সহায়তার হাত ধরে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেরিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন করে উদ্দীপনা পেয়েছেন চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গার তিন ভিক্ষুক
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
সহায়তার হাত ধরে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেরিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন করে উদ্দীপনা পেয়েছেন আলমডাঙ্গার তিন ভিক্ষুক
সহায়তার হাত ধরে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেরিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন করে উদ্দীপনা পেয়েছেন চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গার তিন ভিক্ষুক।কারও হাতে নতুন পাখিভ্যানের হ্যান্ডেল, কারও জীবিকার নতুন অবলম্বন ছাগল, আবার কারও সামনে সাজানো মুদি দোকানের মালামাল। এতদিন যাদের জীবিকার সঙ্গে ভিক্ষার হাত উদ্যত ছিল, তাদের সামনে এবার খুলেছে নিজের শ্রমে উপার্জনের পথ। বৃহস্পতিবার দুপুরে আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ চত্তরে থেকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিকল্প কর্মসংস্থানের উপকরণ। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সমাজসেবা অধিদফতরের ‘ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচি’র আওতায় এ তিনজনের জন্য দেওয়া হয়েছে মোট ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮১০ টাকা মূল্যের আর্থিক সহায়তা ও কর্মসংস্থানের উপকরণ।
উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা অফিস আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এস এম শাহনেওয়াজ মেহেদি। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অফিসের সুপারভাইজার শামীমা নাসরিন, ইউনিয়ন সমাজকর্মী খোদা বক্স, হাফিজুর রহমান, শহিদুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান, শহিদুল ইসলাম, রুমা খাতুনসহ সমাজসেবা বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
উপজেলার শ্রীরামপুরের শাহজাহান আলীর হাতে তুলে দেওয়া হয় ৫৪ হাজার টাকা মূল্যের একটি নতুন পাখিভ্যান। মানুষের কাছে হাত পাতার বদলে এবার পাখিভ্যান চালিয়ে আয় করার সুযোগ তৈরি হলো তার সামনে। বাড়াদী ইউনিয়নের অনুপনগর গ্রামের মোছা. খোলেনা খাতুন পেয়েছেন ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ছাগল। ছাগল পালন করে ধীরে ধীরে সংসারের অভাব কাটিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রত্যাশা তার। অন্যদিকে, জেহালা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের সিহাব উদ্দিনকে দেওয়া হয়েছে ৫০ হাজার টাকা মূল্যের মুদি দোকানের মালামাল। ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান তিনি।
তিনজনের জন্য সহায়তার ধরনও আলাদা। কারও জন্য দেওয়া হয়েছে চলমান জীবিকার উপকরণ, কারও জন্য পশুপালন, আবার কারও জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসা। অর্থাৎ একই ধরনের সহায়তার বদলে তাদের সম্ভাব্য জীবিকার পথকে সামনে রেখেই কর্মসংস্থানের উপকরণ দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ভিক্ষাবৃত্তি থেকে মানুষকে বের করে আনতে শুধু আর্থিক সহায়তা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। একজন মানুষ নিজের শ্রমে আয় করতে পারলে তার আত্মমর্যাদা যেমন বাড়ে, তেমনি পরিবারের ওপরও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
সরকারের ‘ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচি’র মূল লক্ষ্যও ভিক্ষাবৃত্তির পরিবর্তে মানুষের জন্য আয়মুখী কাজের সুযোগ তৈরি করা। তবে এমন উদ্যোগের সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করে সহায়তার উপকরণ যথাযথভাবে কাজে লাগানো এবং নিয়মিতভাবে উপকারভোগীদের পাশে থাকার ওপর।
আলমডাঙ্গার তিনজন ভিক্ষুকের হাতে যে উপকরণগুলো তুলে দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর আর্থিক মূল্য ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮১০ টাকা। কিন্তু তাদের জন্য এর মূল্য কেবল টাকার অঙ্কে মাপার নয়। একটি পাখিভ্যান, কয়েকটি ছাগল কিংবা একটি মুদি দোকানের পণ্য—এসবই তাদের কাছে হাত পাতার জীবন থেকে শ্রমের জীবনে ফেরার সম্ভাব্য সেতুবন্ধন।
ভিক্ষার হাত একদিনে বদলে যাবে না। বদলাতে হবে জীবিকার পথ। সেই পথ তৈরির প্রথম ধাপ হিসেবে তিনজন মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হলো কাজের উপকরণ। এখন সেই উপকরণ কতটা টেকসই জীবিকার ভিত্তি হয়ে ওঠে, সেটিই দেখার বিষয়।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেফতার শিক্ষক এনামুল হক সাময়িক বরখাস্ত
২৩ মিনিট আগে
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’-এর শুভ উদ্বোধন
৩১ মিনিট আগে
আলমডাঙ্গার জামজামি মধুপুরে অবৈধ কয়লা তৈরির কারখানায় প্রশাসনের অভিযান : মালিক নিজের হাতেই ভাঙল নিজের কারখানা
২ ঘন্টা আগে