সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
রাজনীতিতে ‘হাইব্রিড’ সংস্কৃতি ও নেতা হওয়ার সংক্ষিপ্ত পথ
বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম বা মেধার চেয়ে ভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে দ্রুত নেতা হয়ে ওঠার এক নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কোনো রাজনৈতিক ত্যাগ কিংবা যোগ্যতা ছাড়াই সঠিক সময়ে প্রভাবশালী কারও আস্থাভাজন হতে পারলেই রাজনীতিতে সফল হওয়া সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানের রাজনীতি পর্যবেক্ষণ করলে এমন তিনটি প্রধান স্তরের নেতৃত্বের বিকাশ চোখে পড়ে।
প্রথম স্তরে রয়েছেন এমন ব্যক্তিরা, যাদের প্রধান মূলধন হলো পূর্ব পরিচিতি, অর্থ বা পারিবারিক প্রভাব। বিনোদন জগতের ক্যারিয়ারে ভাটা পড়লে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া, শিল্পপতির সন্তানদের পারিবারিক পরিচয়ে রাজনীতিতে আসা, প্রভাবশালী নেতার উত্তরাধিকারী হিসেবে সুবিধা নেওয়া কিংবা অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের রাজনীতির মাঠে পদার্পণ এখন সাধারণ বিষয়। দীর্ঘদিনের কোনো ত্যাগ না থাকলেও পূর্ব পরিচয় ও ক্ষমতার প্রভাব কাজে লাগিয়ে তারা সহজেই শীর্ষস্থানে পৌঁছে যাচ্ছেন।
দ্বিতীয় স্তরে দেখা যায় এমন একশ্রেণির মানুষদের, যাদের নিজস্ব যোগ্যতা কিংবা রাজনৈতিক ঐতিহ্য নেই। তবে অন্ধ তোষামোদকে তারা রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়েছেন। শীর্ষ নেতাদের ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকা, পরিস্থিতি বুঝে সুর বদল করা এবং অন্ধ আনুগত্য প্রদর্শন করাই এদের মূল দক্ষতা। মিছিলের পেছনের সারির কর্মী থেকে তোষামোদের জোরে একসময় তারাই মঞ্চের মূল বক্তা বা জনপ্রতিনিধি হয়ে ওঠেন।
অন্যদিকে, তৃতীয় স্তরে রয়েছে সেইসব যোগ্য ও স্বপ্নবাজ নেতাকর্মীরা, যারা রাজনীতির মূল আদর্শে বিশ্বাসী। তারা শিক্ষিত, দূরদর্শী এবং দলের সংকটকালে মাঠে থেকেছেন। কিন্তু তোষামোদি করতে না পারা, রাজনীতিকে ব্যবসার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ না করা কিংবা রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় না পাওয়ার কারণে তারা রাজনীতির মাঠে পিছিয়ে পড়ছেন এবং একপর্যায়ে রাজনীতি থেকে দূরে সরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
রাজনীতিতে এই ধরনের ‘হাইব্রিড’ বা সুবিধাবাদী নেতৃত্বের আধিপত্য বাড়তে থাকলে মেধা, নীতি ও দূরদর্শিতার জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়বে। এভাবে অন্ধ আনুগত্য ও অর্থের জোরে নেতৃত্ব তৈরি হতে থাকলে দলগুলোর পাশাপাশি পুরো রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থায় মারাত্মক সংকট দেখা দিতে পারে।