সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
ফসলি জমি সুরক্ষায় কঠোর আইন ও এর যথাযথ প্রয়োগের গুরুত্ব
দেশের ক্রমাগত ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং বর্ধিত খাদ্য চাহিদার বিপরীতে প্রতিনিয়ত হ্রাস পাচ্ছে আবাদযোগ্য কৃষি জমির পরিমাণ। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, আবাসন প্রকল্প, শিল্পায়ন, সড়ক ও বাজার নির্মাণ এবং ইটভাটার মতো কার্যক্রমের ফলে আশঙ্কাজনক হারে কমছে আবাদযোগ্য জমি। এই প্রেক্ষাপটে ফসলি জমি রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমাদের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৬০ শতাংশই আবাদযোগ্য। এই মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদকে রক্ষা করার লক্ষ্যে সরকার ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস করেছে। নতুন এই আইনে ভূমি ব্যবহারের জোনিং ব্যবস্থা প্রবর্তন, বিশেষ কৃষি অঞ্চল গঠন, দুই বা ততোধিক ফসলি জমির সুরক্ষা, টপসয়েল (মাটির উপরিভাগ) কাটা নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া সড়ক নির্মাণ বা বিভিন্ন উন্নয়নকাজের কারণে যেন ভূমির মূল রূপ পরিবর্তিত না হয়, সে ব্যাপারেও কঠোর নির্দেশনার কথা বলা হয়েছে।
বিশেষ করে যেসব জমিতে বছরে দুই বা তার বেশি ফসল উৎপাদিত হয়, সেগুলোকে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কথা বিবেচনা করে 'বিশেষ কৃষি অঞ্চল' হিসেবে ঘোষণা করা যাবে। এই আইনের আওতায় ঘোষিত অঞ্চলগুলোতে কৃষিকাজ ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা বা ভূমির ক্ষতিসাধন করা সম্পূর্ণ দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই আইনের অন্যতম একটি কার্যকর দিক হলো, জমি সুরক্ষার দায়িত্ব কেবল মালিক বা কৃষকদের ওপর ছেড়ে না দিয়ে স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাকে হস্তক্ষেপ করার আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
বাস্তবতা হলো, দেশের অনেক স্থানেই নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কৃষিজমি বিনষ্ট করা হচ্ছে। ইটভাটাসহ বিভিন্ন কাজের জন্য জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি বা টপসয়েল কেটে নেওয়া হচ্ছে, যা মাটির উর্বরতাকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জসীম উদ্দিন এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন, একবার কোনো আবাদি জমি স্থাপনায় রূপান্তরিত হলে তা পুনরায় চাষযোগ্য করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। একইভাবে, টপসয়েল হারিয়ে ফেলা জমির উর্বরতা ফিরিয়ে আনাও বেশ কষ্টসাধ্য।
সম্প্রতি ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এক অনুষ্ঠানে ঘোষণা দিয়েছেন যে, দেশের কৃষিজমি রক্ষায় সরকার শূন্য সহনশীলতা বা 'জিরো টলারেন্স' নীতি বজায় রাখবে। আমরা আশা করি, ভূমিমন্ত্রীর এই প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন ঘটবে। শুধুমাত্র আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, এর কঠোর ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ ব্যাপারে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। আমাদের মনে রাখতে হবে, আমাদের উর্বর ভূখণ্ড দেশের এক অমূল্য সম্পদ এবং দেশের টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই জমি রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
কৃত্রিম সংকট রোধ ও ডিলারদের মজুত- বিক্রির হিসাব যাচাই সরেজমিনে পরিদর্শন; চুয়াডাঙ্গায় মাঠে নামছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব
২১ ঘন্টা আগে
কোটি কোটি টাকার প্রকল্প থাকলেও আবহাওয়া সতর্কবার্তা থেকে বঞ্চিত দেশের প্রান্তিক কৃষকরা
৫ দিন আগে
আলমডাঙ্গায় কৃষি প্রণোদনার উপকরণ হিসেবে পেঁয়াজ চাষিদের মাঝে পেঁয়াজ সংরক্ষনের জন্য এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ
৩ সপ্তাহ আগে