সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে মামলা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি | বাদীর ওপর নৃশংস হামলা, হুমকির মুখে পরিবার
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে একটি বিচারাধীন মামলা তুলে নিতে অস্বীকার করায় মিজানুর রহমান সোনা (৬০) নামের এক বৃদ্ধ সন্ত্রাসীদের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় দীর্ঘ চিকিৎসার পরও তিনি নিজ বাড়িতে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না, কারণ মামলার বিবাদীরা তাকে ও তার পরিবারকে লাগাতার প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলেছে।
গত ২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ৫নং কাপাশহাটিয়া ইউনিয়নের কিসমত ঘোড়াগাছা গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহত মিজানুর রহমান, যিনি একই গ্রামের মৃত আবুল হোসেন মিয়ার ছেলে, ঘটনার রাতেই পুলিশের সহায়তায় হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। সেখানে ছয়দিন চিকিৎসা গ্রহণের পর পায়ের ক্ষত না শুকানোয় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। তেরো দিনের নিবিড় চিকিৎসা শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকা মেডিকেল থেকে ছাড়া পেলেও তার ছেলের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন এবং গ্রামে ফিরতে পারছেন না।
মিজানুর রহমান অভিযোগ করেছেন যে, এতো দীর্ঘ চিকিৎসার পরও তিনি গ্রামে ফিরতে পারছেন না, কারণ হামলাকারীরা তাকে জানে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে। তার দাবি, স্থানীয় থানার ওসি সাহেব সবকিছু জানার পরও 'রাজনৈতিক চাপের' অজুহাত দেখিয়ে মামলা নিতে গড়িমসি করছেন। এদিকে, সন্ত্রাসীরা তার পরিবারকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য ক্রমাগত ভয়ভীতি দেখিয়ে যাচ্ছে।
থানার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিজানুর রহমান সোনা কুল্ল্যগাছা বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। কিসমত ঘোড়াগাছা গ্রামের পিন্টুর দোকানের সামনে পৌঁছালে নাজির হোসেনের ছেলে বুরহান তার সাইকেলের পথরোধ করে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেয়। মিজানুর রহমান এতে রাজি না হওয়ায় দোকানে বসে থাকা মোর্জেম হোসেনের ছেলে কনক, হাবিব, মনোয়ার ও রাব্বুলসহ আরও কয়েকজন, মশিয়ারের নেতৃত্বে তাকে লাঠি, রড ও হাতুড়ি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। তার আত্মচিৎকারে পাশের কয়েকজন ছুটে এসে তাকে রক্ষা করেন। হামলাকারীরা সেসময় বারবার হুমকি দেয় যে, মামলা তুলে না নিলে পরবর্তীতে তাকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে।
ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিবাদীরা মিজানুর রহমান সোনার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক লুটপাট, ভাঙচুর ও মারধর করেছিল। সেই ঘটনায় মিজানুর রহমান বাদী হয়ে হরিণাকুণ্ডু থানায় একটি জি আর মামলা (নং ১৯৭/২০২৪) দায়ের করেন, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। এই বিচারাধীন মামলাটি আদালত থেকে তুলে নেওয়ার জন্য সংঘবদ্ধ চক্রটি নিয়মিত তার বাড়ির আশেপাশে গালিগালাজ করে, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং হত্যার হুমকি দেয়।
প্রাণহানির ভয়ে মিজানুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হতে পারেন না। তার ছোট ভাই শাহীন কবির ঝলক সন্ত্রাসীদের ভয়ে গত দুই বছর ধরে বাড়িছাড়া রয়েছেন। গত ২ সেপ্টেম্বরের হামলা এই দীর্ঘদিনের হুমকিরই সর্বশেষ ফল।
আহত মিজানুর রহমানকে দ্রুত হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যেতে চাইলে বিবাদীরা তাতে বাধা দেয়। এমনকি ভ্যান বা ইজি বাইক চালকরাও ভয়ে তাকে হাসপাতালে নিতে রাজি হয়নি। পরে হরিণাকুণ্ডু থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ জুলফিকার আলীকে বিষয়টি জানালে তিনি পুলিশ পাঠিয়ে মিজানুরকে হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করেন বলে আহতের স্বজনরা জানিয়েছেন।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে হরিণাকুণ্ডু থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুলফিকার আলী বলেন, “আমি বিষয়টি শোনার সাথে সাথেই পুলিশ পাঠিয়েছিলাম এবং ভিকটিমকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলাম।” তবে এসব ঘটনার পরেও 'অদৃশ্য কারণে' ওসি মামলা নিতে গড়িমসি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “বসাবসি করে মিমাংসা করার চেষ্টা করছি।”