আলমডাঙ্গায় মাদ্রাসাছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ : বড় হুজুরকে মারধর করে পুলিশে দিল এলাকাবাসী
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
আলমডাঙ্গায় মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ‘বড় হুজুর’ আটক, গণপিটুনির পর থানায়।। অভিযোগ সম্পর্কে দ্বিমত
আলমডাঙ্গার চরপাড়া কওমি মহিলা মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির এক আবাসিক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার ‘বড় হুজুর’ আবুল কালাম আজাদকে আটক করে মারধরের পর পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় মামলা করেছেন। তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে গ্রামে ভিন্ন মতও রয়েছে। অভিযুক্তের দাবি, তাকে মাদ্রাসা থেকে সরিয়ে দিতে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার জামজামি ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের চরপাড়া জামিয়া ইসলামীয়া কওমি মহিলা মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। খবর ছড়িয়ে পড়লে মাদ্রাসা এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জামজামি পুলিশ ক্যাম্প ও আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে পুলিশ আবুল কালাম আজাদকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, চরপাড়া জামিয়া ইসলামীয়া কওমি মহিলা মাদ্রাসায় পুরুষ ও মহিলা শাখার পাশাপাশি আবাসিক ও কিন্ডারগার্টেন শাখা রয়েছে। মহিলা শাখার আবাসিক বিভাগে শতাধিক ছাত্রী পড়াশোনা করে।
দামুড়হুদা উপজেলার উজিরপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আবুল কালাম আজাদ প্রায় ১০ বছর ধরে ওই মাদ্রাসার ‘বড় হুজুর’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার স্ত্রী মাহফুজা খাতুনও মাদ্রাসার মহিলা শাখায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তারা সস্ত্রীক মাদ্রাসা প্রাঙ্গণের একটি কক্ষে বসবাস করতেন।
মামলার এজাহারে ওই ছাত্রী অভিযোগ করেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টার দিকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অবস্থিত অভিযুক্তের ব্যক্তিগত কক্ষে তাকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই ছাত্রীর সঙ্গে এর আগেও একাধিকবার একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ছাত্রীর বাবা শাহানুর ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে আবুল কালাম আজাদ তাকে ফোন করে মেয়েকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যেতে বলেন। তাকে বলা হয়, তার মেয়ে ‘বেয়াদব’ হয়ে গেছে। পরে মাদ্রাসায় গিয়ে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় সে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা জানায় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘মেয়েকে দেখতে মাদ্রাসায় গেলে আমাদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হতো না। তার জন্য কিছু নিয়ে গেলে অন্য লোকের মাধ্যমে পাঠাতে হতো।’
পরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা আবুল কালাম আজাদকে আটক করে মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে গ্রামের সবার অবস্থান এক নয়। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ঘটনাটি নিয়ে তদন্তের আগে কাউকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। তাদের ভাষ্য, অভিযোগের পেছনে অন্য কোনো বিরোধ বা উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
আবুল কালাম আজাদের দাবি, তিনি ও তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে ওই মাদ্রাসায় চাকরি করছেন। এ সময় গ্রামের বিভিন্ন ব্যক্তি মাদ্রাসায় চাকরি করার আগ্রহ প্রকাশ করলেও যোগ্যতা না থাকায় তাদের অনেককে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ কারণে তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে প্রতিশোধপরায়ণ আচরণ করছেন এবং তাকে মাদ্রাসা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে তার অভিযোগ।
অভিযুক্তের দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
স্থানীয় কয়েকজনও নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাদ্রাসায় চাকরি পাওয়া নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই অসন্তোষ ও প্রতিযোগিতা ছিল। তবে ধর্ষণের অভিযোগের সঙ্গে সেই বিরোধের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। অনেকের দাবি, অনেক দূরে বাড়ি হুজুরের। এত দূরের মানুষ ওই গ্রামে চাকরি করে ভাগ্য বদলে ফেলেছেন। অথচ, তিনি এখান থেকে চলে গেলে সেই সুযোগ স্থানীয় কারো জুটতো। এ বিষয়েও অনেকের মনে প্রতিহিংসা ছিল। গ্রামের অনেকের দাবি -- ভিকটিম ছাত্রী প্রেম করতো। এটি জানার পর বড় হুজুর ওই ছাত্রিকে মাদ্রাসায় রাখতে অনীহা প্রকাশ করেন। তিনি ছাত্রীর বাবাকে ডেকে তার হাতে মেয়ে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ছাত্রি কিছু ব্যক্তির প্ররোচনায় এ অভিযোগ তুলতে পারে।
তাছাড়া, স্ত্রী সাথে অবস্থান করা অবস্থায় একাধিকবার ধর্ষণ অস্বাভাবিক ঘটনা বলেও অনেকে দাবি করেন।
আলমডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ বানী ইসরাইল জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হুজুরকে উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে। পরে মেয়ের বাবা বাদী হয়ে ধর্ষণের লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগটি তদন্তাধীন। তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত সত্যতা ও এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও বিভক্ত মতের সৃষ্টি হয়েছে। এক পক্ষ অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছে, অন্য পক্ষ বলছে—ঘটনার পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ বা ষড়যন্ত্রের কোনো ভূমিকা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তে খতিয়ে দেখা উচিত।
অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ও স্থানীয়দের ভিন্নমতের মধ্যেই ঘটনাটি এখন তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত সত্যতা এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বাস্তবতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেফতার শিক্ষক এনামুল হক সাময়িক বরখাস্ত
৩০ মিনিট আগে
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’-এর শুভ উদ্বোধন
৩৮ মিনিট আগে
আলমডাঙ্গার জামজামি মধুপুরে অবৈধ কয়লা তৈরির কারখানায় প্রশাসনের অভিযান : মালিক নিজের হাতেই ভাঙল নিজের কারখানা
২ ঘন্টা আগে