লগইন
আখতারুজ্জামান রঞ্জন ও সালমান মুক্তাদিরের ঘটনা বিশ্লেষণ
বড় করে দেখুন
সাম্প্রতিকী ডেক্স আপডেট: ০৭ অক্টোবর, ২০২৬ | ০৯:০০ রাত ৯৯ বার পঠিত
ফন্ট সাইজ:

সংবাদ শুনুন

প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন

রাজনীতি
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিচ্ছিন্ন ঘটনার তাৎপর্য | আখতারুজ্জামান রঞ্জন ও সালমান মুক্তাদিরের ঘটনা বিশ্লেষণ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমানে এমন একটি সংবেদনশীল সময় পার হচ্ছে, যেখানে কোনো ব্যক্তির একক বক্তব্য, আচরণ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টকেও আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আহসান হাবিব বরুন মনে করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক বাস্তবতায় সময়, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান বিবেচনায় এসব ঘটনা বৃহত্তর রাজনৈতিক বয়ানের অংশ হিসেবে আলোচনায় আসছে।

তাঁর বিশ্লেষণে, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো যখন সংস্কার, জবাবদিহি এবং আইনের শাসনের কাঠামো শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে, তখন জনপরিসরে ঘটে যাওয়া প্রতিটি আলোচিত ঘটনাই আলাদা গুরুত্ব বহন করছে। প্রশ্ন উঠছে—এগুলো কি নিছকই বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি এর মাধ্যমে রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে একটি নির্দিষ্ট ধারণা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে?

এই প্রেক্ষাপটে লেখক মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জন এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহকে পাশাপাশি রেখে বিশ্লেষণ করেছেন। পেশা, রাজনৈতিক পরিচয় ও কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্র আলাদা হলেও তাঁদের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো কীভাবে জনমনে রাষ্ট্র ও সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করছে, তা এই লেখার মূল প্রতিপাদ্য।

লেখক শুরুতেই স্বীকার করেছেন, দেশের বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কাস্টমস, সিভিল এভিয়েশনসহ বিভিন্ন সংস্থার কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ, লাগেজ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা, ইমিগ্রেশন জটিলতা এবং যাত্রী হয়রানির মতো সমস্যা নিয়ে বহুদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী যাত্রীদের অভিজ্ঞতায় এসব সমস্যা আরও স্পষ্ট হয়।

সুতরাং বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি থাকলে তা দূর করা সরকারের দায়িত্ব—এ বিষয়ে লেখকের অবস্থান স্পষ্ট। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক মানের একটি বিমানবন্দর কেবল অবকাঠামো দিয়ে তৈরি হয় না; সেখানে যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা, জবাবদিহি এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা বা অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ কীভাবে করা হবে—সেখানেই ভিন্ন একটি প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি-সংকটকে কেন্দ্র করে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনের সঙ্গে বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের বিরোধ ইতোমধ্যে মামলা ও গ্রেপ্তার পর্যন্ত গড়িয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি এবং নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে মামলা হয়েছে; পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয় এবং রিমান্ডেও নেওয়া হয়।

লেখকের মতে, বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ বা অভিযোগ থাকার অধিকার একজন নাগরিকের অবশ্যই আছে। কিন্তু সেই অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রেও আইনের সীমা ও সামাজিক শিষ্টাচার মানা জরুরি। কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে গায়ে হাত তোলার হুমকি দেওয়া, ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার কথা বলা কিংবা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে এমন আচরণ করা কোনো গ্রহণযোগ্য প্রতিবাদ-পদ্ধতি হতে পারে না—এমনটাই মনে করেন লেখক। তাঁর দৃষ্টিতে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর পথ হলো লিখিত অভিযোগ, তদন্ত, প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে আদালতের আশ্রয় নেওয়া।

এই প্রসঙ্গে তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরা কয়েকজন জামায়াত নেতার বিমানবন্দর-অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছিল। লেখকের বিশ্লেষণে, এ দুটি পদ্ধতির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে—একটি প্রাতিষ্ঠানিক অভিযোগ ও আইনি প্রক্রিয়ার পথ, অন্যটি তাৎক্ষণিক ক্ষোভ ও ক্ষমতা প্রদর্শনের পথ। আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে নেওয়ার সময় তাঁর আচরণ নিয়েও লেখক প্রশ্ন তুলেছেন।

লেখকের আরও দাবি, আখতারুজ্জামানের দীর্ঘ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে, যা তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয় ব্যক্তি বা অন্য কোনো পাবলিক ফিগারের আচরণ দ্রুতই বৃহত্তর সমাজে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যক্তিত্বদের বক্তব্য ও আচরণ অনুসরণ করে। ফলে জনপরিসরে যাঁদের দৃশ্যমান প্রভাব রয়েছে, তাঁদের বক্তব্য ও আচরণে দায়িত্বশীলতা থাকা প্রয়োজন বলে লেখক মনে করেন।

লেখাটির একটি অংশে ইসলামের নৈতিক শিক্ষা এবং রাজনৈতিক আচরণের সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। সংযম, ক্ষমাশীলতা, সুন্দর ভাষায় কথা বলা এবং উত্তেজনা পরিহারের যে শিক্ষা কোরআনে রয়েছে, তার সঙ্গে প্রকাশ্য রাজনৈতিক আচরণের সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন। এই জায়গা থেকেই তিনি জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পর জামায়াতে ইসলামীর প্রতিক্রিয়াকেও লেখক এই প্রেক্ষাপটে বিচার করেছেন। তাঁর দাবি, দলটি তাঁর আচরণের নিন্দা না করে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে, যা দলটির ঘোষিত নৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা আলোচনার বিষয়।

অন্যদিকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহও লেখায় আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় তাঁর ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তদন্ত চলছে। পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী ঘটনাটি জমি-সংক্রান্ত বিরোধের সঙ্গে যুক্ত, যদিও সালমান মুক্তাদির নিজে এটিকে চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত করে বক্তব্য দিয়েছেন। এই ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যই ঘটনাটিকে আরও বিতর্কিত করেছে।

লেখকের বিশ্লেষণে, সালমান মুক্তাদিরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্য ও অতীত রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তবে এসব রাজনৈতিক অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বক্তব্য, সময়কাল ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওর পাশাপাশি তাঁর শ্বশুর শেখ নূর ইসলামের মালিকানাধীন ফু-ওয়াং ক্লাবকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে অভিযান ও অনিয়মের অভিযোগের কথাও লেখায় এসেছে। এছাড়া সাবেক ডিবি কর্মকর্তা হারুন অর রশীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগ নিয়েও লেখায় অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি ক্ষেত্রে তদন্ত, সরকারি নথি ও আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পৃথকভাবে সত্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

আহসান হাবিব বরুনের বিশ্লেষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো—তিনি আখতারুজ্জামান রঞ্জন ও সালমান মুক্তাদিরের ঘটনাকে একই বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখার চেষ্টা করেছেন। তাঁর ব্যাখ্যায়, একদিকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ এবং অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযোগ—এই দুটি বিষয় পাশাপাশি রাখলে রাষ্ট্রের সক্ষমতা ও সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরির একটি বয়ান তৈরি হতে পারে। তবে এই দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি সমন্বয় বা উদ্দেশ্যগত যোগসূত্র রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হলে আরও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন।

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যে রাজনৈতিক বয়ান তৈরির অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে, লেখক সেটিও তুলে ধরেছেন। দেশের ভেতরে ও বিদেশে অবস্থানরত কিছু ব্যক্তি, সাংবাদিক ও ইউটিউবার বিভিন্ন ঘটনা নিজেদের মতো ব্যাখ্যা করে সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে 'পতিত আওয়ামী লীগ সরকার'-এর পক্ষে জনমত তৈরির চেষ্টা হচ্ছে বলেও তিনি মনে করেন। তবে রাজনৈতিক বক্তব্য, সমালোচনা এবং অপপ্রচারের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণের জন্য তথ্য যাচাই জরুরি।

লেখায় জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও বিস্তর আলোচনা রয়েছে। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক এবং এনসিপির সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের মিল—এসব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। জামায়াতে ইসলামী বিএনপির বিরোধিতায় গিয়ে 'পতিত আওয়ামী লীগ সরকার'-এর রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে কোনো কৌশলগত সমঝোতার দিকে যাচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নও লেখক তুলেছেন।

লেখকের সতর্কতা হলো, জামায়াত যদি রাজনৈতিক স্বার্থে এমন কোনো সমঝোতার পথে যায়, যার ফলে তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে ভবিষ্যতে দলটির জন্য তা রাজনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাঁর মতে, জামায়াতে ইসলামীর উচিত নির্বাচিত ও সংস্কারকামী সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা এবং একই সঙ্গে গঠনমূলক বিরোধী অবস্থান থেকে সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা।

দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি, অনিয়ম, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে—এমন বাস্তবতা লেখক তুলে ধরেছেন। এসব সমস্যা রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন, জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং প্রশাসনিক সংস্কারের জন্য সময় প্রয়োজন। এই জায়গায় রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ।

জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রেও লেখক বাস্তবভিত্তিক ও জনসম্পৃক্ত রাজনীতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ হলেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নেয় না—দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, নিরাপত্তা, সুশাসন ও নাগরিক অধিকারও তাদের রাজনৈতিক বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ।

লেখায় বিএনপির রাজনৈতিক ভিত্তি নিয়েও লেখক নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও সামাজিক বাস্তবতায় বিএনপির দীর্ঘদিনের সংগঠন ও জনভিত্তি রয়েছে। ফলে দলটিকে অপ্রাসঙ্গিক করে দেওয়ার যেকোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। অন্যদিকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক দলটির রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে আলাদা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এ কারণে দুই দলের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ঐতিহাসিক অবস্থানকে একইভাবে বিচার না করে পৃথক প্রেক্ষাপটে দেখা প্রয়োজন—এটাই তাঁর বিশ্লেষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন ও সালমান মুক্তাদির—দুজনকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ভিন্ন প্রকৃতির। একজনকে ঘিরে বিমানবন্দরে সরকারি কর্মকর্তাকে হুমকি ও নিরাপত্তাকর্মীকে মারধরের অভিযোগে মামলা হয়েছে, অন্যজনের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্ত চলছে। এই দুই ঘটনাকে একই রাজনৈতিক সূত্রে দেখা হবে কি না, সেটি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক বিশ্লেষণের বিষয়। কিন্তু এর বাইরে একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকে যায়—আইন কি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে?

রাজনৈতিক নেতা, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর কিংবা সাধারণ নাগরিক—পরিচয় যাই হোক, আইন ভঙ্গের অভিযোগ উঠলে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। একইভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো অভিযোগ উঠলে তারও তথ্যভিত্তিক যাচাই প্রয়োজন। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগের জবাব দিতে হবে তথ্য দিয়ে, আর মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য থাকলে তার প্রতিকারও হতে হবে আইনসম্মত পদ্ধতিতে।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাই ব্যক্তি বা দলবিশেষ নয়; বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা, আইনের শাসন এবং রাজনৈতিক আচরণের মানদণ্ড। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের অভিজ্ঞতার পর দেশ যখন নতুন একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে, তখন উত্তেজনা, ব্যক্তিগত আক্রমণ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বয়ানের বদলে তথ্য, আইন, জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই হওয়া উচিত রাজনৈতিক বিরোধ নিষ্পত্তির প্রধান পথ।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে লগইন করুন

লগইন করুন

সর্বশেষ সংবাদ

টাইগার শ্রফের গাড়িতে হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

২৯ মিনিট আগে
টাইগার শ্রফের গাড়িতে হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

কার্যকর সক্ষমতা বাড়াতে সমন্বিত পরিকল্পনার তাগিদ

৩০ মিনিট আগে
কার্যকর সক্ষমতা বাড়াতে সমন্বিত পরিকল্পনার তাগিদ

সুনামগঞ্জ থেকে হেলিকপ্টারে করে বিয়ে করতে আসলেন চুয়াডাঙ্গায়

৪ ঘন্টা আগে
সুনামগঞ্জ থেকে হেলিকপ্টারে করে বিয়ে করতে আসলেন চুয়াডাঙ্গায়

প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কারে মেসি-আন্তোনেলার নজরকাড়া অল-ব্ল্যাক ফ্যাশন

৪ ঘন্টা আগে
প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কারে মেসি-আন্তোনেলার নজরকাড়া অল-ব্ল্যাক ফ্যাশন

মাটি ছাড়িয়ে আকাশে ভাসবে টেসলার নতুন ‘রোডস্টার’ গাড়ি

৪ ঘন্টা আগে
মাটি ছাড়িয়ে আকাশে ভাসবে টেসলার নতুন ‘রোডস্টার’ গাড়ি

আলমডাঙ্গায় প্রবাসী ব‌্যবসায়ী মেয়র প্রার্থী হা‌সিবুল হক লিপুর উদ্যো‌গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ডাস্টবিন স্থাপন

৪ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় প্রবাসী ব‌্যবসায়ী মেয়র প্রার্থী হা‌সিবুল হক লিপুর উদ্যো‌গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ডাস্টবিন স্থাপন

হারিয়ে যাচ্ছে কি পারস্পরিক সামাজিক সম্প্রীতি?

৫ ঘন্টা আগে
হারিয়ে যাচ্ছে কি পারস্পরিক সামাজিক সম্প্রীতি?

ঐতিহ্যবাহী শিদল তৈরির কৌশল ও এর পেছনের ইতিহাস

১০ ঘন্টা আগে
ঐতিহ্যবাহী শিদল তৈরির কৌশল ও এর পেছনের ইতিহাস

দেখে নিন ২৩ অক্টোবরের সরাসরি সম্প্রচার সূচি

১০ ঘন্টা আগে
দেখে নিন ২৩ অক্টোবরের সরাসরি সম্প্রচার সূচি

সৌদি আরবে আটক ২২ বাংলাদেশির দণ্ড নিয়ে ধোঁয়াশা, কনস্যুলার সহায়তা পেতে জটিলতা

১২ ঘন্টা আগে
সৌদি আরবে আটক ২২ বাংলাদেশির দণ্ড নিয়ে ধোঁয়াশা, কনস্যুলার সহায়তা পেতে জটিলতা

নোটিফিকেশন চালু করুন

সর্বশেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো সবার আগে পেতে নোটিফিকেশন চালু করে রাখুন।