সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
শামসুন্নাহার হল ট্র্যাজেডির ২৪ বছর | বিচারহীনতার অবসানে ছাত্রপক্ষের দাবি
২০০২ সালের ২৩শে জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলে সংঘটিত কলঙ্কজনক ট্র্যাজেডির ২৪তম বার্ষিকীতে জড়িতদের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। সংগঠনটি জোর দিয়ে বলেছে যে, এই ঘটনার বিচারহীনতা দেশের শিক্ষাঙ্গনে দমন-পীড়নের সংস্কৃতিকে আরও পাকাপোক্ত করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সংগঠনের আহ্বায়ক খালিদ সাইফুল্লাহ জিহাদ এবং সদস্য সচিব জুবায়ের হাসিবের সই করা এক যৌথ বিবৃতিতে এই দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়। বিবৃতিতে ছাত্রপক্ষ নেতারা উল্লেখ করেন, ২৩শে জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক কালো ও কলঙ্কময় অধ্যায়। ২০০২ সালের এই দিনে শামসুন্নাহার হলে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অভিযান, হামলা ও লাঞ্ছনা ছিল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের এক জঘন্য উদাহরণ। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন, শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং নারীর মর্যাদার উপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বিবেচিত। তাদের দাবি অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর নারী শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত সবচেয়ে বড় নির্যাতনের ঘটনা এটি।
ছাত্রপক্ষের নেতারা আরও বলেছেন, দুই দশকেরও অধিক সময় পার হয়ে গেলেও এই ঘটনার সম্পূর্ণ বিচার না হওয়ায় বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হয়েছে। ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিবর্গ বা রাজনৈতিক আশ্রয়ে অপরাধীরা বারবার দায়মুক্তি পাওয়ায় শিক্ষাঙ্গনে নির্যাতন ও নিপীড়নের সংস্কৃতি আরও গভীর এবং প্রাতিষ্ঠানিক আকার ধারণ করেছে। বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, প্রশাসনিক পদ বা ক্ষমতার প্রভাব আইনের ঊর্ধ্বে হতে পারে না। তাই শামসুন্নাহার হল ট্র্যাজেডির সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য, তৎকালীন শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং ছাত্রদল নেত্রীদের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে হবে।
ছাত্রপক্ষ এই ঘটনায় চার দফা দাবি উত্থাপন করেছে: ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন, দোষীদের যথাযথ বিচার, ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ প্রদান, রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা এবং এই ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান। এছাড়াও, ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রশক্তির অপব্যবহার বন্ধে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন এবং দ্রুততম সময়ে ক্যাম্পাস চার্টার বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বিবৃতিতে নেতারা দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ইতিহাসকে চাপা দিয়ে নয়, বরং সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব। শামসুন্নাহার হল ট্র্যাজেডির বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন ও দাবি অব্যাহত থাকবে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় জাপানে পড়াশোনা, চাকরি ও স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন পূরণে ড্রিম স্টাডি অ্যাব্রোডের শাখা অফিস উদ্বোধন
৮ ঘন্টা আগে
অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষা ডিসেম্বরে, থাকছে দ্বিতীয়বার আবেদনের সুযোগ
১১ ঘন্টা আগে
সাধারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
১ দিন আগে