আলমডাঙ্গায় ফুটপাত ও ব্রিজ দখলমুক্ত করতে অভিযান; আনন্দধামের ঝুঁকিপূর্ণ দোকান সরানোর নির্দেশ
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
আলমডাঙ্গায় ফুটপাত ও ব্রিজ দখলমুক্ত করতে অভিযান; আনন্দধামের ঝুঁকিপূর্ণ দোকান সরানোর নির্দেশ
একদিকে উঁচু ব্রিজ, দু’পাশে নিচু সড়ক। ব্রিজে ওঠার মুখে দোকানের আড়াল। বিপরীত দিক থেকে ছুটে আসা ট্রাক কিংবা বড় যানবাহন চোখে পড়ার আগেই কাছাকাছি চলে আসতে পারে দুই দিকের যান। সাথে নিকটবর্তী হয় দুর্ঘটনার ঝুঁকি। আলমডাঙ্গার আনন্দধাম ব্রিজের নতুন ও পুরোনো অংশের মাঝখানে থাকা দোকানটি ঘিরে দীর্ঘদিনের এই ঝুঁকি কমাতে সেটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
একই সঙ্গে আলমডাঙ্গা শহরের প্রবেশমুখ হাউসপুর ব্রিজ ও সাদা ব্রিজের ওপর অবৈধভাবে বসানো ভ্রাম্যমাণ দোকান এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক শাহীনুর আক্তার। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, আলমডাঙ্গা-জামজামি সড়কের আনন্দধাম ব্রিজের দু’পাশে দৃষ্টিসীমা আটকে থাকা স্থাপনাগুলোর কারণে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন আগেভাগে দেখা যায় না। গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের ক্যানেলের ওপর নির্মিত ব্রিজটি দু’পাশের সড়কের তুলনায় উঁচু হওয়ায় ওঠার মুখে এমনিতেই দৃষ্টিসীমা সীমিত থাকে। এর ওপর নতুন ও পুরোনো ব্রিজের মাঝখানে থাকা দোকানটি পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
বিশেষ করে জামজামির দিক থেকে কোনো ট্রাক বা বড় যানবাহন ব্রিজে ওঠার সময় আনন্দধামের দিক থেকে আসা যান সহজে চোখে পড়ে না। একইভাবে আনন্দধামের দিক থেকে ব্রিজে ওঠার সময়ও বিপরীত দিকের যানবাহন আড়ালে থেকে যেতে পারে। ফলে মুখোমুখি সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। দোকানটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ কার্যকর হলে এই দৃষ্টিবাঁধা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
শুধু আনন্দধাম ব্রিজ নয়, শহরের প্রবেশপথ হাউসপুর ব্রিজ ও সাদা ব্রিজের ওপরও দীর্ঘদিন ধরে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন এক শ্রেণির ব্যবসায়ী। বিশেষ করে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এসব দোকান থাকায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটত। পাশাপাশি তৈরি হতো যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
অন্যদিকে, শহরের হাইরোড, হাফিজ মোড় ও হাউসপুর ব্রিজ এলাকার বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ফুটপাত দখল করে মালামাল রাখা এবং অতিরিক্ত টিনের চালা নির্মাণের কারণে পথচারীদের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে মানুষকে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে শিশু, নারী ও বয়স্ক পথচারীদের নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ছে।
অভিযানকালে হাউসপুর ও সাদা ব্রিজের ওপর বসানো দোকানগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে ব্রিজের ওপর দোকান না বসানোর জন্য ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন স্থানে ফুটপাত দখল করে রাখা মালামাল সরিয়ে নেওয়া এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে নির্মিত অতিরিক্ত টিনের চালা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
ইউএনও ও পৌর প্রশাসক শাহীনুর আক্তার বলেন, “হাউসপুর ও সাদা ব্রিজ এবং শহরের ফুটপাত দখল করে কোনো ব্যবসায়ী ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন না। জনসাধারণের চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করে ব্যবসা করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। নির্দেশনা অমান্য করে কেউ ব্রিজ বা ফুটপাত দখল করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রশাসনের এ উদ্যোগকে জননিরাপত্তার স্বার্থে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সচেতন নাগরিকেরা। তবে তাদের মতে, এক দিনের অভিযানই যথেষ্ট নয়। নিয়মিত তদারকি ও নজরদারি থাকলে ব্রিজ ও ফুটপাত পুনরায় দখল হওয়ার প্রবণতা কমবে।
আনন্দধাম ব্রিজের দোকানটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও তাই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি কেবল একটি দোকান সরানোর বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ব্যস্ত সড়কে চালকদের দৃষ্টিসীমা, পথচারীদের নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়ানোর প্রশ্ন। নির্দেশটি দ্রুত কার্যকর করা এবং শহরের অন্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতেও একইভাবে নজর দেওয়া গেলে প্রশাসনের এই উদ্যোগ জনসাধারণের জন্য আরও কার্যকর হয়ে উঠবে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গা ব্যায়ামাগার কর্তৃক নিউরো সার্জন অধ্যাপক ডা. মোখলেছুর রহমানকে সংবর্ধনা প্রদান
২ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মহাব্বত আলীর দাফন সম্পন্ন
৪ ঘন্টা আগে
কৃত্রিম সংকট রোধ ও ডিলারদের মজুত- বিক্রির হিসাব যাচাই সরেজমিনে পরিদর্শন; চুয়াডাঙ্গায় মাঠে নামছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব
৪ ঘন্টা আগে