সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
ঝিনাইদহে ৪০ কোটি টাকার সড়ক সংস্কারে চরম অনিয়ম | আস্ত ইট দিয়ে চলছে কাজ, কাজ বন্ধের নির্দেশ
ঝিনাইদহ শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গৃহীত ৪০ কোটি টাকার একটি বড় সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধীনে নির্মাণাধীন সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের ভিত্তিস্তরে (সাববেজ) সিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত খোয়া ও পাথর দেওয়ার কথা থাকলেও, তার পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে আস্ত ইট এবং ধুলোবালি। এমন পরিস্থিতিতে সওজের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাসান আল মামুনের পরোক্ষ প্রশ্রয়েই ঠিকাদার বাবু পাটোয়ারী এই অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত রবিবার দুপুরে সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে অনিয়মের এই চিত্র ধরা পড়ে। সেখানে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে তড়িঘড়ি করে ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে বিছানো আস্ত ইটগুলো তুলে ফেলার চেষ্টা করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে আরাপপুর মোড় হয়ে হামদাহ বাইপাস পর্যন্ত সাড়ে ৪ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করার জন্য দুটি প্যাকেজে মোট ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী ১৮ ফুট চওড়া রাস্তাটিকে ৩৪ ফুটে উন্নীত করা হচ্ছে, যার মধ্যে ১৬ কোটি টাকায় ‘রিজিড পেভমেন্ট’ এবং ২৪ কোটি টাকায় ‘ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট’ নির্মিত হওয়ার কথা। মূল কাজটি পেয়েছে ‘হাসান টেকনো’ ও ‘মাসুদ হাইটেক’ নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে তারা নিজেরা কাজ না করে ‘এসআর এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক বাবু পাটোয়ারীর কাছে পুরো কাজটি হস্তান্তর করে দেয়।
এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হান্নান, ওলিয়ার রহমান ও সবুজ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শুরু থেকেই এই মেগা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম করা হচ্ছে। সাববেজে কোনো বালুর স্তর দেওয়া হয়নি, উল্টো সরাসরি আস্ত ইট ও ধুলাবালি ফেলে রোলার চালানো হচ্ছে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মানুযায়ী তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) হাসান আল মামুনের সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে থাকার কথা থাকলেও তিনি ঠিকাদারের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অনুপস্থিত থাকেন। পরিদর্শনের সময়ও তাকে সাইটে পাওয়া যায়নি।
এদিকে সাংবাদিকদের কাছ থেকে খবর পেয়ে বিকালে ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান ঝিনাইদহ সওজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জিয়া উদ্দীন ও নির্বাহী প্রকৌশলী তুহিন আল মামুন। কাজের এমন বেহাল দশা ও ভেকু দিয়ে ইট তোলার দৃশ্য দেখে তারা চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জিয়া উদ্দীন বলেন, “এই কাজের মান একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। সঠিক গ্রেডের খোয়ার জায়গায় আস্ত ইট ব্যবহার করা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
নির্বাহী প্রকৌশলী তুহিন আল মামুন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে জানান, “আস্ত ইট এবং ধুলোবালি দিয়ে সড়ক তৈরির কোনো নিয়ম নেই। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছি। নিয়মানুযায়ী শিডিউল মেনে নতুন করে সঠিক গ্রেডের খোয়া ও বালির সাববেজ তৈরি না করা পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো বিল পাস করা হবে না।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাসুদ হাইটেক বা হাসান টেকনোর কোনো প্রতিনিধিকে পাওয়া যায়নি। তবে সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসআর ইন্টারপ্রাইজের সাইট ম্যানেজার মাসুদ ও সুপারভাইজার লিটন দাবি করেন, যানজট এড়াতে সড়কটি কিছুটা প্রশস্ত করতে সাময়িকভাবে এই কাজ করা হয়েছে। এটি স্থায়ী কাজ নয় এবং মূল কাজ শুরুর আগে এগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে।