আলমডাঙ্গায় এমপি গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনাল: ফিরছে হারানো ঐতিহ্য, গ্যালারিতে দুই এমপি
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
ফুটবল | আলমডাঙ্গায় এমপি গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনাল: ফিরছে হারানো ঐতিহ্য, গ্যালারিতে দুই এমপি
একসময় ফুটবল ছিল আলমডাঙ্গার প্রাণের খেলা। এ জনপদের খেলোয়াড়েরা শুধু স্থানীয় মাঠেই নয়, ব্রিটিশ ভারত ও পাকিস্তান আমলের শুরুতে কলকাতার মাঠও কাঁপিয়েছেন। সময়ের স্রোতে সেই গৌরবময় ঐতিহ্যে ভাটা পড়লেও হারিয়ে যাওয়া সেই ফুটবল-ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার প্রত্যয়ে এবার আয়োজন করা হয় ‘এমপি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’। শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে আলমডাঙ্গা স্টেডিয়াম মাঠে জমজমাট ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ১৬ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ টুর্নামেন্ট। হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাসের মাঝে ফাইনাল খেলা উপভোগ করেন চুয়াডাঙ্গার দুই সংসদ সদস্য।
‘সুস্থ ক্রীড়াঙ্গনে গড়বো মাদকমুক্ত বাংলাদেশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে আলমডাঙ্গা স্পোর্টস একাডেমি আয়োজিত এ টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হয় কালিদাসপুর ইউনিয়ন ও ভাংবাড়িয়া ইউনিয়ন। শুরু থেকেই টানটান উত্তেজনায় এগিয়ে চলা ম্যাচে শেষ মিনিটে প্রতিপক্ষের জালে একমাত্র গোলটি করে কালিদাসপুর ইউনিয়ন। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়ে চ্যাম্পিয়নের গৌরব অর্জন করে দলটি। রানার্সআপ হয় ভাংবাড়িয়া ইউনিয়ন।
ফাইনাল ঘিরে বিকেল থেকেই আলমডাঙ্গা স্টেডিয়াম মাঠে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন বয়সী দর্শক ও ক্রীড়াপ্রেমীরা। খেলা শুরুর পর গ্যালারিসহ মাঠের চারপাশে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। দীর্ঘদিন পর বড় পরিসরে ফুটবল আয়োজন হওয়ায় দর্শকদের মধ্যেও ছিল বাড়তি উচ্ছ্বাস।
তবে এই আয়োজনের তাৎপর্য শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে সীমাবদ্ধ নয়। আলমডাঙ্গার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটি হারিয়ে যাওয়া এক গৌরবের অধ্যায় নতুন করে ফিরিয়ে আনার প্রয়াস।
আলমডাঙ্গার ক্রীড়া ইতিহাসে ফুটবলের রয়েছে দীর্ঘ ও গৌরবময় ঐতিহ্য। স্থানীয় ক্রীড়া ইতিহাস থেকে জানা যায়, ব্রিটিশ ভারত আমলেই এ অঞ্চলের ফুটবল খেলোয়াড়েরা কলকাতার মাঠে গিয়ে নিজেদের ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। পাকিস্তান আমলের শুরুর দিকেও আলমডাঙ্গার খেলোয়াড়দের দাপট ছিল বিভিন্ন মাঠে। শুধু উপমহাদেশেই নয়, এ জনপদের কৃতী খেলোয়াড়েরা দেশের সীমানা পেরিয়েও খেলেছেন। প্রয়াত কৃতী ফুটবলার আকুল মোল্লা ইরানেও ফুটবল খেলেছেন যা আলমডাঙ্গার ফুটবল প্রতিভার আন্তর্জাতিক পরিসরের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সেই ঐতিহ্যের উত্তরসূরি নতুন প্রজন্মকে আবারও মাঠমুখী করার লক্ষ্যেই বড় পরিসরে এ টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা। তাদের প্রত্যাশা, নিয়মিত এমন আয়োজন হলে আলমডাঙ্গার ফুটবলে নতুন প্রাণ ফিরবে এবং একসময় যে মাঠে দর্শকের ঢল নামত, সেই মাঠ আবারও তরুণ খেলোয়াড়দের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে।
খেলা শেষে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। আলমডাঙ্গা স্পোর্টস একাডেমির সভাপতি শেখ নূর মোহাম্মদ হোসাইন টিপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য রুহুল আমীন বলেন, আসুন, সবাই মিলে আমরা আমাদের প্রিয় দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাই। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যা সম্পূর্ণভাবে মাদকমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত এবং দখলবাজমুক্ত হবে। আজকের তরুণ সমাজই আমাদের আগামী দিনের নেতৃত্বের মূল চালিকা শক্তি। যুবসমাজকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে সরকার ইতোমধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নের স্কুল ও কলেজের খেলার মাঠগুলো সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে সুস্থ, সুন্দর ও মানবিক জীবন গড়ার সুযোগ দিতে হবে। সরকারও ক্রীড়া উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, এই মাঠের সংস্কার কাজ শেষ হলে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এটি একটি পূর্ণাঙ্গ মিনি স্টেডিয়ামে রূপ নেবে। পরবর্তীতে এমন বড় বড় ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে এলাকার যুবকদের বিষন্নতা (ডিপ্রেশন) দূর হবে এবং তাদের মাঝে নতুন আনন্দের সঞ্চার ঘটবে। যুবসমাজকে সুপথে রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো আমাদের তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করা। মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দিতে পারে। তরুণদের মাঠমুখী করতে হলে প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রামে খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। খেলাধুলার মাধ্যমে একটি মাদকমুক্ত, সুশৃঙ্খল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) হোসেন আলী, জেলা জামায়াতের সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আলতাফ হোসেন, জেলা জামায়াতের আইন ও আদালত বিষয়ক সম্পাদক দারুস সালাম, উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর ইউসুফ আলী মাস্টার, জিএ শাখার আমীর আব্বাস উদ্দিন, সাবেক আমীর প্রভাষক শফিউল আলম বকুল, পৌর জামায়াতের আমীর মাহের আলী, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মামুন রেজা, জেলা জামায়াতের শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি কাইয়ুম উদ্দিন হিরোক, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মামুন অর রশিদ মন্ডল, সাবেক খেলোয়াড় বাবলুর রহমান, মিজানুর রহমান, রতন সাহা, মতিয়ার রহমান ও সাজ্জাদ হোসেন।
আলমডাঙ্গা স্পোর্টস একাডেমির যুগ্ম সম্পাদক সাহীদ সাহিনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা স্পোর্টস একাডেমির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম পিন্টু, ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন, মোস্তাফিজুর রহমান টুটুল, শেখ জুয়েল, শরিফুল ইসলাম রোকন, ইউনুস মাস্টার, সাব্বির প্রমুখ।
খেলার ধারা বিবরণী প্রদান করেন সাবেক খেলোয়াড় এবি সিদ্দীক ও জাফর উল্লাহ শরাফত। রেফারির দায়িত্ব পালন করেন সোহাগ হোসেন। সহকারী রেফারি ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন, সলক ও জাহিদ হাসান।
পুরস্কার বিতরণ শেষে চ্যাম্পিয়ন কালিদাসপুর ইউনিয়ন ও রানার্সআপ ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।
আয়োজকরা জানান, তরুণ সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও বিভিন্ন অপরাধ থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলার পাশাপাশি আলমডাঙ্গার হারিয়ে যাওয়া ফুটবল ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই এ ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, নিয়মিত বড় পরিসরের ফুটবল আয়োজনের মধ্য দিয়ে আলমডাঙ্গার মাঠে আবারও ফিরবে সেই পুরোনো দিনের উন্মাদনা, গড়ে উঠবে নতুন প্রজন্মের কৃতী খেলোয়াড় এবং দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আলমডাঙ্গার ফুটবলের গৌরব আবারও ছড়িয়ে পড়বে বহুদূর।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
বড়ভাই গ্রেপ্তার, আদালতে স্বীকারোক্তি
৩ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত
৪ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় ১১টি মাদক মামলার পলাতক আসামী লিজু মালিথাসহ ২জন গ্রেফতার: জিসানের ৬ মাসের কারাদন্ড
৪ ঘন্টা আগে