সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
‘গুপ্ত ও সুপ্ত’ শক্তির গোপন ঐক্যের কারণেই বিএনপির প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন | অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মন্তব্য করেছেন যে, ‘গুপ্ত ও সুপ্ত’ দুটি শক্তির গোপন আঁতাতের ফলেই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৭১ এবং ২০২৪ সালের পরাজিত অপশক্তিদের মধ্যে গড়ে ওঠা এই ঐক্য নতুন কিছু নয়, বরং অনেক পুরনো। বর্তমান প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাসের গভীরতা অজানা থাকলেও প্রবীণ রাজনৈতিক নেতারা বিষয়টি খুব ভালোভাবেই অবগত আছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মেহেরপুর পৌর কমিউনিটি সেন্টারে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মেহেরপুরে সাংগঠনিক সফর উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী অমিত আশির দশকের ছাত্র রাজনীতি স্মরণ করে বলেন, ‘আজ যারা নিজেদের সেই সময়ের ছাত্রনেতা হিসেবে দাবি করেন, তাদের তৎকালীন কর্মকাণ্ডের ইতিহাস আমাদের অজানা নয়। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সেই ক্রান্তিকালে বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা যখন রাজপথে আন্দোলন করছিলেন, তখন পর্দার অন্তরালে কারা জাতীয় ঐক্যের পিঠে ছুরি মেরেছিল, তা ইতিহাসের পাতায় স্পষ্ট।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৮৬ সালে এরশাদ সরকারের অধীনে পাতানো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইতিহাস পর্যালোচনা করলেই এই ‘গুপ্ত ও সুপ্ত’ শক্তির আঁতাতের সত্যতা বোঝা যাবে। তাঁর দাবি, এই পুরনো অপশক্তিই বর্তমান সময়ে নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাত্র সাত মাস বয়সী একটি সরকারকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং নির্বাচনের আগে ও পরে সরকারকে অচল করার একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্তের অংশ। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার অপরাজনীতি করে আসছে।
জনগণের প্রতি এই গোষ্ঠীর ক্ষোভ বেশি দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের ক্ষোভ বিএনপির চেয়েও এ দেশের সাধারণ মানুষের প্রতি বেশি। যারা বাংলাদেশের মূল আদর্শ ও গণতান্ত্রিক ধারায় বিশ্বাস করে না, তারাই প্রতিনিয়ত জনগণের ভোটাধিকার হরণের চেষ্টা করেছে।’ তিনি আরও বলেন, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে ২০১৪ সালের মতো একতরফা নির্বাচন করত না এবং রাতের ভোট দিনের করার মতো বিতর্কিত চর্চায় জড়াত না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা ভালো করেই জানত যে দেশের মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে বিএনপিকেই বেছে নেবে। তাই তারা দীর্ঘ সময় ধরে মানুষকে ভোটবিমুখ করার চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু যখন তারা সফল হতে পারেনি, তখন বিভ্রান্তি ছড়াতে এই ‘গুপ্ত ও সুপ্ত’ শক্তির ঐক্য সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে দেশের মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং তাদের এই ষড়যন্ত্র সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুণ এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ আমজাদ হোসেন। এ সময় জেলা বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
মেহেরপুরে ৭ নভেম্বর জাতীয় সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভা
১ ঘন্টা আগে
আশুলিয়ায় ‘এটিসি ট্রেনিং অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু
১ ঘন্টা আগে
মেহেরপুরে ইজতেমার নিরাপত্তা জোরদারে জেলা পুলিশের বিশেষ ব্রিফিং
৩ ঘন্টা আগে