লগইন
পানি নামতে শুরু করলেও দুর্ভোগ চরমে, ব্যাপক ক্ষতির চিত্র উন্মোচিত
বড় করে দেখুন
সাম্প্রতিকী ডেক্স আপডেট: ১৪ জুলাই, ২০২৬ | ০৮:২৬ সকাল ৩১৬ বার পঠিত
ফন্ট সাইজ:

সংবাদ শুনুন

প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন

দুর্ঘটনা
কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসে ৩২ জনের মৃত্যু | পানি নামতে শুরু করলেও দুর্ভোগ চরমে, ব্যাপক ক্ষতির চিত্র উন্মোচিত

টানা আট দিনের ভয়াবহ বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ধসের পর অবশেষে কক্সবাজারের প্লাবিত এলাকার পানি নামতে শুরু করেছে। সোমবার রাত ও আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও, গত আট দিনের দুর্যোগ কেড়ে নিয়েছে ৩২টি অমূল্য প্রাণ। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন খাতের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করেছে জেলা প্রশাসন, যা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র তুলে ধরেছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান জানান, গত ৪ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত নয় দিনে মোট ৮২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়, যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬৯টি এবং পাঁচটি পৌরসভার মধ্যে চারটি প্লাবিত হয়। এতে জেলার প্রায় ৪৯ শতাংশ এলাকা জলমগ্ন হয় এবং প্রায় আড়াই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন। প্রাথমিক প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পেকুয়া উপজেলা, যেখানে ৯৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। এছাড়াও, মাতামুহুরীতে ৮৫ শতাংশ, চকরিয়ায় ৮০ শতাংশ, কুতুবদিয়ায় ৬৫ শতাংশ এবং মহেশখালীতে ৫০ শতাংশ এলাকা তলিয়ে যায়। রামু, কক্সবাজার সদর, উখিয়া, টেকনাফ এবং ঈদগাঁও উপজেলারও উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ১৩ জন রোহিঙ্গাসহ মোট ৩২ জন নিহত হয়েছেন। একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। উখিয়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে, যেখানে পাহাড়ধসে ১৩ জন রোহিঙ্গাসহ ১৪ জন মারা যান। চকরিয়ায় ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন নিখোঁজ। এছাড়া, কক্সবাজার সদরে তিনজন, পেকুয়ায় দুজন, রামুতে তিনজন এবং মাতামুহুরী, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় একজন করে মারা গেছেন।

আট দিনের বৃষ্টি ও বন্যায় কক্সবাজারের ১ হাজার ৬১৩টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে পেকুয়ায় ৪৫০টি, চকরিয়ায় ৩০০টি, কুতুবদিয়ায় ২৫০টি, মহেশখালীতে ২০০টি এবং মাতামুহুরীতে ১৯০টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টেকনাফে ১০০টি, উখিয়ায় ৫০টি, ঈদগাঁওয়ে ৩০টি, রামুতে ২৫টি এবং কক্সবাজার সদর উপজেলায় ১৮টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে।

মৎস্য খাতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যার প্রাথমিক হিসাব প্রায় ৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হুদা জানান, জেলার ১০ উপজেলার ৬১টি ইউনিয়নের ৩ হাজার ৯১৮টি পুকুর এবং ৪৫৩টি চিংড়িঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মোট আয়তন প্রায় ২ হাজার ৪৪০ হেক্টর। এতে ১ হাজার ৯৭ টন মাছ, ৩৮৫ টন চিংড়ি, ৩ কোটি ৫৬ লাখ মাছের পোনা এবং ২ কোটি ২১ লাখ চিংড়ির পোনা নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি ৭৬৮টি পুকুর, ঘের ও খামারের অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যায় আউশ ধান, আমনের বীজতলা, পানবরজ এবং বিভিন্ন শাকসবজিসহ ৪ হাজার ২১১ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার নয় উপজেলার মোট ৪৩ হাজার ২১০ জন কৃষক এই ক্ষতির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে চকরিয়ায় ১৩ হাজার ৮৫২ জন, পেকুয়ায় ৭ হাজার ২০ জন, কুতুবদিয়ায় ৬ হাজার ৪১৫ জন, রামুতে ৪ হাজার ৮৭৫ জন, মহেশখালীতে ৪ হাজার ৩২০ জন, টেকনাফে ৩ হাজার ১২০ জন, ঈদগাঁওয়ে ১ হাজার ৩০৪ জন, কক্সবাজার সদরে ১ হাজার ১৬৬ জন এবং উখিয়ায় ১ হাজার ১৩৮ জন কৃষক রয়েছেন।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রাথমিক তথ্যে বলা হয়েছে, বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় ৩৮০ দশমিক ২৯৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের ৪৪টি স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, জেলার ২ হাজার ৪৮ কিলোমিটার সড়ক এবং ৭৯টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলাগুলো এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে পেকুয়া ও কুতুবদিয়ায় ১৫টি করে প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নয় দিনে ৬১৮টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১ হাজার ৫৮০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। দুর্গতদের মাঝে ৭ হাজার ৭৯০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ২৯৮ টন চাল ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। তবে, ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রয়োজনের তুলনায় ত্রাণ অপ্রতুল। বিশেষ করে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যা ছোট শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিলেও, সংকট এখনও পুরোপুরি কাটেনি।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে লগইন করুন

লগইন করুন

সর্বশেষ সংবাদ

সৌদির জেদ্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ১৩ বাংলাদেশির সবাই কক্সবাজারের বাসিন্দা

২ ঘন্টা আগে
সৌদির জেদ্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ১৩ বাংলাদেশির সবাই কক্সবাজারের বাসিন্দা

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সুরের জাদুকরী মূর্ছনা, কনসার্টে মেতে উঠল হাজারো তরুণ-তরুণী

২ ঘন্টা আগে
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সুরের জাদুকরী মূর্ছনা, কনসার্টে মেতে উঠল হাজারো তরুণ-তরুণী

মেহেরপুরে বিএনপির সমাবেশ ও শোভাযাত্রা

৩ ঘন্টা আগে
মেহেরপুরে বিএনপির সমাবেশ ও শোভাযাত্রা

আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বসছে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের প্রথম টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপ

৩ ঘন্টা আগে
আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বসছে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের প্রথম টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপ

ঝিনাইদহে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন

৪ ঘন্টা আগে
ঝিনাইদহে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন

মেহেরপুরের আমঝুপিতে বিএনপির সংহতি দিবসের আলোচনা সভা ও মিছিল

৪ ঘন্টা আগে
মেহেরপুরের আমঝুপিতে বিএনপির সংহতি দিবসের আলোচনা সভা ও মিছিল

রাউজানে জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে ফেরার পথে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, আহত ৬

৫ ঘন্টা আগে
রাউজানে জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে ফেরার পথে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, আহত ৬

আসামি মোতাহার ফের ৩ দিনের রিমান্ডে

৫ ঘন্টা আগে
আসামি মোতাহার ফের ৩ দিনের রিমান্ডে

ইসরায়েলি গণমাধ্যম

৭ ঘন্টা আগে
ইসরায়েলি গণমাধ্যম

৭ নভেম্বরের আলোচনায় হাসনাত আবদুল্লাহ

৭ ঘন্টা আগে
৭ নভেম্বরের আলোচনায় হাসনাত আবদুল্লাহ

নোটিফিকেশন চালু করুন

সর্বশেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো সবার আগে পেতে নোটিফিকেশন চালু করে রাখুন।