লগইন
আলমডাঙ্গায় বাড়ির সামনের অংশ দিয়ে ড্রেনেজ পাইপ স্থাপন করতে বাধা দেওয়ায় অন্য ৮/১০টি পরিবারের চরম ভোগান্তির
বড় করে দেখুন
সহ-বার্তা সম্পাদক আপডেট: ০৭ জুলাই, ২০২৬ | ০৭:৪৬ বিকাল ৭০০ বার পঠিত
ফন্ট সাইজ:

সংবাদ শুনুন

প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন

চুয়াডাঙ্গা
আলমডাঙ্গায় বাড়ির সামনের অংশ দিয়ে ড্রেনেজ পাইপ স্থাপন করতে বাধা দেওয়ায় অন্য ৮/১০টি পরিবারের চরম ভোগান্তির

আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের রেলজগন্নাথপুর গ্রামে ৮/১০টি পরিবারের বাড়ির পানি নিষ্কাশনের পথ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি পরিবার তাদের বাড়ির সামনের অংশ দিয়ে ড্রেনেজ পাইপ স্থাপন করতে বাধা দেওয়ায় অন্য ৮/১০টি পরিবারের বাড়িতে পানি জমে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও সমাধান হয়নি। বর্তমানে এ নিয়ে আদালতেও মামলা চলমান রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার রেলজগন্নাথপুর গ্রামের মাঝেরপাড়ায় হাসিবুল ইসলাম, হামিদুল ইসলাম, মতিয়ার রহমান, সিল্টু, লালু, পিন্টু, রানা, হায়দার ও মিঠুসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের জমির তিন পাশ দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, যাতায়াতের সুবিধার জন্য প্রত্যেকে স্বেচ্ছায় দুই পাশে রাস্তার জন্য জমি দিয়েছেন। হামিদুল ইসলাম, মতিয়ার রহমান, সিল্টু, লালু, পিন্টু, রানা, হায়দার ও মিঠুসহ বেশ কয়েকটি বাড়ির পানি বের করার জন্য পাইপ ড্রেনেজ ব্যবস্থা করতে গেলে প্রবাসী হাসিবুল ইসলামের স্ত্রী বাধা দিয়ে তা বন্ধ করে দিয়েছে। ওই সকল বাড়িতে বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়। টিউবওয়েলের পানিও বের করার কোন পথ নাই। ফলে পানি ও বাড়ির ময়লা আবর্জনা পচে দূর্গন্ধ সৃষ্টি হচ্ছে।

সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে বাড়ির উত্তর পাশে হেরিংবোন (এইচবিবি) রাস্তা নির্মাণ করা হয়। এরপর ৮/১০টি পরিবারের বাড়ির ব্যবহৃত পানি রেললাইনের পাশের সরকারি খালে নিষ্কাশনের জন্য রাস্তার পাশ দিয়ে পাইপ বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রবাসী হাসিবুল ইসলামের স্ত্রী এতে আপত্তি জানান। এরপর থেকেই পাইপ স্থাপনের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মাটির নিচ দিয়ে পানির পাইপ দিলে কারও কোন সমস্যা হওয়ার কথা না। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ, মাপজোক ও সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

প্রবাসী হাসিবুল ইসলামের স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মেয়ে ফোন রিসিভ করেন। তিনি বলেন, আমার মা বর্তমানে বাড়িতে নেই। তিনি জানান, রাস্তার অপর পাশেও তাদের জমি রয়েছে। চাইলে তারা সেই দিক দিয়ে পাইপ স্থাপন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে পারে। আমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে পাইপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

ভুক্তভোগী হামিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের বাড়িসহ আশপাশের আরও কয়েকটি পরিবারের ঘরের সামনে বছরের বেশির ভাগ সময় পানি জমে থাকে। আমরা নিজেদের টাকায় পাইপ কিনে রেললাইনের পাশের সরকারি খালে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রতিবেশী বাধা দেওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। পরে আমাদের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। এতে আমরা আরও বিপাকে পড়েছি। বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসে আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকিও দেয়া হচ্ছে। হাসিবুল ইসলামের স্ত্রী নিজে বাড়ির পূর্বপাশে রাস্তার উপর টয়লেটের ট্যাংকি দিয়েছে এবং রাস্তা কেটে বাড়ির পানি বের করছে। কিন্তু আমাদের পানি বের করার জন্য পাইপ দিতে দিচ্ছে না।

রানা হোসেন বলেন, বাড়ির নোংরা পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে। দুর্গন্ধে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আত্মীয়-স্বজনও বাড়িতে আসতে চান না। মাত্র একটি পরিবারের আপত্তির কারণে কয়েকটি পরিবার বছরের পর বছর ভোগান্তি পোহাচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ইমরান হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। বাস্তবে কয়েকটি পরিবারের বাড়ির পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় তারা কষ্টে রয়েছে। পাইপ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও একটি পরিবারের আপত্তির কারণে তা সম্ভব হয়নি। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে অনেকে।

স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আইনগত ও বাস্তবসম্মত সমাধানের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে দীর্ঘদিনের এ দুর্ভোগের অবসান ঘটে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে লগইন করুন

লগইন করুন

সর্বশেষ সংবাদ

গাংনীতে প্রতিবন্ধীদের স্বাবলম্বী করতে বিএনএফ-এর অর্থায়নে বিনামূল্যে ছাগল বিতরণ

২৭ মিনিট আগে
গাংনীতে প্রতিবন্ধীদের স্বাবলম্বী করতে বিএনএফ-এর অর্থায়নে বিনামূল্যে ছাগল বিতরণ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২৯ মিনিট আগে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

১ ঘন্টা আগে
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

মার্কিন সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি

১ ঘন্টা আগে
মার্কিন সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি

৪৫ বাংলাদেশিসহ ১৮২ বিদেশি নিজ দেশে প্রত্যাবাসিত

২ ঘন্টা আগে
৪৫ বাংলাদেশিসহ ১৮২ বিদেশি নিজ দেশে প্রত্যাবাসিত

আসিফ মাহমুদের ইঙ্গিতপূর্ণ ফেসবুক পোস্ট

২ ঘন্টা আগে
আসিফ মাহমুদের ইঙ্গিতপূর্ণ ফেসবুক পোস্ট

আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভে উসকানির অভিযোগে ৩ নেতা আটক

৩ ঘন্টা আগে
আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভে উসকানির অভিযোগে ৩ নেতা আটক

বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযথ তদন্ত ছাড়াই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শাস্তির ঘটনায় এইচআরডব্লিউর উদ্বেগ

৩ ঘন্টা আগে
বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযথ তদন্ত ছাড়াই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শাস্তির ঘটনায় এইচআরডব্লিউর উদ্বেগ

অ্যাটলেটিকোকে হারালো বায়ার্ন, ভিয়ারিয়ালকে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করে শীর্ষে পিএসজি

৪ ঘন্টা আগে
অ্যাটলেটিকোকে হারালো বায়ার্ন, ভিয়ারিয়ালকে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করে শীর্ষে পিএসজি

অ্যাস্টন ভিলাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সেলোনার বড় জয়

৪ ঘন্টা আগে
অ্যাস্টন ভিলাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সেলোনার বড় জয়

নোটিফিকেশন চালু করুন

সর্বশেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো সবার আগে পেতে নোটিফিকেশন চালু করে রাখুন।