সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মাছ ধরার মহোৎসব | লাখ টাকার পুরস্কার জিততে ২৪ প্রতিযোগীর রুদ্ধশ্বাস লড়াই
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় আয়োজন করা হয়েছে এক ব্যতিক্রমী বড়শি দিয়ে মাছ ধরার প্রতিযোগিতা। শুক্রবার সকালে জনপ্রতি ২৬ হাজার টাকা মূল্যের টিকিট কেটে ২৪ জন প্রতিযোগী এই আসরে অংশ নিয়েছেন। আয়োজকরা টিকিট বিক্রি থেকে মোট ৬ লাখ ২৪ হাজার টাকা সংগ্রহ করেছেন, যেখানে প্রতিযোগীদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকার পাঁচটি আকর্ষণীয় পুরস্কার।
সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের দত্তপাড়াস্থ বীরেশ দিঘিতে সকাল সোয়া ছয়টা থেকে এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, যা চলবে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে কেবল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন উপজেলা থেকেই নয়, ঢাকা, কিশোরগঞ্জ এবং হবিগঞ্জ থেকেও শৌখিন মৎস্য শিকারিরা সমবেত হয়েছেন। দিঘিতে প্রায় ৫ থেকে ১০ কেজি ওজনের বিশালাকার কাতলা মাছ রয়েছে, যা প্রতিযোগিতার প্রধান আকর্ষণ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দিঘির চারপাশে সুনির্দিষ্ট ২৪টি মাচায় প্রতিযোগীরা অবস্থান নিয়েছেন। লটারির মাধ্যমে তাদের বসার স্থান নির্ধারিত হয়। কেউ মনোযোগ সহকারে মাছের খাবার প্রস্তুত করছেন, আবার কেউবা বড়শি ফেলছেন দিঘির গভীর জলে। হঠাৎ হঠাৎ কোনো মাচা থেকে 'বড় মাছ, বড় মাছ' চিৎকারে চারপাশ মুখরিত হয়ে উঠছে। শিকারি ও তাদের সহযোগীদের মধ্যে আনন্দ আর উল্লাসের ঢেউ বয়ে যাচ্ছে। বিপুল সংখ্যক দর্শক দিঘির চারপাশে ভিড় জমিয়েছেন এই দৃশ্য উপভোগ করতে। এক প্রতিযোগী জানান, কেবল টিকিট মূল্যই নয়, মাছ ধরতে আরও প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বাড়তি খরচ হয়।
ঘোষিত পুরস্কারের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকারী পাবেন ২ লাখ টাকা, দ্বিতীয় স্থানাধিকারী ১ লাখ টাকা এবং তৃতীয় স্থানাধিকারীর জন্য রয়েছে ৫০ হাজার টাকা। চতুর্থ ও পঞ্চম পুরস্কার হিসেবে যথাক্রমে ৪৫ হাজার ও ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদি কোনো প্রতিযোগী প্রথম তিনটি পুরস্কারই জিততে পারেন, তাহলে তিনি মোট সাড়ে তিন লাখ টাকা পাবেন। অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে এবং আয়োজকরা আশা করছেন এবারও তা হতে পারে।
শুক্রবার বেলা দুইটা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন এখন পর্যন্ত সবচেয়ে এগিয়ে আছেন। তিনি সকাল সাতটা থেকে দুপুর দুইটার মধ্যে ৪টি কাতলা মাছ ধরেছেন, যাদের ওজন যথাক্রমে ৬ কেজি ৭৪০ গ্রাম, ৬ কেজি ৪৮৫ গ্রাম, ৪ কেজি ৯৭০ গ্রাম এবং ৪ কেজি ৫০ গ্রাম। এই চারটি মাছের কারণে তিনিই বর্তমানে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং পঞ্চম স্থানের অধিকারী। একই গ্রামের সবুজ মিয়া ৪ কেজি ৯০ গ্রাম ওজনের একটি কাতলা ধরে চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছেন।
প্রায় পৌনে তিন একর আয়তনের এই ঐতিহাসিক দিঘিতে 'সরাইল মৎস্য চাষ প্রকল্প' নামক একটি সমিতি প্রতি বছর একাধিকবার এমন মাছ ধরার প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। 'সরাইল মৎস্য চাষ প্রকল্প' সমিতির সভাপতি আলী মিয়া প্রথম আলোকে জানান, প্রতি বছরই এখানে এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ বছর এটি তাদের সপ্তম আয়োজন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শৌখিন মৎস্য শিকারিরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসেন।