সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
মেহেরপুরে এইচএসসি পরীক্ষায় চরম বিপর্যয় | পাসের হার ৪০.৫৫ শতাংশ, জিপিএ-৫ ৪২
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে মেহেরপুর জেলায় বড় ধরনের বিপর্যয় লক্ষ্য করা গেছে। জেলার ১৮টি কলেজ থেকে মোট ৩ হাজার ৫৯২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে পাস করতে পেরেছে মাত্র ১ হাজার ৪৫৭ জন। এতে জেলায় সার্বিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪০.৫৫ শতাংশ। পুরো জেলায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সর্বসাকুল্যে ৪২ জন শিক্ষার্থী।
ফলাফল বিশ্লেষণে জানা যায়, পাসের হারের দিক দিয়ে মেহেরপুর জেলায় সেরা সাফল্য দেখিয়েছে গাংনীর সন্ধানী স্কুল অ্যান্ড কলেজ। বিপরীতে চরম ব্যর্থতার পরিচায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে মড়কা কলেজ; যেখান থেকে অংশ নেওয়া ২ পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য শতাংশ।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাফল্যে জেলায় প্রথম স্থানে থাকা সন্ধানী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৮৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে ৮৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, যার মধ্যে ১২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাদের পাসের হার ৯৬.৫৯ শতাংশ। অন্যদিকে জিপিএ-৫ পাওয়ার দিক দিয়ে শীর্ষে রয়েছে মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে সর্বোচ্চ ২০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ লাভ করেছে।
জেলার প্রধান প্রধান কলেজের ফলাফলে দেখা যায়, মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজ থেকে ৭৪৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০টি জিপিএ-৫সহ ৪৩৩ জন পাস করেছে (পাসের হার ৫৭.৯৭%)। মুজিবনগর আদর্শ মহিলা কলেজ থেকে ৬০ জনের মধ্যে ৩৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন (পাসের হার ৫৫%)। মেহেরপুর সরকারি কলেজে ৫১৮ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে ২৪০ জন (পাসের হার ৪৬.৩৩%)। গাংনী মহিলা কলেজে ২৮৩ জনের মধ্যে পাস করেছে ১২৯ জন (পাসের হার ৪৫.৫৮%)।
অন্যান্য কলেজের মধ্যে গাংনী পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৯২ জনের মধ্যে ৪টি জিপিএ-৫সহ ৩৭ জন (৪০.২২%), গাংনী সরকারি ডিগ্রি কলেজে ৪০৫ জনের মধ্যে ১টি জিপিএ-৫সহ ১৫০ জন (৩৭.০৪%), মুজিবনগর সরকারি ডিগ্রি কলেজে ২৪১ জনের মধ্যে ৩টি জিপিএ-৫সহ ৭৩ জন (৩০.২৯%) এবং মেহেরপুর পৌর ডিগ্রি কলেজে ৩৯১ জনের মধ্যে ১০৫ জন পাস করেছে (২৬.৮৫%)।
অপেক্ষাকৃত নিম্নমুখী ফলাফলের তালিকায় রয়েছে বামুন্দি নিশিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১৪৭ জনের মধ্যে ৩৭ জন পাস, ২৫.১৭%), মহাজনপুর কলেজ (৫৭ জনের মধ্যে ১৪ জন, ২৪.৫৬%), জাদুখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৮২ জনের মধ্যে ১টি জিপিএ-৫সহ ১৯ জন, ২৩.১৭%) এবং তেরাইল কলেজ (৯২ জনের মধ্যে ২১ জন, ২২.৮৩%)।
এছাড়া করমদি কলেজে ১২৫ জনের মধ্যে ২২ জন (১৭.৬০%), কাজিপুর কলেজে ১৭০ জনের মধ্যে ২৯ জন (১৭.০৬%), এআরবি কলেজে ৭৩ জনের মধ্যে ৯ জন (১২.৩৩%) এবং বিএন কলেজে ১৯ জনের মধ্যে মাত্র ১ জন পরীক্ষার্থী পাস করেছে (৫.২৬%)।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলে মেহেরপুর দারুল উলুম আহমদিয়া কামিল মাদ্রাসায় ৫৬ জনের মধ্যে ২৫ জন (৪৪.৬৪%), আমঝুপি ফাজিল মাদ্রাসায় ৩৬ জনের মধ্যে ২২ জন (৬১.১১%), মানিকনগর আমিনিয়া আলিম মাদ্রাসায় ২১ জনের মধ্যে ১২ জন (৫৭.১৭%), গাংনী ছিদ্দিকিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসায় ১৮ জনের মধ্যে ১৫ জন (৮৩.৩৩%) এবং হাড়াভাঙ্গা দারুল হাদি ফাজিল মাদ্রাসায় ৫ জনের মধ্যে ৩ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে (৬০%)।
জেলায় বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাসের হার ২০ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ায় স্থানীয় শিক্ষার গুণগত মান ও পাঠদান পদ্ধতি নিয়ে সচেতন মহলে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।