আলমডাঙ্গায় দুই সন্তানের পিতার করুণ পরিণতি—মাদক কেড়ে নিল একটি পরিবারের স্বপ্ন
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
আলমডাঙ্গায় দুই সন্তানের পিতার করুণ পরিণতি—মাদক কেড়ে নিল একটি পরিবারের স্বপ্ন
মাদক এক নীরব ঘাতক। তার ছোবলে নিভে গেল আরেকটি তাজা প্রাণ। আলমডাঙ্গায় ঘটল এমন এক হৃদয়বিদারক ঘটনা, যা একদিকে যেমন স্তব্ধ করে দিয়েছে পুরো এলাকাকে, অন্যদিকে তেমনি রেখে গেছে গভীর এক শূন্যতা।
দুই সন্তানের জনক খন্দকার নাহিদ আহমেদ চান্দু—শহরে যিনি সবার কাছে ‘চান্দু’ নামেই পরিচিত—জীবনের সব রঙ হারিয়ে চূড়ান্তভাবে বেছে নিলেন আত্মহননের পথ। সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যবর্তী যেকোনো এক নিঃসঙ্গ সময়ে, শ্বশুরবাড়ির নিজ কক্ষে তিনি গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শেষ করে দেন জীবনের গল্প।
ঘরের দরজা ছিল বন্ধ। বাইরের পৃথিবী চলছিল আপন গতিতে, কিন্তু ভেতরে জমে উঠছিল এক নিঃশব্দ অন্ধকার। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও তার কোনো সাড়া না পেয়ে স্বজনদের মনে উদ্বেগ দানা বাঁধে। ডাকা হয় বারবার—কিন্তু কোনো উত্তর মেলে না। শেষ পর্যন্ত সন্দেহ আর ভয় মিলেমিশে বাস্তবে পরিণত হয়। পাশের ঘর থেকে ফাঁক গলিয়ে যা দেখা গেল, তা যেন স্বজনদের হৃদয় চিরে দেয়—ছাদের আড়ার সঙ্গে নিথর ঝুলছে চান্দুর দেহ।
অতঃপর খবর দেওয়া হয় আলমডাঙ্গা থানায়। পুলিশ এসে দেয়াল টপকে ঘরের দরজা খুলে উদ্ধার করে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ। জীবনের পর্দা তখনই চিরতরে নেমে গেছে।
নিহত চান্দু আলমডাঙ্গা স্টেশনপাড়ার মৃত খন্দকার আহমেদ আলীর ছোট ছেলে। জীবনের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তিনি চালাতেন একটি ছোট মুদি দোকান—নান্নু-টগর-আশু সড়কের বিপরীতে। ছোট সেই দোকানই ছিল তার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু সেই হাসিমুখের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক গভীর অন্ধকার।
পারিবারিক জীবনে তিনি ছিলেন দুই সন্তানের পিতা—এক ছেলে ও এক মেয়ে। স্ত্রী একজন শিক্ষিকা। পরিবারের সঙ্গে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু সেই স্বাভাবিক জীবনের ভেতরেও যেন ক্রমেই বাসা বাঁধছিল অস্থিরতা, হতাশা আর নীরব যন্ত্রণা।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মাদকাসক্তির কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। নেশার ভয়াবহ ফাঁদে পড়ে জীবনের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন তিনি। পরিবার তাকে টেনে ধরতে চাইলেও, অদৃশ্য সেই অন্ধকার তাকে ধীরে ধীরে গ্রাস করে ফেলে। ভালোবাসা, দায়িত্ব, সন্তান—সবকিছু যেন সেই অন্ধকারের কাছে হার মানে।
এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্না, প্রতিবেশীদের নিঃশব্দ স্তব্ধতা—সব মিলিয়ে পরিবেশ হয়ে ওঠে ভারী। কেউ কথা বলতে পারছেন না, কেউ চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না। যেন এক অপূর্ণ গল্পের করুণ সমাপ্তি।
এই ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়—মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকেই নয়, ধ্বংস করে দেয় একটি পরিবার, ভেঙে দেয় অসংখ্য স্বপ্ন। যে মানুষটি একসময় হাসি, ভালোবাসা আর দায়িত্বে ঘেরা ছিলেন, তিনি আজ কেবল স্মৃতি হয়ে রয়ে গেলেন।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ বানী ইসরাইল জানান, স্টেশন সড়কের একটি বদ্ধ ঘর থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
জীবনের এই নিঃশব্দ বিদায়ে রেখে গেলেন এক নিঃশেষ গল্প—যেখানে প্রশ্ন থেকে যায়, এই অন্ধকার কি সত্যিই থামানো যেত?
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
চুয়াডাঙ্গার আব্দুল ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজে জিপিএ-৫ অর্জনকারী দুই ছাত্রীকে সংবর্ধনা
৯ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় মাদকসহ ও মাদক মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার : একজনের ৬ মাসের কারাদণ্ড
১৭ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গার খেজুরতলা যুব সমাজের আয়োজনে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী দাড়িয়াবান্ধা/গাদন খেলা অনুষ্ঠিত
১৭ ঘন্টা আগে