লগইন
কালীগঞ্জে রাতের আঁধারে একের পর এক নৃশংস ভাবে নষ্ট করছে ধরন্ত-ফলন্ত ক্ষেত
বড় করে দেখুন
সাম্প্রতিকী ডেক্স আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ১২:০০ রাত ১৯৯ বার পঠিত
ফন্ট সাইজ:

সংবাদ শুনুন

প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন

ঝিনাইদহ
কালীগঞ্জে রাতের আঁধারে একের পর এক নৃশংস ভাবে নষ্ট করছে ধরন্ত-ফলন্ত ক্ষেত

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহঃ ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে সম্প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে ফসলী ক্ষেত বিনষ্টের ঘটনা। দূবৃর্ত্তরা রাতের আঁধারে একের পর এক নৃশংস ভাবে ধরন্ত-ফলন্ত ক্ষেত নষ্ট করছে। কৃষকেরা ধারদেনার মাধ্যমে ফসল চাষ করার পর ভরা ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় তারা একেবারে পথে বসে যাচ্ছেন। রাতের আঁধারে কে বা কারা লোক চক্ষুর আড়ালে এমন জঘন্যতম কাজটি করছে। যে কারণে ক্ষতিগ্রস্থরা নির্দিষ্টভাবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের করতে পারছেন না।

ফলে এমন ক্ষতিকর কাজ করেও মনুষ্যত্বহীন দুর্বৃত্তরা থাকছে ধরা ছোয়ার বাইরে। এদিকে প্রায়ই ক্ষেত নষ্টের ঘটনা ঘটায় সবজি ক্ষেতের মালিকেরা রয়েছেন অচেনা এক আতঙ্কে। প্রশাসন বলছে, ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাজনৈতিক, গোষ্টিগত বিরোধের জেরে এমনটি হয়ে থাকে। তবে এটাকে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির পায়তারা হতে পারে এমনটিও উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসন। ভুক্তভোগী কৃষকদেরসূত্রে জানাগেছে, বিগত কয়েক মাস ধরে শত্রুতা করে মানুষের অগোচরে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকের সবজি ক্ষেত কেটে সাবাড় করছে। পুকুরে কখনও কীটনাশক দিয়ে আবার গ্যাস বড়ি ব্যবহারের মাধ্যমে মাছ নিধন করছে।

কৃষকেরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল উৎপাদন করলেও সমাজের গুটি কয়েক দুষ্ট প্রকৃতির মানুষ দ্বারা স্বপ্ন ভাঙছে তাদের। তারা বলছেন, শত্রুতার মাধ্যমে কৃষকের ভরা ক্ষেত নষ্ট হচ্ছে। এটা মনুষ্যত্বহীনতা ছাড়া আর কিছুই নয়। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, গত ২০ জুন বাবরা গ্রামের আলী বকসের ২ ছেলে কৃষক টিপু সুলতান ও শহিদুল ইসলামের দুই ভায়ের ১৫ কাঠা জমির কাঁদিওয়ালা কলাগাছ কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা।

একইভাবে ৩ জুলাই মল্লিকপুর গ্রামের মল্লিক মন্ডলের ছেলে সবজি চাষী মাজেদুল মন্ডলের বেথুলী মাঠের আড়াই বিঘা জমির ৩ শতাধিক ধরন্ত পেপে গাছ কেটে দেয়। এর ঠিক ৪ দিন পরে ৭ জুলাই পৌর এলাকার ফয়লা গ্রামের তাকের হোসেনের ছেলে আবু সাঈদের ১৫ শতক জমির ধরন্ত করলা ক্ষেত কেটে দেয়। ১৩ জুলাই বারোবাজারের ঘোপ গ্রামের মাহতাব মুন্সির ছেলে আবদুর রশিদের দেড় বিঘা জমির সিমগাছে কীটনাশক স্প্রে করে পুড়িয়ে দেয়। ৯ আগস্ট তিল্লা গ্রামের সতীশ বিশ্বাসের ছেলে কৃষক বিকাশ বিশ্বাসের ১৫ শতক ধরন্ত করলা ক্ষেত কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা।

২৮ আগস্ট সাইটবাড়িয়া গ্রামের মাছচাষী ইউপি সদস্য কবিরুল ইসলাম নান্নুর পুকুরে গ্যাস বড়ি দিয়ে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার মাছ নিধন করে। এর ৩ দিন পর ৩১ আগস্ট একই ইউনিয়নের রাড়িপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যের ৪৮ শতক মুল্যবান দার্জিলিং লেবু ও থাই পেয়ারার কলম কেটে দেয় দূর্বৃত্তরা। এরআগে ২৫ আগস্ট বলরামপুর গ্রামের মাছচাষী মমরেজ আলীর পুকুরে একইভাবে বিষ দিয়ে প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকার মাছ মেরে দেয়। ৬ সেপ্টেম্বর সাইটবাড়িয়া গ্রামের আনছার আলী মোল্যার ছেলে হতদরিদ্র কৃষক বাপ্পি মোল্যার ৯ শতক ধরন্ত বেগুন ক্ষেত কেটে দিয়ে সর্বশান্ত করে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর পৌর এলাকার খয়েরতলা গ্রামের রফি বিশ্বাসের পুকুরে গ্যাস বড়ি প্রয়োগ করে লক্ষাধিক টাকার মাছ নিধন করে দুর্বৃত্তরা। সর্বশেষ ২২ সেপ্টেম্বর পৌর এলাকার চাপালী গ্রামে মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে আতিয়ার রহমানের প্রায় ১ বিঘা জমির লাউ গাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

ক্ষতিগ্রস্থ মাছ চাষী সাইটবাড়িয়া গ্রামের কবিরুল ইসলাম নান্নু জানান, ধারদেনার মাধ্যমে মাছ চাষ করেছিলাম। পুকুরের মাছও বেশ বড় হয়েছিল। কিন্তু রাতের আঁধারে কে বা কারা পুকুরে গ্যাস বড়ি দিয়ে লক্ষাধিক টাকার মাছ মেরে দিয়েছে। সকালে পুকুর থেকে মরা মাছ তোলার সময় গ্যাস বড়ি পেয়েছিলাম। তিনি বলেন, আমি কারও শত্রু হতে পারি। অথবা আমার কোন অপরাধ থাকতে পারে কিন্তু পুকুরের মাছগুলো কি অপরাধ করেছে ?। তাছাড়াও একজনের ক্ষতি করে তাদেরই বা কি লাভ ?। এখন কোন ভাবেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারছিনা। নান্নু আরও জানান, রাতের আঁধারে কে বা কারা মাছ নিধন করেছে। আমি কাউকে দেখিনি ফলে শুধু থানায় একটি সাধারন ডাইয়েরী করেছি। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক আবদুর রশিদ জানান, আমি একজন সবজি চাষী। মাঠে অন্য ফসলের সাথে দেড় বিঘা জমিতে সিমের চাষ করেছিলাম।

সতেজ গাছগুলো বানে উঠে লতিয়ে ফুল ধরা শুরু হয়েছিল। কিছুদিন পরেই সিম তোলা যেতো। কিন্তু শত্রুতা করে কে বা কারা রাতের আঁধারে গাছ বিনাশকরা কীটনাশক স্প্রে করে আমার ক্ষেতের সব সিমগাছ পুড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, আমার জানামতে আমি কারও ক্ষতি করিনি। সারাদিন চাষকাজে ব্যস্ত থাকি। সে কারণে মনে করি আমার কোন শত্রু নেই। ক্ষেত নষ্ট করার পর এলাকাবাসীর সাথে আমার নিজেকেও হতবাক করেছে। আমরা খেটে খাওয়া সাধারন মানুষ। যে কারণে ঝামেলা এড়াতে আমি থানা পুলিশ করিনি।

সাইটবাড়িয়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ আরেক কৃষক বাপ্পি মোল্যা জানান, মাঠের ৯ শতক জমিই আমার একমাত্র সম্বল। সারাবছর পরের ক্ষেতে কামলার কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরে বিকালে নিজের ওই জমিটাতে বেগুন লাগিয়ে প্রতিনিয়ত পরিশ্রম করি। ক্ষেতের বেগুন গাছগুলোতে বেগুন ধরা শুরু হয়েছিল। কিন্তু আমার ধরন্ত বেগুন ক্ষেত ধারালো কিছু দিয়ে মাটি সমান করে কেটে সাবাড় করে দিয়েছে। না দেখে অনুমান নির্ভর হয়ে কাউকে দোষারোপও করতে পারছিনা। ক্ষেত নষ্ট হওয়ার ফলে আমি আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। যে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আমার বেশ সময় পার করতে হবে।

তিনি বলেন, যারা কৃষকের ভরাক্ষেত নষ্ঠ করতে পারে সমাজের দুষ্টু প্রকৃতির এ মানুষগুলো সব ধরনের অপরাধমুলক কাজ করতে পারে। এমন জঘন্য কাজ করা শুধুমাত্র জঘন্য মানসিকতার মানুষদের পক্ষেই সম্ভব। এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার ওসি মুহাঃ মাহাফুজুর রহমান মিয়া জানান, কৃষকের ভরা ক্ষেত কেটে দেয়ার মত ক্ষতি পুশিয়ে উঠার নয়। সম্প্রতি এমন ঘটনার কথা শুনছি। কিন্তু দুষ্টু প্রকৃতির এ মানুষগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থরা সন্দেহ করলেও তা অনুমান নির্ভর হওয়ায় কেউ অভিযোগ দিতে চাচ্ছেন না। বিগত ৩/৪ মাসে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ফসলহানী ঘটলেও মাত্র ৩ জন থানায় সাধারন ডাইয়েরী করেছেন। তারাও বলতে পারছেন না কারা এমন জঘন্য কাজ করছে। ফলে এক ধরনের জটিলতা থেকেই যাচ্ছে। তারপরও পুলিশ সামাজিক ও গোষ্টিগত বিরোধ, সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক কলহের জের ধরে এটা হতে পারে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারনা করছে। তবে এটা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য কোন বিশেষ মহল করছে কিনা সেটাও উড়িয়ে না দিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম আশরাফ জানান, কৃষকদের পরিশ্রমের ফসল যারা রাতের আঁধারে বিনষ্ট করছে তারা মনুষ্যত্বহীন পশুর মত। ভরাক্ষেত নষ্ট হওয়ায় প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা পথে বসে যাচ্ছেন। যে বিরোধের জের ধরেই হোক না কেন কৃষকের ক্ষতি কোনভাবেই কাম্য নয়। স্থানীয় সাংসদ আনোয়ারুল আজিম আনার বলেন, একজন কৃষকের ভরা ক্ষেত নষ্ট হলে তার পাজর ভেঙে যায়। যারা ক্ষেত নষ্ট করছে তাদের কোন লাভ হচ্ছে না। তবে যাদের ক্ষেত নষ্ট হচ্ছে তারা নিঃস্ব হচ্ছে। রাতের আঁধারে কৃষকের ভরাক্ষেত নষ্ট করাটা এক ধরনের বর্বরতা,নৃশংসতা, যা কোন মানুষের পক্ষেই মেনে নেয়া সম্ভব নয়। সম্প্রতি বিষয়টি সকলকে ভাবিয়ে তুলেছে। কারা এমন অমানবিক কাজ করছে তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান এই সাংসদ

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে লগইন করুন

লগইন করুন

সর্বশেষ সংবাদ

তওবা করলেও যেসব বিশেষ পরিস্থিতিতে মিলবে না আল্লাহর ক্ষমা

৫ ঘন্টা আগে
তওবা করলেও যেসব বিশেষ পরিস্থিতিতে মিলবে না আল্লাহর ক্ষমা

লাখো মানুষের প্রতিবাদ

৫ ঘন্টা আগে
লাখো মানুষের প্রতিবাদ

মুন্সীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ নিহত, ১৬ আহত; নিহতদের মধ্যে ২ জন দামুড়হুদার

৯ ঘন্টা আগে
মুন্সীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ নিহত, ১৬ আহত; নিহতদের মধ্যে ২ জন দামুড়হুদার

মেহেরপুরে জেলা বিএনপির উদ্যোগে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

৯ ঘন্টা আগে
মেহেরপুরে জেলা বিএনপির উদ্যোগে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

১৪৪ ফ্লাইট ব্যাহত, চরম ভোগান্তিতে ২২ হাজারের বেশি যাত্রী

১০ ঘন্টা আগে
১৪৪ ফ্লাইট ব্যাহত, চরম ভোগান্তিতে ২২ হাজারের বেশি যাত্রী

কুষ্টিয়ার খোকসায় অপহরণের ৭ ঘণ্টা পর ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করল পুলিশ

১০ ঘন্টা আগে
কুষ্টিয়ার খোকসায় অপহরণের ৭ ঘণ্টা পর ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করল পুলিশ

জাতীয় নাগরিক পার্টির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন ঝিনাইদহের শাহরিন ইরা

১৩ ঘন্টা আগে
জাতীয় নাগরিক পার্টির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন ঝিনাইদহের শাহরিন ইরা

১০ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে মাঠে গড়াচ্ছে ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ’, জেনে নিন চূড়ান্ত সূচি

১৩ ঘন্টা আগে
১০ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে মাঠে গড়াচ্ছে ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ’, জেনে নিন চূড়ান্ত সূচি

যুবসমাজকে রক্ষায় সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান

১৪ ঘন্টা আগে
যুবসমাজকে রক্ষায় সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান

আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে শক্তিশালী হচ্ছে এবিজি স্পোর্টস সিটি

১৪ ঘন্টা আগে
আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে শক্তিশালী হচ্ছে এবিজি স্পোর্টস সিটি

নোটিফিকেশন চালু করুন

সর্বশেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো সবার আগে পেতে নোটিফিকেশন চালু করে রাখুন।