আলমডাঙ্গায় চুরির অভিযোগে দুদু নামের এক যুবককে সিনেমার সিনেমা স্টাইলে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
পিটিয়ে হত্যা | আলমডাঙ্গায় চুরির অভিযোগে দুদু নামের এক যুবককে সিনেমা স্টাইলে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা
আলমডাঙ্গায় চুরির অভিযোগে দুদু (২৩) নামের এক যুবককে সিনেমা স্টাইলে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ১৭ মে রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার হাউসপুর ব্রিজ এলাকায় ঘটে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা।
নিহত দুদু আসাননগর গ্রামের মিজানুরের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক। তার ছোট সন্তানের বয়স মাত্র চার মাস। বাবার মুখটি ভালোভাবে চেনার আগেই শিশুটির মাথা থেকে সরে গেল পিতার ছায়া।
স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে হাউসপুর গ্রামের হাফিজুরের ছেলে অন্তুরের একটি ভ্যান চুরি হয়। এলাকাবাসীর দাবি, আলমডাঙ্গা অঞ্চলে চুরি হওয়া ভ্যান ও মোটরসাইকেল সাধারণত মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ এলাকায় বিক্রি করা হয়। সেই সূত্র ধরে অন্তর কয়েকজনকে নিয়ে পোড়াদহে যায় ভ্যানের খোঁজে।
অভিযোগ উঠেছে, সেখানে অন্তরদের উপস্থিতি টের পেয়ে দুদু একটি ভ্যান নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর থেকেই তার ওপর নেমে আসে ভয়ঙ্কর প্রতিশোধের ছায়া।
রবিবার সকালে সুমন, আশিক, বায়োজিদ, রফিক ও শাকিলসহ কয়েকজনকে নিয়ে অন্তর দুদুর বাড়িতে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। সে সময় দুদুর মাকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, “যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই হত্যা করা হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, রবিবার রাত ৮টার দিকে সংঘবদ্ধভাবে দুদুকে কুমার নদের আসাননগর ঘাট এলাকা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয় হাউসপুর ঈদগাহ মাঠে। সেখানে তাকে ঘিরে চলে নির্মম মারধর। অসহায় যুবকের আর্তচিৎকার রাতের অন্ধকারে মিলিয়ে গেলেও থামেনি নির্যাতন।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে আলমডাঙ্গার আনন্দধামের শরিফুল ক্লিনিকে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে অভিযুক্তরা দ্রুত লাশ নিয়ে হাউসপুর বটতলা এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে স্থানীয় সচেতন মহল ভয়াবহ বর্বরতা বলে মন্তব্য করেছেন। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ বানী ইসরাইল বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যে কোনো অপরাধের বিচার আইনের মাধ্যমেই হতে হবে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। তুচ্ছ ঘটনায় বাড়ছে প্রাণহানির নিষ্ঠুরতা।
সাম্প্রতিক সময়ে তুচ্ছ ঘটনা, সন্দেহ কিংবা সামান্য বিরোধকে কেন্দ্র করে মানুষ হত্যার প্রবণতা ভয়াবহভাবে বেড়ে চলেছে। সামাজিক সহনশীলতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি প্রতিশোধপ্রবণতা ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মানসিকতা সমাজকে অস্থির করে তুলছে। একটি অভিযোগ সত্য না মিথ্যা—তা যাচাইয়ের দায়িত্ব আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। কিন্তু এখন অনেকেই মুহূর্তের উত্তেজনায় জল্লাদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে মানবিকতা, সহনশীলতা আর অসহায় পরিবারগুলো মুহূর্তেই পরিণত হচ্ছে শোকের জনপদে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের অভিযানে মাদক মামলা ও পরোয়াভুক্ত আসামীসহ ৫ জন গ্রেফতার : ইয়াবা উদ্ধার
১ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গা শহরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান : তিন মোটরসাইকেল চালককে জরিমানা
১ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গা পৌরসভার উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান
১ ঘন্টা আগে