আলমডাঙ্গার লোটাস সুপার আইসক্রিম ফ্যাক্টরিতে ৫০ হাজার জরিমানা ॥ কয়েক লাখ টাকার আইসক্রিম ধংসর
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
আলমডাঙ্গার লোটাস সুপার আইসক্রিম ফ্যাক্টরিতে ৫০ হাজার জরিমানা ॥ কয়েক লাখ টাকার আইসক্রিম ধংস
ছোট শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার প্রিয় আইসক্রিমকে যেন বিষে পরিণত করা হচ্ছিল চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায়। অস্বাস্থ্যকর, নোংরা পরিবেশে এবং খাদ্যোপযোগী রঙের বদলে সরাসরি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কালার ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছিল আইসক্রিম। এমন চাঞ্চল্যকর ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রমের দায়ে আলমডাঙ্গার হাউসপুর এলাকার লোটাস সুপার আইসক্রিম ফ্যাক্টরিতে যৌথ অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (৩ মে) দুপুরে পরিচালিত অভিযানে দেখা যায়, ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে নোংরা পরিবেশে আইসক্রিম উৎপাদন করা হচ্ছে। ভয়াবহ তথ্য হলো খাদ্যে ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী ইন্ডাস্ট্রিয়াল কালার মিশিয়ে আইসক্রিম তৈরি করা হচ্ছিল, যা সরাসরি মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এ প্রতিষ্ঠানটির কোনো বৈধ কাগজপত্রই নেই।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা জেলার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান ও জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সজিব পাল যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন আলমডাঙ্গা-জামজামি সড়কের লোটাস সুপার আইসক্রিম ফ্যাক্টরিতে। অভিযানে ফ্যাক্টরির ৮টি ফ্রিজে কয়েক হাজার আইসক্রিম মজুদ পাওয়া যায়, যা সবই একই অনিয়মে উৎপাদিত।
এ ধরনের অবৈধ ও জনস্বাস্থ্যবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে ফ্যাক্টরির মালিক সাজেদুর রহমানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ফ্যাক্টরিতে মজুদ থাকা কয়েক লাখ টাকার আইসক্রিম জব্দ করে তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয়।
এসময় লোটাস সুপার আইসক্রিম ফ্যাক্টরির মালিককে লাইসেন্স ব্যতীত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বৈধ লাইসেন্স গ্রহণের পরই আইসক্রিম উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করা যাবে বলে জানানো হয়। পাশাপাশি উৎপাদিত আইসক্রিমে কোনো ধরনের কৃত্রিম রং (কালার) ব্যবহার না করার জন্য কঠোর নির্দেশ প্রদান করা হয়।
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান কঠোর ভাষায় বলেন, জনগণের স্বাস্থ্য নিয়ে এ ধরনের নির্মম ছিনিমিনি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। আইন অমান্য করে যারা মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সচেতন মহল বলছে, এমন ভয়ংকর অনিয়ম শুধু আইন ভঙ্গই নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের যৌথ অভিযানে আইন শৃঙ্খলার রক্ষার দায়িত্বে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের এসআই আব্দুল কাইয়ুমসহ সঙ্গীয় ফোর্স উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের অভিযানে মাদক মামলা ও পরোয়াভুক্ত আসামীসহ ৫ জন গ্রেফতার : ইয়াবা উদ্ধার
৩ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গা শহরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান : তিন মোটরসাইকেল চালককে জরিমানা
৩ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গা পৌরসভার উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান
৩ ঘন্টা আগে