সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
মিরসরাই ট্র্যাজেডির ১৫ বছর | শোকাবহ দিনটি স্মরণে নানা আয়োজন, আজও কাঁদে স্বজনরা
আগামীকাল ১১ জুলাই, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক শোকাবহ দিন। আজ থেকে ১৫ বছর আগে ২০১১ সালের এই দিনে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একসঙ্গে ঝরে গিয়েছিল ৪২ জন শিক্ষার্থীসহ মোট ৪৫টি তাজা প্রাণ। ফুটবল খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে মিনি ট্রাক উল্টে এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির জন্ম হয়, যা ‘মিরসরাই ট্র্যাজেডি’ নামে পরিচিত। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতি বছর এই দিনটিকে গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানাতে ছুটে এসেছিলেন। ফলে দুর্ঘটনাটি দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। সেই থেকে ১১ জুলাই মিরসরাইবাসীর কাছে এক চাপা কান্না ও হাহাকারের দিন হয়ে আছে।
বরাবরের মতো এবারও দিবসটি পালন উপলক্ষে আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পবিত্র কোরআন খতম, নিহতদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শোকসভা এবং বিশেষ দোয়া মাহফিল। এসব অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া নিহত শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত থাকবেন।
এক নিহত শিক্ষার্থীর বাবা নিজাম উদ্দিন গভীর বেদনাহত কণ্ঠে বলেন, "চোখের সামনে দেখতে দেখতে আদরের সন্তানকে হারানোর পনেরোটি বছর হয়ে গেল। স্বপ্ন ছিল তাকে ডাক্তার বানাবো, কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।"
আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা আক্তার বলেন, "ক্যালেন্ডারে প্রতি বছর ১১ জুলাই তারিখটি ফিরে আসে, কিন্তু মিরসরাইবাসীর কাছে এটি ফিরে আসে গভীর হাহাকার ও চাপা কান্না নিয়ে। এবারও স্কুল কর্তৃপক্ষ দিবসটি পালনে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে। সকাল ১০টায় নিহতদের স্মরণে নির্মিত 'আবেগ' ও 'অন্তিম' স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে। এরপর বেলা ১১টায় স্কুলের হলরুমে এক শোকসভা অনুষ্ঠিত হবে।"
প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১১ জুলাই মিরসরাই স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলা শেষে প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থী একটি মিনি ট্রাকে করে আবুতোরাবের দিকে ফিরছিলেন। বড়তাকিয়া-আবুতোরাব সড়কের সৈদালী এলাকায় পৌঁছালে দ্রুতগামী ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের একটি ডোবায় উল্টে যায়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ের ৩৪ জন, আবুতোরাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪ জন, আবুতোরাব ফাজিল মাদ্রাসার ২ জন, প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজের ২ জন শিক্ষার্থীসহ মোট ৪২ জন ছাত্র এবং একজন অভিভাবক ও ২ জন যুবক প্রাণ হারান। মোট ৪৫ জনের জীবনাবসান ঘটে। নিহতদের স্মরণে সে বছরই আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ের প্রবেশপথে 'আবেগ' এবং দুর্ঘটনাস্থলে 'অন্তিম' নামে দুটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয়।