সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
তওবা করলেও যেসব বিশেষ পরিস্থিতিতে মিলবে না আল্লাহর ক্ষমা
ইসলামী শরিয়তে তওবার গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষ হাজারও অপরাধ করার পর যদি অন্তরের অন্তস্তল থেকে তওবা করে, তবে মহান আল্লাহ তা ক্ষমা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে আল্লাহর ক্ষমা ও দয়ার বিশালতার অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে। তবে এমন কিছু সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি ও সময়ের কথা উল্লেখ রয়েছে, যখন অনুশোচনা করলেও ক্ষমার দরজা বন্ধ হয়ে যায় এবং তওবা আর গ্রহণযোগ্য হয় না।
১. চূড়ান্ত মৃত্যুযন্ত্রণা শুরু হলে
মানুষ যখন মৃত্যুর একেবারে মুখোমুখি হয় এবং আত্মা গলার কাছে পৌঁছে যায়, তখন পরকালের অদৃশ্য জগত তার দৃষ্টিগোচর হতে থাকে। এই সংকটময় মুহূর্তে তওবা করলেও তা আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। সুরা নিসার ১৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তাদের জন্য তওবা নয়, যারা আজীবন পাপকাজে লিপ্ত থাকে এবং অবশেষে মৃত্যু উপস্থিত হলে বলে, এখন আমি তওবা করছি।’ মহানবী (সা.) স্পষ্ট করেছেন, ‘বান্দার মৃত্যুযন্ত্রণা শুরু হওয়ার বা প্রাণবায়ু কণ্ঠনালিতে আসার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন।’ (সুনানে তিরমিজি: ৩৫৩৭)। এর বড় দৃষ্টান্ত ফেরাউন, যে লোহিত সাগরে ডুবন্ত অবস্থায় ইমান আনার কথা বললেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।
২. পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় ঘটলে
কেয়ামতের আলামতগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পশ্চিম আকাশে সূর্য ওঠা। যেদিন এই অলৌকিক ঘটনা ঘটবে, সেদিন থেকে পৃথিবীর মানবজাতির জন্য তওবার পথ চিরতরে রুদ্ধ হয়ে যাবে। এ প্রসঙ্গে কোরআনে এসেছে সুরা আনআমের ১৫৮ নম্বর আয়াত। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘পশ্চিম আকাশে সূর্য ওঠার আগেই যে ব্যক্তি তওবা করবে, আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন।’ (সহিহ মুসলিম: ২৭০৩)।
৩. অন্যের অধিকার বা বান্দার হক নষ্ট করলে
আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কিত অপরাধগুলো (যেমন—নামাজ বা রোজা কাজা হওয়া) আল্লাহ চাইলে নিজ গুণে ক্ষমা করতে পারেন। কিন্তু কোনো মানুষের অধিকার খর্ব করলে বা কাউকে কষ্ট দিলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ক্ষমা না করা পর্যন্ত আল্লাহ তা মাফ করেন না। বুখারি শরীফের ২৪৪৯ নম্বর হাদিসে মহানবী (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, কারও সম্মানহানি বা জুলুমের শিকার হওয়া ভাইয়ের কাছ থেকে যেন মৃত্যুর আগেই ক্ষমা চেয়ে নেওয়া হয়। ইমাম নববি (র.) তাঁর ‘রিয়াদুস সালিহিন’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, বান্দার হক নষ্ট করার অপরাধে শুধু চোখের পানি ফেললেই ক্ষমা পাওয়া যায় না; এর জন্য পাওনাদারের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া অথবা তার নিঃশর্ত ক্ষমা পাওয়া আবশ্যক।
৪. শিরক বা কুফরি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে
পাপের মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা। জীবদ্দশায় শিরক থেকে খাটি মনে তওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করেন, তবে কেউ যদি শিরক বা কুফরি অনড় অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তবে পরকালে তার জন্য ক্ষমার দরজা বন্ধ হয়ে যায়। সুরা নিসার ৪৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না; এটি ছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।’
প্রকৃত তওবা মানে কেবল মুখে অনুশোচনা প্রকাশ নয়, বরং পাপের পথ ছেড়ে আল্লাহর পথে ফিরে আসার এক দৃঢ় অঙ্গীকার। তাই মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়ার আগেই সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় আল্লাহর দরবারে আত্মসমর্পণ করা একজন সার্থক মুমিনের দায়িত্ব।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
মহান আল্লাহর দরবারে ইবাদত কবুলের অপরিহার্য ৪টি শর্ত
২ দিন আগে
মহাষষ্ঠীর রাতেও প্রতিমা গড়ছেন শিল্পীরা, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে নির্ঘুম রজনী
১ সপ্তাহ আগে
রোম সম্রাটের দরবারে সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে হুজাফার অগ্নিপরীক্ষা
১ সপ্তাহ আগে