সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
ঝিনাইদহের ঠিকাদার সুলতান হত্যা | ১৩ বছর পর প্রধান আসামি চঞ্চল গ্রেপ্তার
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ছোট কামারকুন্ডু গ্রামের ঠিকাদার খন্দকার সুলতান আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি চঞ্চল বিশ্বাসকে দীর্ঘ ১৩ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে ঢাকার আশুলিয়া থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত চঞ্চল শহরের ভুটিয়ারগাতী এলাকার জহর বিশ্বাসের ছেলে।
ঝিনাইদহ সিআইডি’র পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) আখতার হোসেন মিনা জানান, নিহত ঠিকাদার সুলতান আহমেদের পুলিশ লাইন্সের সামনে একটি গ্রিলের দোকান ছিল এবং তিনি ঠিকাদারি ব্যবসাও করতেন। চুয়াডাঙ্গার একটি ঠিকাদারি কাজের পাওনা টাকা নিয়ে চঞ্চলের সঙ্গে সুলতানের বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরেই ২০১৩ সালের ২৯ জুন সন্ধ্যায় চঞ্চল মোবাইলে সুলতানকে ডেকে নেয়। এর পরদিন, ৩০ জুন সকালে উদয়পুর গ্রামের মাঠ থেকে সুলতানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী ইয়াসমিন সুলতানা বাদী হয়ে চঞ্চলকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই চঞ্চল বিশ্বাস পলাতক ছিল।
হত্যা মামলার তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৭ জুন পুলিশ চঞ্চল ও জাহাঙ্গীর আলম নামে দু’জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। তবে, আসামিরা উচ্চ আদালতে আপিল করে মামলার বিচার ও তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়। গত মাসে সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ার পর আদালত মামলাটির তদন্তের ভার সিআইডিকে দেয়।
পুলিশ পরিদর্শক আখতার হোসেন মিনা আরও জানান, মামলার তদন্তভার হাতে পাওয়ার পর সিআইডি তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামি চঞ্চলের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। চঞ্চল আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার আলম মার্কেট এলাকায় নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘সুজা বিশ্বাস’ পরিচয়ে ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত অপর আসামি জাহাঙ্গীর আলম ২০২২ সালে মৃত্যুবরণ করেছেন। মামলার তদন্ত এখনো চলছে এবং নতুন করে কেউ অভিযুক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। গ্রেপ্তারকৃত চঞ্চলকে ঝিনাইদহ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।