সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
মেহেরপুরের মল্লিক পাড়ায় থমকে আছে ড্রেন নির্মাণ | চরম দুর্ভোগে বাসিন্দারা, দুর্ঘটনার আশঙ্কা
মেহেরপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মল্লিক পাড়ায় ড্রেন নির্মাণ কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন ও রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রাখায় ওই এলাকার অন্তত ৩০ থেকে ৪০টি পরিবার বিপাকে পড়েছে। যাতায়াতের রাস্তায় সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক ঝুঁকি, সেই সঙ্গে বাড়ছে মশার উপদ্রব।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কয়েক মাস আগে ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু হলেও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ কাজটি বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ড্রেনটি আর সম্পন্ন করা হয়নি। ফলে রাস্তার একপাশে বিশাল গর্ত ও খোলা ড্রেন বিপজ্জনক অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মল্লিক পাড়ার সরু গলির একপাশে ড্রেনের কাজ অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজ দায়িত্বে বাড়ি থেকে বের হওয়ার জন্য ড্রেনের ওপর কাঠের তক্তা দিয়ে সাঁকো তৈরি করে নিয়েছেন। চলাচলের রাস্তা অত্যন্ত সরু হয়ে যাওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে চরমভাবে। রাতে অন্ধকারে এ গর্তে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আরও তীব্র হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সামসুল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "গত দুই মাস ধরে ড্রেনের জন্য রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। চারদিকে পানি জমে মশার লার্ভা তৈরি হচ্ছে। ঘরের মধ্যে মশার উৎপাতে থাকা দায়। পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ারকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। যাতায়াত করতে গিয়ে আমি নিজেই মোটরসাইকেল নিয়ে গর্তে পড়ে যাচ্ছিলাম।"
আরেক বাসিন্দা হৃদয় হাসান বলেন, "রাস্তা খুঁড়ে রাখার পর তা মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়নি। উল্টো নতুন ড্রেনটি এখনই ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। এমন যন্ত্রণাদায়ক ড্রেন না হওয়াই আমাদের জন্য ভালো ছিল।" এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা গৌশল আজম ও সিদ্দিকুর রহমান জানান, দ্রুত এই বিপজ্জনক গর্ত ও ড্রেনের কাজ শেষ না করলে যেকোনো সময় শিশুরা বড় কোনো দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে।
এ বিষয়ে মেহেরপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মাসুদ রানা বলেন, "স্থানীয় বাসিন্দাদের এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ঠিকাদার পুনরায় কাজ শুরু করার আগ পর্যন্ত সাময়িকভাবে ড্রেনের চারপাশ মাটি দিয়ে ভরাট করে যাতায়াত নিরাপদ করার ব্যবস্থা করছি আমরা।"
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার মো. জুম্মান জানান, "অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ড্রেনটির কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। কাজ চলমান থাকায় পাশে মাটি ফেলা হয়নি। তবে আগামী সোম বা মঙ্গলবারের মধ্যে আমরা পুনরায় কাজ শুরু করতে পারব বলে আশা করছি।"
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সনদ গ্রহণ করলেন মেহেরপুরের কাবাডি খেলোয়াড় সাফি
৪৬ মিনিট আগে
মেহেরপুরে ৭ নভেম্বর জাতীয় সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভা
১ দিন আগে
আশুলিয়ায় ‘এটিসি ট্রেনিং অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু
১ দিন আগে