সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
সেফ অ্যান্ড সুপার ফুড—আলমডাঙ্গার মানুষের জীবনযাত্রা বদলে দেওয়ার এক অঙ্গীকার
আলমডাঙ্গা শহরকে দেখলে মনে হয়— এ শহর যেন ধীরে ধীরে ঘুম ভাঙ্গছে। যে পুরাতন বাজার একসময় সন্ধ্যার পর নিস্তব্ধ হয়ে যেত, অন্ধকার গলিতে বাতাস ছাড়া অন্য কোনো শব্দের বসবাস ছিল না, সেই জায়গাটাই আজ নতুন আলোয় ভরে উঠছে। এই আলো এসেছে একটি রেস্তোরাঁকে কেন্দ্র করে— ঝকঝকে, পরিপাটি, নিরাপদ খাবারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা “সেফ অ্যান্ড সাপার ফুড।”
রেস্তোরাঁর কাঁচের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলেই একটা নরম আলো, স্নিগ্ধ সাজসজ্জা, আর পরিচ্ছন্নতার সুবাস আপনাকে যেন শহরের বাইরে অন্য কোথাও নিয়ে যায়। আলমডাঙ্গায় প্রথম শহরের গোড়াপত্তন হয় এই পুরাতন বাজার বা পুরাতন মোকামে। পুরাতন বাজারের সেই আভিজাত্যের ছিন্ন রূপ এখনও জোড়া দালান, স্কয়ার দালানসহ বেশ কিছু ভগ্নদশাগ্রস্ত স্থাপনা বয়ে চলেছে। সেই আভিজাত্যের নতুন উত্তরাধিকার যেন এই রেস্টুরেন্ট। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা— এটি শুধু খাবারের জায়গা নয়; এটি শহরের মানুষের মর্যাদা ও স্বপ্নের নতুন ঠিকানা।
মালিকের পরিচয়েই লুকিয়ে আছে অন্যরকম স্বপ্ন। এই রেস্তোরাঁর মালিক সমাজসেবার সাবেক মহাপরিচালক, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল। একজন অভিজ্ঞ প্রশাসক, একজন সৎ উদ্যোক্তা, আর একজন চিন্তাশীল গবেষক।
শুধু তাই নয়— তিনি মাশরুমের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন, যা-কি না বাংলাদেশের খাদ্যখাতে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। এ কারণে তিনি শুধু রেস্তোরাঁ খুলেই থামছেন না। তিনি চান—আলমডাঙ্গার তরুণদের হাতে মাশরুম চাষ শেখানোর মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে। মানসম্পন্ন খাবার পরিবেশনের পাশাপাশি এই শহরের জন্য তিনি তৈরি করতে চান দক্ষ যুবক, ছোট ব্যবসায়ী, আর সাবলম্বী পরিবার।
একটি রেস্তোরাঁ যে শহরকে বদলে দিতে পারে তার স্বপ্ন রচনা করছেন তিনি। সেফ অ্যান্ড সুপার ফুড শুরু হওয়ার পর শুধু মালিকই স্বপ্ন দেখছেন না, শহরের মানুষও নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেছে।
একসময় যেখানে অতিথিকে নিয়ে যাওয়ার মতো পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক রেস্তোরাঁ ছিল না, এখন সহজেই বলা যায়— “চলুন, পুরাতন বাজারে নতুন রেস্তোরাঁয় যাই।” এতে শহরের সম্মান বাড়ে, মানুষের আত্মবিশ্বাসও জোরালো হয়।
এই রেস্তোরাঁয় কাজ পেয়েছে কয়েকজন স্থানীয় তরুণ। তাদের আয়ে পরিবারে এসেছে স্বস্তি। যে শহর একসময় চাকরির অভাবে তরুণদের অন্যত্র পাঠিয়ে দিত, সেই শহরের ভেতরেই এখন নতুন সম্ভাবনার পথ খুলছে।
এই রেস্টুরেন্টের খাবারের মান, পরিবেশ ও নিরাপত্তা—সবার আগে। এমনই স্বগোক্তি উচ্চারণ করেন মালিক। তিনি জানান, রেস্তোরাঁটি চালানোর উদ্দেশ্য শুধু লাভ নয়।
এখানে প্রথম গুরুত্ব—পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ খাবার, আর পরিবারের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ। ধূমপানমুক্ত জায়গা, দক্ষ শেফের রান্না, আর হাসিমুখে সার্ভিস— সব মিলিয়ে রেস্তোরাঁটি পরিবারের জন্য নিরাপদ জায়গা হয়ে উঠেছে। শহরের শিশুদের জন্য নিরাপদ খাবারের নিশ্চয়তা, বৃদ্ধদের বসার মতো শান্ত পরিবেশ— এসবই রেস্তোরাঁটির বড় অর্জন।
তিনি মাশরুম নিয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আলমডাঙ্গায় নতুন বিপ্লব শুরু করতে চান।
ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল তার গবেষণার অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে “সেফ অ্যান্ড সুপার ফুড”-এ মাশরুম বিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন। যারা সামান্য জমিতে বা ঘরের ভেতরে মাশরুম চাষ করে আয় করতে চান—তাদের জন্য এটি অসাধারণ সুযোগ।
একটি রেস্তোরাঁর রান্নাঘর থেকে এভাবে উদ্যোক্তা তৈরির স্বপ্ন ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা নতুন। শহরের রাত এখন আর নিস্তব্ধ নয়। পুরাতন বাজারে আলো জ্বললে মানুষের হাঁটাচলার সুর শোনা যায়। রেস্তোরাঁর সামনে দাঁড়িয়ে বুঝতে ইচ্ছে করে— এ যেন শুধু এক দোকান নয়, শহরের জীবনযাত্রা বদলে দেওয়ার ঘোষণাপত্র।
আলমডাঙ্গার সাংবাদিকসহ সুশীল সমাজের কিছু ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হয় সেফ এন্ড সুপার ফুড রেস্তোরাঁয়। এটি যেন আধুনিকতার ছোঁয়া, স্বাদের নতুনত্ব,এবং মানুষের মনে আশা জাগানোর মতো একটি জায়গা।
বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক রহমান মুকুল, হামিদুল আজম, নাহিদ হাসান। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক ফিরোজ ইফতেখার, এম এইচ শাওন, শরিফুল ইসলাম রোকন, তানভীর সোহেল, ডাক্তার আতিক, সোহেল হুদা, মুর্শিদ কলিন, এখলাস উদ্দীন, অনিক সাইফুল, আল আমিন পরশ, শাহরিয়ার শরিফ, রানা আফিন্দী।