সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
শতবর্ষী মাহাথির মোহাম্মদ | আধুনিক মালয়েশিয়ার স্বপ্নদ্রষ্টা ও একবিংশ শতাব্দীর এশীয় জাদুকর
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ, যিনি 'আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার' হিসেবে পরিচিত, আজ ১০ জুলাই ১০১ বছরে পদার্পণ করেছেন। গত বছরই তিনি শতবর্ষের এই অসাধারণ মাইলফলকটি স্পর্শ করেছিলেন। একজন সাধারণ মানুষের জীবনে ১০১ বছর কেবলই দীর্ঘায়ুর একটি সংখ্যা হলেও, মাহাথিরের ক্ষেত্রে বয়সের এই হিসাব তার ঐতিহাসিক ও দূরদর্শী কর্মের তুলনায় নিতান্তই একটি উপলক্ষ মাত্র। বরং তার অতুলনীয় নেতৃত্ব, উন্নয়ন ভাবনা এবং কর্মের মাঝেই তার প্রকৃত পরিচয় নিহিত।
একজন সাধারণ চিকিৎসক থেকে তিনি হয়ে উঠেছেন একটি আধুনিক দেশের প্রধান স্থপতি। দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে মালয়েশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ শাসন করেছেন এই নেতা। প্রথম দফায় একটানা ২২ বছর (১৯৮১ থেকে ২০০৩) এবং দ্বিতীয় দফায় দুই বছর (২০১৮ থেকে ২০২০) তিনি মালয়েশিয়ার নেতৃত্ব দেন। এই দীর্ঘ শাসনামলে তিনি কৃষিনির্ভর একটি রাষ্ট্রকে শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করেন। তার হাত ধরেই মালয়েশিয়ার রাজনীতিও নতুনভাবে গঠিত হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামোসহ প্রায় সব খাতে অভূতপূর্ব উন্নয়নের কারণেই তাকে 'আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার' বলা হয়।
তবে প্রধানমন্ত্রী বা একজন রাজনীতিক হিসেবে মাহাথির সমালোচনা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিলেন না। তার শাসনব্যবস্থা, রাজনৈতিক দর্শন, রাষ্ট্রীয় নীতি এবং ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতি নিয়ে দেশ-বিদেশে আজও ব্যাপক বিতর্ক ও আলোচনা বিদ্যমান।
চিকিৎসক থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠার পথ
১৯২৫ সালের ১০ জুলাই, মালয়েশিয়ার কেদাহ রাজ্যের আলোর সেটারে এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে মাহাথির বিন মোহাম্মদ জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক এবং মাহাথির ছিলেন মা-বাবার ১০ সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ।
ছাত্রজীবন থেকেই মাহাথির ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও মেধাবী। তিনি চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে ডিগ্রি অর্জনের পর চিকিৎসক হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত সরকারি সেবা দেওয়ার পর তিনি পদত্যাগ করে নিজ এলাকায় একটি ব্যক্তিগত ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেন। এই ক্লিনিক থেকেই তিনি 'ডা. এম' নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
পরবর্তীকালে একাধিক সাক্ষাৎকারে মাহাথির উল্লেখ করেছেন যে, চিকিৎসাবিদ্যায় অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা রাজনীতিতে আরও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হন—এই বিশ্বাসই তাকে রাজনীতিতে আসতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
রাজনৈতিক হাতেখড়ি ও প্রথম প্রতিবন্ধকতা
মাত্র ২১ বছর বয়সে, ১৯৪৬ সালে মাহাথিরের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ঘটে। তিনি ‘ইউনাইটেড মালয়াস ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন’ (ইউএমএনও)-তে যোগ দেন। এই দলের মনোনয়নেই ১৯৬৪ সালে তিনি প্রথমবারের মতো পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন।
তবে তার পথ মসৃণ ছিল না। মালয় সম্প্রদায়ের স্বার্থে অত্যন্ত দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার কারণে ১৯৬৯ সালে মাহাথিরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং তিনি পার্লামেন্টের আসনও হারান।
কিন্তু এখানেই ডা. এম-এর রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি ঘটেনি। ১৯৭২ সালে তাকে ইউএমএনও-তে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। ১৯৭৩ সালে তিনি দলের সুপ্রিম কাউন্সিলের সদস্য এবং একই বছর সিনেটর হিসেবে নিযুক্ত হন। এরপর ১৯৭৪ সালে মাহাথির আবার পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন এবং মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়ে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
টানা ২২ বছরের স্বর্ণযুগ
১৯৭৬ সালে মাহাথির উপপ্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন। এরপর ১৯৮১ সালের জুনে তিনি ইউএমএনও-এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং একই বছরের জুলাইয়ে ৫৬ বছর বয়সে মালয়েশিয়ার চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এভাবেই শুরু হয় টানা ২২ বছরের এক অবিচ্ছিন্ন ও ঐতিহাসিক অধ্যায়।
ক্ষমতায় এসেই মাহাথির মালয়েশিয়ার অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তরের পথে এগিয়ে নেন। তিনি শিল্পায়ন, রপ্তানিমুখী উৎপাদন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ জোর দেন। তার দূরদর্শী নেতৃত্বে ইলেকট্রনিক পণ্য, স্টিল ও অটোমোবাইল শিল্পে মালয়েশিয়ার অভাবনীয় অগ্রগতি ঘটে।
আজকের বিখ্যাত পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার, কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পুত্রাজায়া প্রশাসনিক নগরী এবং নর্থ-সাউথ এক্সপ্রেসওয়ের মতো মেগা প্রকল্পগুলো মাহাথিরের আমলেরই জীবন্ত প্রতীক হয়ে ওঠে। তার নেতৃত্বে মালয়েশিয়া অল্প সময়ের মধ্যেই একটি বিশ্বমুখী রাষ্ট্রের কাতারে চলে আসে। ১৯৯১ সালে ঘোষিত ‘ভিশন ২০২০’ ছিল মাহাথিরের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা, যার লক্ষ্য ছিল মালয়েশিয়াকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তর করা। সামগ্রিকভাবে, তার নেতৃত্বে মালয়েশিয়া এশিয়ার নতুন অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়।
মাহাথিরের সময়ে মালয়েশিয়ায় মধ্যবিত্ত শ্রেণি সম্প্রসারিত হয়, শিক্ষার হার বৃদ্ধি পায়, দারিদ্র্যের হার কমে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে মানুষের মাথাপিছু আয় ও গড় আয়ুও বাড়ে। সামগ্রিক সমৃদ্ধির মাধ্যমে তিনি দেশের জাতিগত বিভাজন কমানোর চেষ্টা করেছিলেন, যা তাকে পুরো এশিয়ার এক অনুকরণীয় রাজনৈতিক নেতায় পরিণত করে।
উন্নয়ন বনাম কর্তৃত্ববাদ: মুদ্রার ওপিঠ
মাহাথিরের দীর্ঘ শাসনকাল মালয়েশিয়াকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দিয়েছিল, যা দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছিল। তবে একই সময়ে তার শাসনামল কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার অভিযোগে জর্জরিত ছিল। সমালোচকরা মাহাথিরকে 'কর্তৃত্ববাদী শাসক' হিসেবে অভিহিত করেন। ১৯৮৭ সালের 'অপারেশন লালাং' এবং ১৯৮৮ সালের বিচার বিভাগীয় সংকট তার শাসনামলের অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। ভিন্নমত দমন, গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে বারবার উঠেছে। সমালোচকরা বলেন, মাহাথিরের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ানো সব ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে তিনি কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ তারই একসময়ের শিষ্য এবং মালয়েশিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। আনোয়ার যখন মন্ত্রিসভায় ছিলেন, তখন তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৩ সালে তিনি উপপ্রধানমন্ত্রী হন। মাহাথিরের সঙ্গে 'পিতা-পুত্রের' সম্পর্কের কথা আনোয়ার নিজেও প্রকাশ্যে বলতেন এবং সবাই ভাবত তিনিই মাহাথিরের সম্ভাব্য উত্তরসূরি।
১৯৯৭ সালের মে মাসে মাহাথির যখন দুই মাসের ছুটিতে যান, তখন তিনি আনোয়ারকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী করেন। কিন্তু মাহাথিরের অনুপস্থিতিতে আনোয়ার একাধিক মৌলিক পদক্ষেপ নেন, যা ছিল মাহাথিরের নীতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে শাসনব্যবস্থা নিয়ে পরস্পরবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে মাহাথিরের সঙ্গে আনোয়ারের সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে। ১৯৯৮ সালে আনোয়ারকে উপপ্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে বরখাস্ত করেন মাহাথির। পরে সমকামিতা ও দুর্নীতির মামলায় আনোয়ারের কারাদণ্ড হয়। আনোয়ার এই অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করলেও সমালোচকদের মতে, আনোয়ারকে কারাগারে পাঠানোর পেছনে মাহাথিরের হাত ছিল। অবশ্য মাহাথির তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছেন।
অবসর ভেঙে ৯২ বছরে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন
২০০৩ সালের অক্টোবরে মাহাথির স্বেচ্ছায় প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সমালোচকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, “আমাকে একনায়ক হিসেবে অভিহিত করা হয়। কিন্তু একনায়কেরা কি কখনো পদত্যাগ করে? যদি এমন কোনো একনায়ক কেউ দেখাতে পারে, যে নিজে থেকে পদ ছাড়েন, তাহলে তাকেও একনায়ক বলা যাবে।” তবে একই সাক্ষাৎকারে মাহাথির আক্ষেপ করে বলেছিলেন, তার অন্যতম বড় আফসোস হলো ২০০৩ সালে ৭৮ বছর বয়সে অবসর নেওয়া।
অবসরে গেলেও মাহাথির রাজনীতি থেকে পুরোপুরি দূরে থাকেননি। তিনি রাজনীতি নিয়ে কথা বলেছেন, নিজের উত্তরসূরিদের সমালোচনা করেছেন এবং সরকারের প্রশাসনিক-অর্থনৈতিক ব্যর্থতা ও দুর্নীতি নিয়ে সবসময় সরব থেকেছেন। এর মাঝে হার্ট অ্যাটাকের জেরে ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে মাহাথিরের ‘বাইপাস সার্জারি’ হয় (অবশ্য এর আগেও ১৯৮৯ সালে তার একবার বাইপাস সার্জারি হয়েছিল)। এরপর ২০০৮ সালের মে মাসে মালয়েশিয়ার তৎকালীন সরকার ঘোষণা দেয়, তারা ৮০ ও ৯০-এর দশকে মাহাথির প্রশাসনের আমলের দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে।
তবে গল্পের সবচেয়ে বড় মোড় আসে এর পর। মালয়েশিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের ব্যাপক দুর্নীতি-সংশ্লিষ্টতার জেরে, অবসর গ্রহণের দীর্ঘ ১৫ বছর পর মাহাথির আবার সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। তখন তার বয়স ছিল ৯২ বছর! নিজ দলের দুর্নীতিগ্রস্ত প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে ক্ষমতাচ্যুত করতে উদ্যোগী হয়ে তিনি পুরোনো সব বিরোধ ভুলে হাত মেলান সেই আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে।
বিরোধীদলীয় ‘পাকাতান হারাপান’ নামের এই জোট ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে মাহাথিরকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে এবং ২০১৮ সালের ৯ মে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে এই জোট জয়ী হয়। ১০ মে বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মাহাথির, তখন তার বয়স ছিল ৯৪ বছর।
নতুন দ্বন্দ্ব ও বিদায়বেলা
নির্বাচনী জোটের শর্তের অংশ হিসেবে মাহাথিরের দুই বছর প্রধানমন্ত্রীর পদে থেকে ক্ষমতা আনোয়ারের হাতে ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় ঘনিয়ে আসতেই তাদের মধ্যে নতুন করে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। প্রতিশ্রুত সময়সীমার মাত্র দুই মাস আগে, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে মাহাথির হঠাৎ পদত্যাগ করেন। এতে দুই বছরের মাথায় পাকাতান হারাপান জোট সরকারের পতন ঘটে।
সেই সুযোগে মাহাথিরের আরেক শিষ্য ও তার দলের নেতা মুহিউদ্দিন ইয়াসিন বিরোধী দল ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের সঙ্গে জোট বেঁধে ক্ষমতায় আসেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে মাহাথির তার নিজের সংসদীয় আসনটি হারান; তিনি মাত্র ৭ শতাংশ ভোট পান। ১৯৬৯ সালের পর এই প্রথম তিনি কোনো নির্বাচনে পরাজিত হন।
শতবর্ষী লড়াকু সৈনিকের উত্তরাধিকার
করোনা মহামারিকালে এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে ২০২২ সালের আগস্টে মাহাথির হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি, যার কারণে তাকে বেশ কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। তবুও মাহাথির সক্রিয় ও কর্মব্যস্ত। এই বয়সেও তার কাজ থেমে নেই। তার ভাষায়, 'কাজই হলো সবচেয়ে ভালো ওষুধ।' শেষ বয়সে ক্ষমতায় না থাকলেও মাহাথির সব সময়ই আলোচনায় এবং অহরহ সংবাদের শিরোনাম হন। তিনি বলেন, তার একটাই নেশা— 'মৃত্যুর আগপর্যন্ত, যতটা পারি, আমি মালয়েশিয়ার উন্নয়নে অবদান রাখতে চাই।'
চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাসায় ব্যায়াম করার সময় পড়ে গিয়ে আহত হন মাহাথির। তার মাথায় আঘাত লাগে, নিতম্বের হাড়ে ফ্র্যাকচার হয় এবং নিতম্ব-সন্ধিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত এপ্রিলের মাঝামাঝি একটি পডকাস্টে নিজের শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেছিলেন, 'আমি এখন দাঁড়াতে পারি, তবে পা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। মনে হয়, যেন আমার কোনো পা নেই।'
বয়স যতই হোক, আর শরীরের অবস্থা যেমনই থাকুক, মাহাথির এখনো তার সক্রিয়তা বজায় রেখেছেন। এমনকি দেশ-বিদেশের রাজনীতি নিয়েও তিনি কথা বলছেন। মাহাথির একটি দীর্ঘ, পূর্ণ, সফল ও ঘটনাবহুল জীবনের অধিকারী রাজনীতিক। তার দৃষ্টিভঙ্গি, নীতি, আদর্শ ও উত্তরাধিকার নিঃসন্দেহে মালয়েশিয়ার রাজনীতি-অর্থনীতি-সমাজে বহু বছর প্রভাব বিস্তার করে যাবে।
তবে মাহাথির নিজে এই বিষয় নিয়ে কখনো ভাবেননি। তার ভাষায়, 'মানুষ আমাকে কীভাবে মনে রাখবে, তা নিয়ে আমার কোনো চিন্তা নেই।' মাহাথিরের এমন চিন্তা না থাকলেও মালয়েশিয়া তো বটেই, পুরো এশিয়া, এমনকি এশিয়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার হিসেবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তিনি অধীত হবেন।