লগইন
ঝিনাইদহের মাঠে মাঠে চলছে হৈ চৈ আর কৃষকদের উৎফুল্লতা
বড় করে দেখুন
সাম্প্রতিকী ডেক্স আপডেট: ১১ ডিসেম্বর, ২০২০ | ১২:০০ রাত ৪১ বার পঠিত
ফন্ট সাইজ:

সংবাদ শুনুন

প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন

ঝিনাইদহের মাঠে মাঠে চলছে হৈ চৈ আর কৃষকদের উৎফুল্লতা

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহঃ ঝিনাইদহের মাঠে মাঠে চলছে হৈ চৈ আর কৃষকদের উৎফুল্লতা। গ্রামের বাড়ি বাড়িতে কৃষাণীদের ব্যস্ততাও কমতি নেই। তারা ক্ষেতে চাষ করেছেন বিভিন্ন জাতের ধানের। এগুলোর আকৃতি ও আয়ুষ্কালের যেমন পার্থক্য রয়েছে। তেমনি রয়েছে ফলনেরও তারতম্য। অনেক ধান কৃষকেরা ইতোমধ্যে ঘরেও তুলেছেন। এখন হিসেব কষছেন কোন ধানের কেমন ফলন। এলাকার কোন কৃষকের ক্ষেতে হয়েছে সর্বোচ্চ ফলন।

এরমধ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত বিধান ৮৭ ফলনে চমক সৃষ্টি করেছে। যা তাদের ঘরে উঠতে শুরু করেছে। এ জাতের ধানচাষে কম খরচে মাত্র ১’শ ৩৭ দিনে সংগ্রহ করা যায়। কৃষকদের ভাষ্য, ব্রি ধান ৮৭’তে অভাবনীয় ফলন। কাজেই আগামীতে এ জাতের ধানেই তাদের আস্থা। চলতি মৌসুমে প্রায় সকল জাতের ধানেই ফলন হয়েছে। কোন জাতই ব্রি ধান ৮৭’র ধারে কাছে নেই। দেশের নতুন এ জাতের ধানের ভালো ফলন পেয়ে কৃষকদের মনে দিচ্ছে খুশির দোলা। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসসূত্রে জানাগেছে,এ বছর আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৫’শ ৭০ হেক্টোর। কিন্তু চাষ হয়েছে ১৮ হাজার ৪’শ হেক্টোর।

এরমধ্যে নতুন ধান হিসেবে বাংলাদেশ ধান গভেষনা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত ব্রিধান ৮৭’র এ বছর চাষ হয়েছে মাত্র ২৫ হেক্টোর। যে জাতের ধানের বীজ ২০১৮ সালে উদ্ভাবিত। যা সরকারী প্রনোদনা হিসেবে কৃষকদেরকে বিনামূল্যে দেয়া হয়েছিল। কৃষি স¤প্রসারন অধিদপ্তরসূত্রে জানাগেছে, ব্রি-উদ্ভাবিত ৯২ টি জাতের মধ্যে ৬ টি হাইব্রিট। বাকি ৮৬ টি ইনব্রিট। আমন মৌসুমের জন্য ব্রি-ধান ৮৭ ইনব্রিট জাতের। ২০০৮ সালে উদ্ভাবিত ব্রিধান ৪৯ এর চেয়ে কমপক্ষে ৭ দিন কৃষক সংগ্রহ করতে পারে। হেক্টর প্রতি ফলন সাড়ে ৬ টনেরও বেশি। অর্থাৎ অন্য জাতের ধানের চেয়ে ৮৭’র ফলন হেক্টর প্রতি এক টনেরও বেশি। এ জাতের ধানের দানা লম্বা ও চিকন। ভাত সর্বাপেক্ষা ঝুরঝুরে হয়। সরেজমিনে ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের ঈশ্বরবা গ্রামের কৃষক জায়নাল আবেদিনের ক্ষেতে গেলে দেখা যায়, ব্রিধান ৮৭ চাষ করা হয়েছে।

ক্ষেতের ধানগুলো পেকে গেছে। কিন্তু কান্ড ও পাতাগুলো সুবুজ দেখা যাচ্ছে। তবে পাকা ধানের শীষ গুলো ধানের ভারে নুইয়ে পড়ছে। কৃষক জয়নাল জানান,মাঠে এ বছর তার ৭ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ েেকরিছন। এরমধ্যে কিছু ধান ইতোমধ্যে ঘরে তুলেছেন। প্রায় এক বিঘা জমিতে নতুন জাতের ব্রিদান -৮৭ দুই একদিনের মধ্যে কাটবেন। তিনি বলেন, অন্যক্ষেতে যেমন ধান হয়েছে তার চেয়ে অনেক ভালো দেখা যাচ্ছে এ ক্ষেতের ধান। এছাড়াও রোগ বালাইয়ের লেশমাত্র নেই। সারসহ অন্যান্য ব্যয়ও কম হয়েছে। ধানের গাছগুলো হয়েছে অনেক লম্বা। ফলে বর্তমান চড়া দামে গো-খাদ্য খড়ও বিক্রি করতে পারবেন। সবমিলিয়ে তার ক্ষেতের ধান দেখে গ্রামের অন্য কৃষকেরাও উৎসাহিত হচ্ছেন। এক কথায় আগামী মৌসুমে তার সবটুকু জমিতেই এ জাতের ধানের চাষ করবেন। আর বীজের জন্য অন্য কৃষকেরা তার কাছে বলে রেখেছেন।

তিনি আরও বলেন, নিঃসন্দেহে এ জাতের ধান অধিক ফলনশীল ও কৃষকবান্ধব। কালীগঞ্জ উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তা মতিয়ার রহমান জানান, নতুন জাতের ধান হিসেবে তিনি কৃষক জয়নাল আবেদীনকে সব সময় পরামর্শ দিয়েছেন। মাঠ পর্যায়ের এই কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এ ধানের ক্ষেতে যারা গেছেন তারা দেখেছেন কি পরিমান ফলন হয়েছে। কৃষকেরা আগামীতে এ ধানের ওপর খুবই আগ্রহী। কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি স¤প্রসারন কর্মকর্তা হুমায়ন কবির জানান, এ উপজেলার ঈশ্বরবা গ্রামের কৃষক জয়নাল আবেদিন সহ বেশ কিছু কৃষক এ বছর নতুন জাতের ব্রি ধান ৮৭’র চাষ করে ব্যাপক ফলন পেয়েছেন। মাত্র একা নয় এ উপজেলাতে মোট ১’শ ৭৫ হেক্টোর জমিতে ব্রিধান ৭৫’র চাষ করা হয়েছে।

এ ধানে উৎপাদন ব্যয় অনেক কম। অপেক্ষাকৃত কম দিনে সংগ্রহ করা যায়। ফলনও বেশি। তাই কৃষকদের দৃষ্টি এখন বিধান ৮৭’র দিকে। কৃষি অফিসের মাঠকর্মিসহ কৃষকেরা সরাসরি এসেই এ ধানের ভালো ফলনের গল্প শোনাচ্ছেন। তিনি নিজেও কয়েকটি ক্ষেতে ধান দেখে প্রমান পেয়েছেন। বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনস্টিটিউটের মহা-পরিচালক মোঃ শাহাজান কবির জানান, স¤প্রতি দেশে যে পরিমান উচ্চ মানের ফলনের ধান চাষ হচ্ছে সেখানে ব্রি ধান ৮৭ শীর্ষস্থান দখল করেছে।

এ ধানের শুধু ফলনই ভালো তা নয়, মুল্যবান খড় ( বিছালী) লম্বা হয়। যে কারণে কৃষকেরা গোখাদ্যের চাহিদা মেটাতে পারেন। তিনি আরও বলেন, এজাতের ধান উদ্ভাবন করে বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত ব্রি ধান ৮৭ মাত্র ২ বছর আগে মাঠ পর্যায়ে ছাড়া হয়েছে। এ ধানের ফলন অনেক ভালো এমন ফলাফল সারাদেশ ব্যাপি কৃষক পর্যায়ের। দেশের উচ্চ পর্যায়ের এই ধান গবেষক আরও জানান, ব্রিধান-৮৭’র মুল বৈশিষ্ঠ হলো কান্ড অনেক মোটা ও শক্ত হওয়ায় বৃষ্টি বা বাতাসে জমিতে ঢলে পড়ে নষ্ট হয় না। পেকে গেলেও ডিগপাতা খাড়া ও সবুজ থাকায় সালোক সংশ্লেষন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে। ফলে শিষের গোড়ার ধানের দানাটিও পুষ্ট হয়। এ ধানের অ্যামাইলোজ ২৭ %। কৃষক পর্যায়ে ব্যাপক ফলনের সাড়ার জন্য আগামী আমন মৌসুমে কৃষকদের বীজ প্রাপ্তির বিষয়টিও সরকারী ভাবে ভাবা হচ্ছে। বর্তমান মাঠ পর্যায়ে যত জাতের ধান আছে ফলনের দিক দিয়ে ব্রিধান ৮৭’র অবস্থান শীর্ষৈ এতে কোন সন্দেহ নেই বলে যোগ করেন দেশের প্রখ্যাত এই কৃষিবিদ।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে লগইন করুন

লগইন করুন

সর্বশেষ সংবাদ

ইসরায়েলে শক্তিশালী নতুন সরকার গড়ার ঘোষণা নেতানিয়াহুর

৩ ঘন্টা আগে
ইসরায়েলে শক্তিশালী নতুন সরকার গড়ার ঘোষণা নেতানিয়াহুর

চাওয়া পাওয়া — আলেয়া মান্নান

৩ ঘন্টা আগে
চাওয়া পাওয়া — আলেয়া মান্নান

বাংলাদেশে একাধিক ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ

১০ ঘন্টা আগে
বাংলাদেশে একাধিক ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ

বাবার সাথে হাটযাত্রা

১১ ঘন্টা আগে
বাবার সাথে হাটযাত্রা

পদ্মার চরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কাকন ও কালু বাহিনীর গোলাগুলি, শতাধিক ফায়ারের দাবি

১১ ঘন্টা আগে
পদ্মার চরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কাকন ও কালু বাহিনীর গোলাগুলি, শতাধিক ফায়ারের দাবি

আলমডাঙ্গায় এসএসসি টেস্টের ইংরেজি প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে কোচিং পরিচালকসহ আটক ২ : মুচলেকায় মুক্তি

১২ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় এসএসসি টেস্টের ইংরেজি প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে কোচিং পরিচালকসহ আটক ২ : মুচলেকায় মুক্তি

রাসেল মিয়া

১২ ঘন্টা আগে
রাসেল মিয়া

দর্শনা কেরু ট্রেনিং কমপ্লেক্সে সিডিএ ও সিআইসিদের মতবিনিময় ও প্রশিক্ষণ সভা

১৩ ঘন্টা আগে
দর্শনা কেরু ট্রেনিং কমপ্লেক্সে সিডিএ ও সিআইসিদের মতবিনিময় ও প্রশিক্ষণ সভা

মেহেরপুরে মাছবাহী আলগামন উল্টে দুজন আহত, হাসপাতালে ভর্তি

১৩ ঘন্টা আগে
মেহেরপুরে মাছবাহী আলগামন উল্টে দুজন আহত, হাসপাতালে ভর্তি

আলমডাঙ্গায় যুবদল নেতা আব্দুল হাই বল্টুর ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

১৩ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় যুবদল নেতা আব্দুল হাই বল্টুর ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

নোটিফিকেশন চালু করুন

সর্বশেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো সবার আগে পেতে নোটিফিকেশন চালু করে রাখুন।