিলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিকালে লাইফ সাপোর্টে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হলেও, তার বড় ছেলে ড. মাসরুর রফিক মিয়ার লন্ডন থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর অপেক্ষায় ছিলেন তারা। বিমানযোগে ঢাকায় নেমে ড. মাসরুর রফিক মিয়া সরাসরি হাসপাতালে পিতার সান্নিধ্যে আসার পরই চিকিৎসকরা লাইফ সাপোর্ট প্রক্রিয়া শুরু করেন।
জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম মিয়ার কিডনি কার্যক্ষমতা হারাচ্ছে, রক্তে সংক্রমণ ধরা পড়েছে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্নায়ুতাত্ত্বিক সমস্যায় ভুগছেন। এসবসহ নানা জটিলতায় তিনি আক্রান্ত। গত ২১ জুলাই তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং আইসিইউ সুবিধা সম্পন্ন কেবিনে তার চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।
বর্তমানে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফরিদ হোসেনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন। আবীর আরও জানান, তার দুই পুত্র ড. মাসরুর রফিক মিয়া এবং শাহাপুর রফিক মিয়া দুজনেই বিদেশে বসবাস করেন। পিতার অসুস্থতার খবর পেয়ে তারা দুজনেই দেশের পথে রওনা হয়েছিলেন। রফিকুল ইসলাম মিয়ার দ্রুত আরোগ্যের জন্য তার পরিবার দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।
৮৫ বছর বয়সী রফিকুল ইসলাম মিয়া ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার সরকারের গৃহায়ন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওয়ান-ইলেভেনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হলে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া তার আইনজীবী হিসেবে কাজ করেন। গত বছরের ২রা মার্চ তার সহধর্মিনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য শাহিদা রফিক ইন্তেকাল করেন।